দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন দেবহাটার কৃতি সন্তান ড. মোঃ কামরুজ্জামান (এনডিসি)। সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া বিশ্বাসবাড়ীর কৃতি সন্তান ড. কামরুজ্জামান বিসিএস (প্রশাসন) ১৭ ব্যাচের একজন প্রবীণ ও অত্যন্ত দক্ষ কর্মকর্তা।
সরকারি প্রশাসনিক সেবায় দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সরকারের সচিব পদে উন্নীত হন। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত আদেশের পর তিনি এই গুরুদ দায়িত্বে স্থলাভিষিক্ত হন। তাঁর এই নতুন প্রাপ্তিতে পরিবার, সহকর্মী এবং সাতক্ষীরাবাসীর মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
পদোন্নতি ও সাম্প্রতিক কাজের অভিজ্ঞতা
ড. মোঃ কামরুজ্জামান (এনডিসি) ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পদায়ন সংক্রান্ত নির্দেশনার ভিত্তিতে তিনি ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমি (NADAM)-র রেক্টর (সচিব) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমিতে যোগদানের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (DG) হিসেবে দেশের পরিবেশ সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক বায়োডাইভারসিটি নীতি বাস্তবায়নে কার্যকর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।
মাঠ প্রশাসন থেকে সচিবালয়ের অভিজ্ঞতা
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন ক্যাডারের ১৭ ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে ড. কামরুজ্জামানের রয়েছে তিন দশকের এক সুবিশাল কর্ম অভিজ্ঞতা। মাঠপর্যায়ের সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণী উচ্চপদ সবখানেই তিনি নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।
তাঁর পেশাগত যাত্রার মূল ধাপসমূহ
- মাঠ প্রশাসন: কর্মজীবনের সূচনাভাগে তিনি সহকারী কমিশনার, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন জেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন।
- কেন্দ্রীয় প্রশাসন (সচিবালয়): মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা শেষে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। তিনি পর্যায়ক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব, উপসচিব, যুগ্মসচিব এবং অতিরিক্ত সচিব পদে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দেশ ও বিদেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাজীবন
ড. মোঃ কামরুজ্জামান একাধারে একজন দক্ষ আমলা এবং বিশিষ্ট গবেষক। দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে ইউরোপীয় সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
- স্নাতক ও স্নাতকোত্তর (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়): তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে অনার্স (BSc) ও মাস্টার্স (MSc) ডিগ্রি অর্জন করেন।
- এমফিল ডিগ্রি (নরওয়ে): পরবর্তীতে তিনি নরওয়ের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় Norwegian University of Science and Technology (NTNU) থেকে ‘Development Studies Specializing in Geography’ বিষয়ে এমফিল (M.Phil) সম্পন্ন করেন।
- পিএইচডি (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়): বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘Information Security for an Information Society in Bangladesh’ বিষয়ে গবেষণা করে পিএইচডি (Doctorate) ডিগ্রি লাভ করেন।
- এনডিসি (NDC): দেশের নিরাপত্তা ও সমন্বিত উন্নয়ন নীতির ওপর ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণের পর ‘এনডিসি’ খেতাব অর্জন করেন।
পারুলিয়া বিশ্বাসবাড়ী তথা সাতক্ষীরার গর্ব
ড. মোঃ কামরুজ্জামান (এনডিসি)-এর উচ্চপদে পদায়নের খবরে তাঁর জন্মভূমি দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া গ্রামসহ গোটা সাতক্ষীরা জেলায় এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনরা জানান, শৈশব থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী, নম্র এবং অধ্যবসায়ী ছিলেন। গ্রামের সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে এসে দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচিব পদে আসীন হওয়া তরুণ প্রজন্মের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা।
৫. তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগে নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা
যেহেতু তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘তথ্য নিরাপত্তা’ (Information Security) বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন, তাই ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে তাঁর এই বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ডিজিটাল নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদারকরণ এবং জাতীয় ডাক সেবাকে আধুনিক প্রযুক্তি বান্ধব করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর এই বিশেষায়িত জ্ঞান বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মেধা, শিক্ষা, সততা এবং সুদীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ড. মোঃ কামরুজ্জামান (এনডিসি) ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী করে তুলবেন এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর। তাঁর নতুন দায়িত্ব পালন এবং দেশসেবার পথচলা সুন্দর ও সফল হোক।




