বিশ্বের অন্যতম সম্মানজনক মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস প্রকাশ করেছে ‘ওয়ার্ল্ডস টপ পারফর্মিং ব্যাংকস ২০২৬’-এর আন্তর্জাতিক তালিকা। বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিস্টার সহায়তায় তৈরি করা এই তালিকায় স্থান পেয়েছে ৮৯টি দেশের শীর্ষ ৫০০টি ব্যাংক। আন্তর্জাতিক এই বৈশ্বিক তালিকায় একমাত্র বাংলাদেশী ব্যাংক হিসেবে নাম লিখিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।
বস্তুনিষ্ঠ আর্থিক তথ্য, শীর্ষস্থানীয় তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি ক্যাপিটালের ডাটা ও ব্যাংকগুলোর নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
যে ৪ সূচকে মূল্যায়িত হলো সেরা ব্যাংকগুলো
একটি ব্যাংকের শক্তি ও কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য ফোর্বস মূল ৪টি আর্থিক সূচককে মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করেছে:
- মুনাফাযোগ্যতা (Profitability): ব্যাংকের আয় ও লাভজনকতার সার্বিক চিত্র।
- প্রবৃদ্ধি ও আয়ের গুণমান (Growth & Quality of Income): ধারাবাহিকভাবে ব্যবসা বৃদ্ধির সক্ষমতা।
- মূলধন ও তহবিলের সক্ষমতা (Capital & Funding Capacity): আর্থিক ঝুঁকি সামলে ওঠার নিজস্ব মূলধন শক্তি।
- সম্পদের গুণমান ও দক্ষতা (Asset Quality & Efficiency): ব্যাংকের সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও খেলাপি ঋণের নিয়ন্ত্রণ।
টিয়ার-৫ শ্রেণিতে স্থান পেল ব্র্যাক ব্যাংক
সম্পদের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ফোর্বস পুরো তালিকাটিকে ৬টি আলাদা ‘টিয়ার’ বা শ্রেণিতে ভাগ করে। ১ হাজার থেকে ২ হাজার কোটি ডলার সম্পদের ব্যাংকগুলোকে রাখা হয়েছে ‘টিয়ার-৫’ বা ‘লোয়ার মিড-সাইজ ব্যাংক’ শ্রেণিতে।
বাংলাদেশের ব্র্যাক ব্যাংক আন্তর্জাতিকভাবে এই টিয়ার-৫ শ্রেণিতে জায়গা করে নিয়েছে। ৫০০টি ব্যাংকের এই সুবিশাল বৈশ্বিক তালিকায় ব্র্যাক ব্যাংকের বর্তমান অবস্থান ৭৩তম।
ব্র্যাক ব্যাংকের মূল পরিচিতি এক নজরে
- প্রতিষ্ঠা বছর: ১৯৯৯ সাল
- বর্তমান সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক: তারেক রেফাত উল্লাহ খান
- মোট কর্মী সংখ্যা: ৭,৪৮৩ জন
- কাজের মূল ভিত্তি: সুশাসন, সময়োপযোগী নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতি অনুসরণ এবং টেকসই আর্থিক প্রবৃদ্ধি।
সাফল্যের পেছনের কারণ ও প্রতিক্রিয়া
ব্র্যাক ব্যাংকের এই গৌরবময় অর্জন প্রসঙ্গে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান জানান, এটি কেবল ব্র্যাক ব্যাংকের নয়, পুরো বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্যই এক বিরাট গৌরব।
তিনি বলেন, পর্ষদ, শেয়ারহোল্ডার, আমানতকারী ও সহকর্মীদের যৌথ পরিশ্রম এবং সুশাসন মেনে চলার ফলেই এই ধারাবাহিক টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। সুসংহত ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক নীতি অনুসরণ করে কাজ করায় বৈশ্বিক মঞ্চে দেশের সুনাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে দেশীয় ব্যাংকের এমন সম্মানজনক অবস্থান প্রমাণ করে যে, নিয়ম ও সততা বজায় রেখে ব্যাংকিং পরিচালনা করলে যেকোনো বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান পোক্ত করতে পারে।




