দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুরোগীদের সঠিক ও সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এখন থেকে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুরোগীর চিকিৎসার জন্য শয্যা (বেড) কিংবা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি থাকলে রোগীদের নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হবে। আর এই চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করবে সরকার নিজেই।
সম্প্রতি সচিবালয়ে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ সংক্রান্ত এক জরুরি মতবিনিময় সভা শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সরকারি খরচে বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসা
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গুরোগীদের ভোগান্তি কমাতে স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর একটি বিশেষ পাইলট প্রকল্প বা সমন্বিত উদ্যোগ চালু হতে যাচ্ছে।
যদি কোনো কারণে সরকারি হাসপাতালে রোগীদের শয্যাসংকট তৈরি হয় বা অন্য কোনো জরুরি চিকিৎসার সংকুলান না হয়, তবে সেই রোগীদের স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন রোগীর কোনো টাকা খরচ করতে হবে না; সম্পূর্ণ চিকিৎসা খরচ সরকার সরাসরি বহন করবে।
পর্যাপ্ত রয়েছে স্যালাইন ও পরীক্ষার কিট
হাসপাতালে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন ও শনাক্তকরণ পরীক্ষার কিট মজুত রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে কোনো সরকারি হাসপাতালে স্যালাইন বা পরীক্ষার কিটের কোনো ঘাটতি নেই এবং সংকট মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ডেঙ্গু চিকিৎসা জোরদারের নির্দেশ
অতীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ মূলত শহরকেন্দ্রিক থাকলেও এখন তা মফস্বল ও গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- রেড জোন বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজর: যেসব উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি অর্থাৎ যেগুলো ‘রেড মার্কিংকৃত’ হিসেবে চিহ্নিত, সেসব এলাকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- শয্যা বৃদ্ধি: কোনো উপজেলা হাসপাতালে যদি আগে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ৫টি বেড বরাদ্দ থাকত, তবে প্রয়োজন অনুযায়ী তা বাড়িয়ে ১০টি বা তার বেশি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- প্রান্তিক পর্যায়ে ওষুধ সরবরাহ: উপজেলার হাসপাতালগুলোতে যেন প্রয়োজনীয় সংখ্যক টেস্ট কিট, স্যালাইন এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধের কোনো ঘাটতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি
ডেঙ্গু মৌসুমে প্রতি বছরই দেশের বড় বড় সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। মেঝেতে বা বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হয় অনেক রোগীকে। অনেক সময় শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে চড়া খরচে বেসরকারি হাসপাতালে ছুটতে হয়।
সরকারের এই নতুন নীতির ফলে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো চিকিৎসা খরচের বিরাট অর্থনৈতিক চাপ থেকে রক্ষা পাবে। সেই সাথে প্রত্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করায় রাজধানী বা বড় শহরের হাসপাতালগুলোর ওপর থেকে বাড়তি রোগীর চাপ অনেকংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।




