রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে ৮ থেকে ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরাম ২০২৬’। আন্তর্জাতিক এই প্রযুক্তি আয়োজনে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করছেন উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম বিল্ডার এবং Startup Association of Bangladesh (SAB)-এর President মো. আব্দুর রশিদ সোহাগ।
‘ডিজিটাল সলিউশন্স’ প্রযুক্তি আয়োজনের অংশ হিসেবে গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরাম অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ফোরামে ১১০টি দেশের প্রতিনিধি ছাড়াও সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ডেভেলপার ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
ফোরামে ডিজিটাল রূপান্তর, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্লেনারি সেশন, বিজনেস ট্র্যাক, শিক্ষাবিষয়ক কর্মশালা, ব্যবহারিক সেশন, বিজনেস ম্যাচিং, নেটওয়ার্কিং এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনী।
স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম নিয়ে কাজ করছেন সোহাগ
মো. আব্দুর রশিদ সোহাগ বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে দীর্ঘদিন ধরে উদ্যোক্তা, মেন্টর, স্পিকার, বিচারক ও কমিউনিটি বিল্ডার হিসেবে কাজ করছেন। তিনি Startup Association of Bangladesh-এর President হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করছেন এবং একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগে যুক্ত রয়েছেন।
তিনি একই সঙ্গে Pupil School Bus Ltd.-এর Founder, CEO & Chairman। প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সংগঠিত স্কুল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিস্তৃত এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে স্কুল পরিবহন ব্যবস্থায় GPS tracking, parent communication, digital notification, smart attendance ও route management-এর মতো সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
সোহাগের উদ্যোক্তা জীবনের বিভিন্ন অর্জনের মধ্যে রয়েছে A2i Smart District Innovation Challenge-এ ১ম পুরস্কার, BYLC Ventures Accelerator থেকে Pre-Seed Investment, Entrepreneurship World Cup-এর Top 250-এ স্থান, Smart Bangladesh Accelerator-এর Top Pitch/Graduate recognition এবং DNCC Citizen Award 2025।
এ ছাড়া তিনি Student Transportation Innovator of the Year 2024 (South Asia) হিসেবে CEO Monthly Chairperson Awards-এ স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁর সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মধ্যে রয়েছে Seoul Smart City Prize 2026-এর Semifinalist এবং Global Startup Awards-এর Global Finalist, Founder of the Year ও People’s Best Choice স্বীকৃতি। তিনি Tally MSME Startup Founder of the Year 2024 হিসেবেও স্বীকৃত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান দেশের ইকোসিস্টেমে
আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকে দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের জন্য কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন সোহাগ। এর আগে তিনি U.S. Department of State-এর Professional Fellows Program-এ অংশগ্রহণ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে পরিবহন ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ ও শেখার সুযোগ পান। পাশাপাশি তিনি University of Oklahoma-এর সঙ্গে Leadership & Management বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের Tulsa-ভিত্তিক Modus Inc.-এর Board Director হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দেশে তিনি University Innovation Hub Program (UIHP)-এর Lead Mentor হিসেবেও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্মে মেন্টর, স্পিকার ও বিচারক হিসেবে অংশ নিয়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের customer discovery, market validation, business model, fundraising, pitch development ও commercialization বিষয়ে সহযোগিতা করে আসছেন।
মস্কোর এই আন্তর্জাতিক আয়োজন সম্পর্কে তাঁর প্রত্যাশা হলো, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে কাজে লাগানো।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পর্যায়ে রয়েছে। মস্কোর মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের সম্ভাবনাকে তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও সহযোগিতার সুযোগ দেশের উদ্যোক্তাদের কাছে নিয়ে আসতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি শুধু নিজের প্রতিষ্ঠানকে বড় করার জন্য নয়, দেশের উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করার জন্য কাজ করতে চাই। Startup Association of Bangladesh-এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিভাগের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সংযোগ তৈরি, নীতিগত বিষয়গুলোতে উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধিত্ব এবং আন্তর্জাতিক সুযোগের সঙ্গে বাংলাদেশের স্টার্টআপদের যুক্ত করার বিষয়ে আমরা কাজ করছি।”
ফোরামে বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের ডিজিটাল সমাধান ও উদ্ভাবন প্রদর্শন করবে। আন্তর্জাতিক এই আয়োজন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত ধারণা ও নতুন যোগাযোগ বাংলাদেশের স্টার্টআপ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতে কাজে লাগানোর প্রত্যাশা রয়েছে।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরামের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সহযোগিতা বাড়ানো, ডিজিটাল প্রবণতা নিয়ে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি করা।




