Saturday, September 26, 2026

অনলাইনে ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে: বাংলাদেশে এফ-কমার্সের পুরো গাইড

বহুল পঠিত

বাংলাদেশে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করতে হলে চাহিদা আছে এমন একটি পণ্য বেছে নিন, একটি পেশাদার ফেসবুক পেজ খুলুন, ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন (DBID) নিবন্ধন করুন, বিকাশ, নগদ ও ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পেমেন্ট নিন, স্টেডফাস্ট, পাঠাও বা রেডএক্সের মতো কুরিয়ারের সঙ্গে চুক্তি করুন এবং প্রতি সপ্তাহে আস্থা তৈরি করে এমন কনটেন্ট পোস্ট করুন। এক প্যারাগ্রাফে এটাই এফ-কমার্স। এই গাইডে প্রতিটি ধাপ বাস্তব তথ্য ও সংখ্যা দিয়ে দেখানো হয়েছে, যাতে আপনি অনুমানের ওপর নয়, পরিকল্পনা নিয়ে শুরু করতে পারেন।

বাংলাদেশে এফ-কমার্স কেন এত ভালো কাজ করে?

আপনার ক্রেতারা প্রতিদিন ফেসবুক স্ক্রল করছেন। তাহলে আপনার দোকানটা সেখানেই খুলবেন না কেন?

সংখ্যাগুলোই পরিষ্কার উত্তর দেয়:

  • ৬.৪ কোটি মানুষের কাছে ফেসবুক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পৌঁছানো যায় (DataReportal, Digital 2026 Bangladesh রিপোর্ট, ২০২৫ সালের শেষের তথ্য)।
  • ৮.২৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৭% (DataReportal, ২০২৬)।
  • ৫.৬২ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর বা তার বেশি) মানুষের কাছে টিকটকে পৌঁছানো যায় (DataReportal, ২০২৬)।
  • ২৩.৯৩ কোটি নিবন্ধিত মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) অ্যাকাউন্ট ছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে (বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য, বাসস-এর প্রতিবেদন)।
  • ৩ লাখের বেশি এফ-কমার্স পেজ দেশে সক্রিয় ছিল, ঢাকা ট্রিবিউনের ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী।

অর্থাৎ ক্রেতা অনলাইনে আছেন, আর টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা আছে তাদের পকেটের মোবাইলেই। এফ-কমার্স শুরু করা মানে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত রাস্তায় দোকান খোলা, তবে দোকানভাড়া প্রায় শূন্য।

তবে লাখো পেজের ভিড়ে নতুন পেজকে ক্রেতার চোখে পড়াতে সময় লাগে। শূন্য লাইক আর শূন্য ভিউয়ের পেজ দেখলে ক্রেতা দ্বিধায় পড়েন। তাই অনেক নতুন উদ্যোক্তা শুরুতে Bangaldeshi SMM Panel Service থেকে পেজ লাইক, ফলোয়ার ও ভিডিও ভিউ নিয়ে পেজকে সক্রিয় দেখান। এটি শুরুর ধাক্কা হিসেবে কাজ করে, আর স্থায়ী বিক্রি আসে ভালো পণ্য ও নিয়মিত কনটেন্ট থেকে, যা নিচে ধাপে ধাপে দেখানো হয়েছে।

এফ-কমার্স কী?

এফ-কমার্স (ফেসবুক কমার্স) হলো ফেসবুক পেজ, গ্রুপ, মেসেঞ্জার ও ফেসবুক মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা বিক্রি করা। ক্রেতা নিউজফিডে পণ্য দেখেন, ইনবক্সে মেসেজ দেন, অর্ডার করেন এবং বাসায় বসে পণ্য হাতে পান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টাকা দেন ক্যাশ অন ডেলিভারিতে অথবা বিকাশ বা নগদে।

এফ-কমার্স নাকি ই-কমার্স: কোনটা দিয়ে শুরু করবেন?

বিষয়এফ-কমার্সই-কমার্স ওয়েবসাইট
শুরুর খরচখুব কম (ফেসবুক পেজ ফ্রি)বেশি (ডোমেইন, হোস্টিং, ডেভেলপমেন্ট)
চালু করতে সময়১ থেকে ৩ দিনকয়েক সপ্তাহ
ক্রেতার আস্থার উৎসরিভিউ, লাইভ ভিডিও, দ্রুত রিপ্লাইব্র্যান্ড, ওয়েবসাইট ডিজাইন, নীতিমালা
ভিজিটর আসে যেখান থেকেফেসবুক ফিড, গ্রুপ, বুস্টএসইও, বিজ্ঞাপন, সোশ্যাল মিডিয়া
প্ল্যাটফর্মের নিয়ন্ত্রণসীমিত (মেটার নিয়ম মানতে হয়)পুরো নিয়ন্ত্রণ আপনার
কাদের জন্য উপযুক্তনতুন বিক্রেতা, যারা পণ্য যাচাই করছেনপ্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড, যারা বড় হচ্ছে

পণ্য যাচাই আর ক্রেতাকে বোঝার জন্য এফ-কমার্স দিয়ে শুরু করুন। অর্ডার নিয়মিত হলে ওয়েবসাইট হবে আপনার পরের ধাপ, ফেসবুক পেজের বিকল্প নয়।

বাংলাদেশে এফ-কমার্স ব্যবসা শুরুর ধাপগুলো

ধাপ ১: এমন পণ্য বাছুন, যা মানুষ আগে থেকেই কেনে

আপনার লাভ, ডেলিভারি খরচ আর রিটার্নের হার, সবকিছুই নির্ভর করে পণ্যের ওপর। বাংলাদেশে এফ-কমার্সের জনপ্রিয় ক্যাটাগরির মধ্যে আছে পোশাক, কসমেটিকস, ঘরে তৈরি খাবার, গ্যাজেট ও এক্সেসরিজ, হস্তশিল্প এবং বই।

ভালো এফ-কমার্স পণ্যে সাধারণত এই গুণগুলো থাকে:

  • হালকা ও ছোট আকার: কুরিয়ার চার্জ কম লাগে, ফলে লাভের মার্জিন বাড়ে।
  • স্থানীয় বাজারে সহজে পাওয়া যায় না: ক্রেতার অনলাইনে অর্ডার করার একটা স্পষ্ট কারণ থাকে।
  • ছবি ও ভিডিওতে সহজে দেখানো যায়: ফেসবুক একটি ভিজ্যুয়াল প্ল্যাটফর্ম, তাই চোখে পড়ার মতো পণ্য দ্রুত বিক্রি হয়।
  • ভাঙার ঝুঁকি কম: নষ্ট পার্সেল আর অসন্তুষ্ট ক্রেতার সংখ্যা কমে।

টাকা খাটানোর আগে চাহিদা যাচাই করবেন কীভাবে?

প্রথম দিনেই ৫০০ পিস কিনে ফেলবেন না। আগে ফেসবুক গ্রুপ আর মার্কেটপ্লেসে পণ্যটি সার্চ করুন। দেখুন কয়টি পেজ এটি বিক্রি করছে, তাদের কমেন্ট সেকশন কতটা সক্রিয় আর ক্রেতারা কী নিয়ে অভিযোগ করছেন। ওই অভিযোগগুলোই আপনার সুযোগ। এরপর অল্প পরিমাণে পণ্য এনে পোস্ট করুন, সাড়া দেখুন, তারপর বড় পরিসরে যান।

ধাপ ২: আস্থা তৈরি করে এমন ফেসবুক পেজ বানান

ফেসবুক পেজই আপনার দোকানের সামনের অংশ। সাইনবোর্ড নেই, তাক ফাঁকা, এমন দোকানে কি আপনি ঢুকবেন? আপনার ক্রেতাও ঢুকবেন না।

পেজ সেটআপের জরুরি চেকলিস্ট

  • স্পষ্ট পেজের নাম ও ইউজারনেম: ক্রেতা সহজে আপনাকে খুঁজে পান এবং মনে রাখতে পারেন।
  • পেশাদার প্রোফাইল ছবি ও কভার: পরিষ্কার লোগো আর পণ্যের ছবিসহ কভার প্রথম দেখাতেই ভালো ধারণা তৈরি করে।
  • সম্পূর্ণ “About” সেকশন: ফোন নম্বর, ডেলিভারি এলাকা ও সময় লিখে দিলে ক্রেতা প্রশ্ন না করেই উত্তর পেয়ে যান।
  • মেটা কমার্স ম্যানেজারে প্রোডাক্ট ক্যাটালগ: সব পণ্যের ছবি, দাম ও বিবরণ এক জায়গায় সাজানো থাকে, আর এই ক্যাটালগ দিয়ে পণ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপনও চালানো যায়।
  • মেসেঞ্জারের অটোমেটেড রিপ্লাই ও সেভড রিপ্লাই: সাধারণ প্রশ্নের উত্তর মাঝরাতেও সঙ্গে সঙ্গে যায়, তাই আগ্রহী ক্রেতা হাতছাড়া হন না।
  • মেটা বিজনেস স্যুট: একটি ড্যাশবোর্ড থেকেই পোস্ট শিডিউল, মেসেজের রিপ্লাই আর ইনসাইট দেখা যায়, এতে প্রতি সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টা সময় বাঁচে।

প্রমোশন শুরুর আগে পেজে ১০ থেকে ১৫টি মানসম্মত পোস্ট দিন। মাত্র তিনটি পোস্টের পেজের চেয়ে সক্রিয় পেজকে নতুন ভিজিটর অনেক বেশি বিশ্বাস করেন।

ধাপ ৩: ব্যবসাকে আইনিভাবে নিবন্ধন করুন

অনেক বিক্রেতা এই ধাপটি বাদ দেন। আপনি সেই ভুল করবেন না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সব অনলাইন বিক্রেতার জন্য dbid.gov.bd পোর্টালে ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন (DBID) নিবন্ধন করতে হয়। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেসবুক পেজ থাকলে মালিকের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়েই এফ-কমার্স উদ্যোক্তা DBID-এর আবেদন করতে পারেন। এর জন্য ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক নয়। তবে নির্দেশিকা অনুযায়ী DBID নম্বরটি পেজে বা ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করতে হবে।

এটি আপনার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ:

  • ক্রেতার আস্থা: পেজে DBID নম্বর দেখলে ক্রেতা বোঝেন আপনার ব্যবসা নিবন্ধিত ও জবাবদিহির আওতায় আছে।
  • পেমেন্ট সুবিধা: কাগজপত্র ঠিক থাকলে বিকাশ, নগদ ও পেমেন্ট গেটওয়ের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা সহজ হয়।
  • ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধি: DBID ও ট্রেড লাইসেন্স থাকলে পরে ব্যবসায়িক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা বা এসএমই ঋণের আবেদন করা সহজ হয়।

ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১ সম্পর্কেও জেনে রাখুন। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী পেমেন্ট পাওয়ার পর একই শহরে ৫ দিনের মধ্যে এবং অন্য এলাকায় ১০ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি দিতে হয়। এই নিয়ম মানলে ভোক্তা অভিযোগ থেকে আপনি সুরক্ষিত থাকবেন এবং পেজের সুনাম অটুট থাকবে।

ধাপ ৪: সহজ পেমেন্ট ব্যবস্থা রাখুন

বাংলাদেশের ক্রেতারা এখনো ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) পছন্দ করেন, কারণ এতে প্রতারিত হওয়ার ভয় থাকে না। তাই COD রাখুন। পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবস্থাও রাখুন:

  • বিকাশ ও নগদ মার্চেন্ট বা পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট: ক্রেতা কয়েক সেকেন্ডে অগ্রিম বা ডেলিভারি চার্জ পাঠাতে পারেন, ফলে ভুয়া অর্ডার কমে।
  • আংশিক অগ্রিম পেমেন্ট: শুধু ডেলিভারি চার্জ আগে নিলে যারা আসলে কিনবেন না, তারা শুরুতেই বাদ পড়ে যান এবং রিটার্নের ক্ষতি কমে।
  • বড় অর্ডারে ব্যাংক ট্রান্সফার: পাইকারি ও কর্পোরেট ক্রেতারা হিসাব রাখার সুবিধার জন্য এটি পছন্দ করেন।

ধাপ ৫: নির্ভরযোগ্য ডেলিভারি পার্টনার বেছে নিন

এফ-কমার্সে ক্রেতা ধরে রাখা বা হারানোর বড় জায়গা হলো ডেলিভারি। দেরিতে পৌঁছানো বা নষ্ট পার্সেল আপনার সব ভালো মার্কেটিং এক মুহূর্তে নষ্ট করে দেয়।

এফ-কমার্স বিক্রেতাদের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত স্টেডফাস্ট কুরিয়ারের চার্জ এমন (বানিখ-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী):

রুটডেলিভারি চার্জ
ঢাকা সিটির ভেতরে৫৫ টাকা
ঢাকা সিটি থেকে অন্য জেলায়১১৫ টাকা
ঢাকার বাইরে এক শহর থেকে অন্য শহরে১৩৫ টাকা
COD কালেকশন চার্জসংগৃহীত টাকার ১%

পাঠাও কুরিয়ার ও রেডএক্সও অনলাইন বুকিং, পার্সেল ট্র্যাকিং আর COD কালেকশনের সুবিধা দেয়। দুই-তিনটি কুরিয়ারের সেবা তুলনা করুন, তারপর যেখানে আপনার বেশিরভাগ ক্রেতা থাকেন, সেই এলাকায় যাদের কভারেজ ভালো, তাদের বেছে নিন।

রিটার্নের হার কম রাখবেন যেভাবে

ফেরত আসা পার্সেলে আপনার দুই দিকেই খরচ হয়: ডেলিভারি চার্জ আর রিটার্ন চার্জ। পাঠানোর আগে প্রতিটি অর্ডার ফোনে কনফার্ম করুন, ক্রেতাকে পণ্যের আসল ছবি পাঠান এবং সাইজ ও রং সঠিকভাবে লিখুন। এই তিনটি অভ্যাস ভুল পণ্য, ভুল সাইজ আর অনিচ্ছুক ক্রেতার কারণে হওয়া রিটার্ন আগেই ঠেকিয়ে দেয়।

ধাপ ৬: এমন কনটেন্ট বানান, যা বিক্রি আনে

কনটেন্টই আপনার এফ-কমার্স ব্যবসার ইঞ্জিন। ভালো পণ্যের দুর্বল পোস্ট হলো ভাঙা স্পিকারে ভালো গান বাজানোর মতো।

এই ধরনের কনটেন্টে মনোযোগ দিন:

  • শর্ট ভিডিও ও রিলস: ফেসবুক এগুলো নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়, আর পণ্যটি বাস্তবে কেমন তা দেখায়।
  • ফেসবুক লাইভ: ক্রেতা সরাসরি প্রশ্ন করতে পারেন এবং পণ্য নিজের চোখে দেখেন, ফলে দ্রুত আস্থা তৈরি হয়।
  • ক্রেতার রিভিউ ও ডেলিভারির ছবি: আসল ফিডব্যাক প্রমাণ করে আপনার পেজ বিশ্বাসযোগ্য।
  • পর্দার পেছনের পোস্ট: অর্ডার প্যাকিং বা পণ্য তৈরির দৃশ্য আপনার ব্র্যান্ডকে মানবিক চেহারা দেয়।
  • শিক্ষণীয় পোস্ট: পণ্য ব্যবহার, স্টাইলিং বা যত্নের টিপস বিক্রির ফাঁকের সময়েও ফলোয়ারদের যুক্ত রাখে।

ক্যাপশন লিখুন সহজ বাংলায়, দাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন এবং প্রতিটি পোস্ট শেষ করুন “অর্ডার করতে ইনবক্স করুন”-এর মতো সরাসরি আহ্বান দিয়ে।

ধাপ ৭: রিচ ও সোশ্যাল প্রুফ বাড়ান

নতুন পেজের অর্গানিক রিচ ধীরে বাড়ে। তিনভাবে আপনি গতি বাড়াতে পারেন।

প্রথমত, ভালো পারফর্ম করা পোস্ট বুস্ট করুন। ফেসবুক বিজ্ঞাপনে এলাকা, বয়স আর আগ্রহ অনুযায়ী টার্গেট করা যায়, ফলে আপনার টাকা সম্ভাব্য ক্রেতার কাছেই পৌঁছায়। অল্প বাজেটে দুই-তিনটি পোস্ট পরীক্ষা করুন, যেটি সবচেয়ে ভালো ফল দেয় তার পেছনে বাজেট বাড়ান।

দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হয়ে সক্রিয় থাকুন। সেখানে মানুষের প্রশ্নের উত্তর দিলে আপনার পরিচিতি তৈরি হয় একজন সহায়ক মানুষ হিসেবে, শুধু আরেকজন বিক্রেতা হিসেবে নয়।

তৃতীয়ত, প্রথম ক্রেতাদের রিভিউ কাজে লাগান। প্রতিটি ডেলিভারির পর ক্রেতার কাছে একটি ছবি বা ছোট মতামত চেয়ে নিন এবং অনুমতি নিয়ে পেজে পোস্ট করুন। আসল ক্রেতার রিভিউ নতুন ভিজিটরকে সবচেয়ে দ্রুত আশ্বস্ত করে।

যে ভুলগুলো এফ-কমার্স ব্যবসা ডুবিয়ে দেয়

ব্যর্থ পেজগুলো সাধারণত একই কয়েকটি ভুল করে:

  • দাম লুকিয়ে রাখা: “দাম জানতে ইনবক্স করুন” লিখলে ক্রেতা বিরক্ত হন, অনেকে স্ক্রল করে চলে যান।
  • দেরিতে রিপ্লাই: ফেসবুকে একই পণ্য বিক্রি করে আরও অনেক পেজ, তাই উত্তর পেতে দেরি হলে ক্রেতা অন্য পেজে চলে যান।
  • ভুয়া বা অতিরিক্ত এডিট করা ছবি: একবার অর্ডার আসে, তারপর আসে রিটার্ন, খারাপ রিভিউ আর আস্থার সংকট।
  • শুধু ফেসবুকের ওপর নির্ভর করা: পেজ রেস্ট্রিক্টেড হলে এক রাতেই ব্যবসা থেমে যায়। তাই ক্রেতাদের ফোন নম্বরের তালিকা রাখুন এবং হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামেও উপস্থিতি গড়ে তুলুন।
  • লাভের হিসাব না করা: দাম ঠিক করার আগে পণ্যের দাম, ডেলিভারি, COD চার্জ, প্যাকেজিং আর বিজ্ঞাপনের খরচ যোগ করে নিন।

শেষ কথা

বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা শুরু করা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সহজ। চাহিদা আছে এমন পণ্য বাছুন, বিশ্বাসযোগ্য ফেসবুক পেজ বানান, DBID নিবন্ধন করুন, সহজ পেমেন্ট ব্যবস্থা রাখুন এবং নির্ভরযোগ্য কুরিয়ার বেছে নিন। তারপর প্রতি সপ্তাহে এমন কনটেন্ট দিন, যা ক্রেতাকে সাহায্য করে এবং কিনতে উৎসাহ দেয়। এফ-কমার্সে বড় বাজেটের চেয়ে ধারাবাহিকতার দাম বেশি। তাই ছোট করে শুরু করুন, দ্রুত শিখুন আর একজন একজন সন্তুষ্ট ক্রেতা দিয়ে ব্যবসা বড় করুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

বাংলাদেশে এফ-কমার্স শুরু করতে কত টাকা লাগে?

ফেসবুক পেজ খোলা ফ্রি, তাই প্রথম ব্যাচের পণ্যের দাম দিয়েই শুরু করা যায়। এর সঙ্গে প্যাকেজিং, ডেলিভারি আর কয়েকটি বুস্ট পোস্টের জন্য ছোট একটি বাজেট রাখুন। অনেক উদ্যোক্তা অল্প পণ্য দিয়ে শুরু করে লাভের টাকা আবার ব্যবসায় খাটান।

এফ-কমার্সের জন্য কি ট্রেড লাইসেন্স লাগে?

ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিক্রি করলে DBID পেতে ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক নয়। তবে ব্যবসা বড় হলে ব্যবসায়িক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মার্চেন্ট পেমেন্ট অ্যাকাউন্ট আর ঋণের আবেদনের জন্য ট্রেড লাইসেন্স কাজে লাগে।

ফেসবুকে বিক্রির জন্য সবচেয়ে ভালো পণ্য কোনটি?

পোশাক, কসমেটিকস, ঘরে তৈরি খাবার, গ্যাজেট ও এক্সেসরিজ এবং হস্তশিল্প জনপ্রিয় ক্যাটাগরি। আপনার জন্য সেরা পণ্য সেটিই, যার চাহিদা নিয়মিত, পাঠাতে খরচ কম এবং ছবি ও ভিডিওতে সহজে দেখানো যায়।

নতুন ফেসবুক পেজে প্রথম ক্রেতা পাব কীভাবে?

বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে পেজ শেয়ার করুন, প্রতিদিন পোস্ট দিন, লাইভে এসে পণ্য দেখান, সংশ্লিষ্ট গ্রুপে যুক্ত হন এবং সবচেয়ে ভালো পোস্টটি স্থানীয় টার্গেট অডিয়েন্সে বুস্ট করুন। প্রথম ক্রেতাদের রিভিউই পরের ক্রেতাদের নিয়ে আসে।

চাকরি বা পড়াশোনার পাশাপাশি কি এফ-কমার্স চালানো যায়?

হ্যাঁ, যায়। মেটা বিজনেস স্যুটে পোস্ট শিডিউল আর মেসেঞ্জারের সেভড রিপ্লাই ব্যবহার করলে দিনে কয়েক ঘণ্টা মনোযোগ দিয়েই পেজ চালানো সম্ভব। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবী খণ্ডকালীনভাবে এফ-কমার্স পেজ চালাচ্ছেন।

ভুয়া অর্ডার আর পার্সেল রিটার্ন কমাব কীভাবে?

প্রতিটি অর্ডার ফোনে কনফার্ম করুন, বিকাশ বা নগদে ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম নিন এবং পণ্যের আসল ছবি শেয়ার করুন। এতে যারা আসলে কিনবেন না, তারা শুরুতেই বাদ পড়ে যান এবং রিটার্নের খরচ কমে।

আরো পড়ুন

পেট জোন বিডি: বিড়াল ও কুকুরের শৌখিন খাবার এবং বিশ্বস্ত একসেসরিজের অনলাইন ঠিকানা

পোষ্যপ্রেমীদের জন্য নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত পেট কেয়ার পণ্যের ওয়ান-স্টপ সলিউশন হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে অনলাইন শপ 'পেট জোন বিডি' (Pet Zone BD)। দেশে বিড়াল ও...

৬৪ জেলায় বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর

বর্তমান সময়টা তথ্যা প্রযুক্তির। আর এই প্রযুক্তির দুনিয়ায় সবচেয়ে আলোচিত নাম হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)। যারা নিজেদের সময়ের সাথে এগিয়ে রাখতে...

বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুরোগীর চিকিৎসার খরচ দেবে সরকার

দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুরোগীদের সঠিক ও সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এখন থেকে সরকারি হাসপাতালে...
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ