বর্তমান সময়টা তথ্যা প্রযুক্তির। আর এই প্রযুক্তির দুনিয়ায় সবচেয়ে আলোচিত নাম হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)। যারা নিজেদের সময়ের সাথে এগিয়ে রাখতে চান, তাদের জন্য এবার দুর্দান্ত এক সুযোগ নিয়ে এসেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে বিনামূল্যে এআই (AI) বিষয়ে বেসিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আপনি যদি নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে ফ্রিল্যান্সিং, চাকরি কিংবা ব্যবসায় ভালো কিছু করতে চান, তবে সরকারের এই উদ্যোগটি আপনার জীবন বদলে দেওয়ার মাধ্যম হতে পারে। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো এই প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আপনাকে কোনো টাকা দিতে হবে না, উল্টো সরকার আপনাকে যাতায়াত ভাতা ও খাবারের খরচ দেবে!
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এআই প্রশিক্ষণ ২০২৬-এর বিস্তারিত
সম্প্রতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দুই মাস মেয়াদি এই বেসিক এআই প্রশিক্ষণ কোর্সটি ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এই কোর্সটি পরিচালিত হবে।
দেশের আটটি বিভাগকে মোট চারটি প্যাকেজে ভাগ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে দেশের যেকোনো প্রান্তের যোগ্য প্রার্থীরা নিজ নিজ জেলা থেকে এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন।
বিনামূল্যে এআই কোর্স থেকে আপনি কী পাবেন?
কোর্সে অংশগ্রহণকারীরা শুধু যে বিনামূল্যে শিখতে পারবেন তা-ই নয়, সরকারিভাবে আরও বেশ কিছু সুবিধা দেওয়া হবে:
- কোনো কোর্স ফি নেই: দুই মাসের প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ ফ্রিতে দেওয়া হবে।
- দৈনিক যাতায়াত ভাতা: ক্লাস চলাকালে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।
- খাবারের ব্যবস্থা: প্রতিদিনের ক্লাসে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বিনামূল্যে খাবার বা স্ন্যাকসের ব্যবস্থা থাকবে।
- সরকারি সনদপত্র: কোর্স সফলভাবে শেষ করার পর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে একটি মানসম্মত সার্টিফিকেট বা সনদ দেওয়া হবে, যা আপনার বায়োডাটা অনেক শক্তিশালী করবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন: যোগ্যতা ও শর্তাবলি
যে কেউ চাইলেই এই কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন না। নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা থাকলে আপনি এই প্রশিক্ষণের জন্য মনোনীত হবেন। যোগ্যতাগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম এইচএসসি (HSC) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
- আইসিটি জ্ঞান: কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তি (ICT) বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা থাকতে হবে।
- নাগরিকত্ব: প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে (যুব ও নারী উভয়ই আবেদনযোগ্য)।
প্রার্থী বাছাইয়ে যারা অগ্রাধিকার পাবেন
আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে যোগ্যদের বেছে নিতে বাছাই পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে নিচের দক্ষতাগুলো থাকলে আপনি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন:
১. যাদের কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তিতে আগে থেকেই কিছু কাজের অভিজ্ঞতা আছে।
২. যাদের ইংরেজিতে সাধারণ কথাবার্তা ও পড়া-লেখায় ভালো দক্ষতা রয়েছে।
পরীক্ষার তারিখ, সময় সূচি ও আবেদন প্রক্রিয়া
প্রশিক্ষণে যোগ দিতে হলে আপনাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে সঠিক নিয়মে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন শেষে বাছাই পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ মনে রাখুন
- আবেদনের শেষ সময়: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রাত ১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত)।
- লিখিত পরীক্ষার তারিখ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
- মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষার তারিখ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
- চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
- কোর্স শুরুর তারিখ: ১ অক্টোবর ২০২৬।
- কোর্স শেষের তারিখ: ৩০ নভেম্বর ২০২৬।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: পরীক্ষার কেন্দ্র এবং নির্দিষ্ট সময় প্রার্থীকে এসএমএস (SMS)-এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। তাই আবেদন ফর্মে ব্যবহৃত নিজের সচল মোবাইল নম্বরটি সতর্কতার সাথে প্রদান করুন।
কীভাবে এই এআই প্রশিক্ষণ আপনার ক্যারিয়ার গঠনে সাহায্য করবে?
আজকের দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI না জানলে প্রযুক্তির বাজারে টিকে থাকা কঠিন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই কোর্সটিতে মূলত এআইয়ের প্রাথমিক ও বাস্তবভিত্তিক কাজগুলো শেখানো হবে।
- ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগ: গ্রাফিক্স ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং বা ডাটা এন্ট্রি যাই করুন না কেন, এআই ব্যবহার করে কম সময়ে দ্বিগুণ কাজ করা সম্ভব। অনলাইন মার্কেটপ্লেসে এখন এআই জানা কাজের খুব চাহিদা।
- চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকা: যেকোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা অফিসে এখন সাধারণ কম্পিউটার জ্ঞানের পাশাপাশি এআই টুলাসের ব্যবহার জানা কর্মীদের বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।
- নিজের ব্যবসা বৃদ্ধি: আপনি যদি উদ্যোক্তা হতে চান, তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোডাক্টের ডিজিটাল মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপনের ছবি/ভিডিও তৈরিতে এআই প্রযুক্তি আপনাকে অনেক খরচ বাঁচিয়ে দেবে।
তাই দেরি না করে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের আগেই নিজের আবেদন সম্পন্ন করুন এবং নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার দিকে এক ধাপ এগিয়ে যান।




