Monday, September 21, 2026

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র: সুবিধা, মুনাফার হার ও কেনার নিয়ম

বহুল পঠিত

সঞ্চয়পত্র হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিচালিত একটি শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ বিনিয়োগ প্রকল্প। যেখানে বিনিয়োগকারী নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে নির্ধারিত সময় পর পর আকর্ষণীয় মুনাফা অর্জন করতে পারেন এবং মেয়াদ শেষে মূল বিনিয়োগ করা টাকা উত্তোলন করতে পারেন

দেশে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় হলো পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র। ১৯৭৭ সালে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর প্রথম এই সঞ্চয়পত্রটি বাজারে চালু করে। নতুন নির্ধারিত হারে পাঁচ বছর মেয়াদি এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে বর্তমানে বার্ষিক মুনাফার হার দাঁড়ায় ১০.৪৪ শতাংশ

কারা এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন?

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ দিতে এই স্কিমটি ডিজাইন করা হয়েছে। মূলত যাদের জন্য এই সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ রয়েছে:

  • সাধারণ নাগরিক: সব শ্রেণি ও পেশার প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিকরা এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন।
  • স্বীকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ড: আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ (অংশ-২) এর বিধি ৪৯-এর উপ-বিধি (২) এ সংজ্ঞায়িত স্বীকৃত ভবিষ্যৎ তহবিল।
  • আইনগত প্রভিডেন্ট ফান্ড: ভবিষ্যৎ তহবিল আইন, ১৯২৫ (১৯২৫ এর ১৯ নং) অনুযায়ী পরিচালিত প্রাতিষ্ঠানিক ভবিষ্যৎ তহবিলসমূহ নির্ধারিত শর্তে এতে অংশ নিতে পারবে।

কীভাবে ও কোথা থেকে সঞ্চয়পত্র কিনবেন?

বাংলাদেশি নাগরিকরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে সহজেই এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সঞ্চয়পত্র কেনার সময় আবেদনপত্রের সাথে সাধারণ কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হয়:

  • ক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।
  • গ্রাহকের একটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাব (Bank Account) সংক্রান্ত তথ্য।
  • প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক নথিপত্র ও ছবি।

সঞ্চয়পত্র কেনার স্থান

আপনি নিচের যেকোনো অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন:

  • জেলা সঞ্চয় অফিস
  • জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত শাখা
  • যেকোনো তফসিলি ব্যাংক (Scheduled Banks)
  • ডাকঘর (Post Office)

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মূল সুবিধাগুলো

অন্যান্য আর্থিক বিনিয়োগের তুলনায় এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীরা বেশ কিছু বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন:

  • নিরাপদ বিনিয়োগ: এটি সম্পূর্ণ সরকারি বিনিয়োগ হওয়ায় কোনো আর্থিক ঝুঁকি নেই, মূলধন শতভাগ নিরাপদ থাকে।
  • আকর্ষণীয় রিটার্ন: পাঁচ বছর পর ১০.৪৪% নির্ধারিত হারে নিশ্চিন্ত মুনাফা পাওয়া যায়।
  • দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়: ভবিষ্যতে একটি বড় অঙ্কের তহবিল বা ক্যাপিটাল গড়ে তোলার জন্য এটি দারুণ সহায়।
  • বিভিন্ন মূল্যমান: ক্রেতার সুবিধার্থে ছোট ও বড় বিভিন্ন মূল্যমানের সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
  • নমিনি সুবিধা ও মৃত্যুকালীন নগদায়ন: এই সঞ্চয়পত্রে নমিনি নিয়োগ করা যায়। কোনো কারণে সঞ্চয়পত্রের ক্রেতার মৃত্যু হলে, নমিনি সাথে সাথেই অথবা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সঞ্চয়পত্রটি নগদায়ন করতে বা টাকা তুলে নিতে পারেন।

আরো পড়ুন

বিশ্বসেরা ৫০০ ব্যাংকের তালিকায় বাংলাদেশের ব্র্যাক ব্যাংক: দেশের ব্যাংকিং খাতের নতুন ইতিহাস

বিশ্বের অন্যতম সম্মানজনক মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস প্রকাশ করেছে ‘ওয়ার্ল্ডস টপ পারফর্মিং ব্যাংকস ২০২৬’-এর আন্তর্জাতিক তালিকা। বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিস্টার সহায়তায় তৈরি করা এই তালিকায় স্থান...

জরুরি সেবার বিল দিতে অ্যাপে পাওয়া যাবে ১০ হাজার টাকা ঋণ: জেনে নিন পাওয়ার নিয়ম

বর্তমান ডিজিটাল যুগে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ করতে ব্যাংকিং খাতে যুক্ত হচ্ছে নিত্যনতুন প্রযুক্তি ও সুযোগ-সুবিধা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বড় চ্যালেঞ্জ হলো হঠাৎ করে...

তরুণ উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক মিলবে যেভাবে

দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে...
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ