শুক্রবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার বাংলাদেশ

বহুল পঠিত

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জেও বাংলাদেশ–রাশিয়া বাণিজ্য টার্নওভার ২ বিলিয়ন ডলারের ওপরে

ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে বাংলাদেশ এখনো দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশীদার হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও টানা তিন বছর ধরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য টার্নওভার ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রয়েছে- যা উভয় দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের দৃঢ়তা ও স্থিতিশীলতার প্রমাণ।

বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে আশাবাদের বার্তা

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ঢাকায় রুশ দূতাবাসে আয়োজিত বার্ষিক অগ্রগতি বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত খোজিন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ রাশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায়ও আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে।”

কোন পণ্যে এগিয়ে রাশিয়া-বাংলাদেশ বাণিজ্য

রাষ্ট্রদূত জানান, রাশিয়া বাংলাদেশে প্রধানত যন্ত্রপাতি, গমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রপ্তানি করছে। অপরদিকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক (RMG) ও টেক্সটাইল পণ্য আমদানি করছে রাশিয়া। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী বছরের শুরুতে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশের পর ২০২৫ সালের বাণিজ্য পরিসংখ্যান আরও শক্তিশালী চিত্র তুলে ধরবে।

বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় রাশিয়ার বড় অবদান

খোজিন বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শুধু ২০২৫ সালেই বাংলাদেশে রাশিয়ার গম রপ্তানি ২০ লাখ টনে পৌঁছেছে। পাশাপাশি রাশিয়ান সার ও সরিষার বীজের সরবরাহ বছরে দ্বিগুণ বেড়েছে।
এই সময়ে প্রায় ৪ লাখ টন পটাশ সার বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ান ভেটেরিনারি ভ্যাকসিনের রপ্তানি ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে- যা দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: সম্পর্কের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প

রাষ্ট্রদূত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাংলাদেশ–রাশিয়া সহযোগিতার ‘ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প’ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রকল্পটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
এটি দেশের শক্তি নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প প্রবৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গ্যাস, জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে সহযোগিতা

দূতাবাস সূত্র জানায়, পারমাণবিক শক্তির বাইরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে গ্যাস অনুসন্ধান ও উন্নয়নে কাজ করছে। ভোলা দ্বীপে একাধিক গ্যাস ক্ষেত্র চিহ্নিত হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি স্বনির্ভরতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এছাড়া রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG), অপরিশোধিত তেলের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য যৌথ উদ্যোগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

রাশিয়ায় বাড়ছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুযোগ

শ্রম গতিশীলতাকেও দুই দেশের সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। ২০২৪ সালে রাশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রায় ২ হাজার ৮০০টি ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হয়েছে— যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
নিরাপদ ও বৈধ নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নির্মাণ, কৃষি ও জাহাজ নির্মাণ খাতে আরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার আগ্রহের কথা জানায় রাশিয়া।

কূটনৈতিক উপস্থিতি

সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপ-মিশন প্রধান, প্রথম সচিব, সাংস্কৃতিক পরিচালক ও প্রেস অ্যাটাশেও উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন

জুলাই বিপ্লবের বীরদের জন্য আসছে ঐতিহাসিক ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’!

ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার কারিগরদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে সরকার একটি বিশেষ ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ (Indemnity Ordinance) প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।

রাজধানীতে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’: ১২০০ যোদ্ধা ও সাংবাদিককে বিশেষ স্মারক প্রদান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা এবং আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য 'জুলাই বীর সম্মাননা' অনুষ্ঠান। আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ঐতিহাসিক ফেলানী হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং সাহসী সাংবাদিকদের বিশেষ সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ড. ইউনূসের ডাক: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান

একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্তের অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ইউনূস। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সম্ভাব্য গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। ড. ইউনূসের মতে, এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র সংস্কারের এক বড় সুযোগ।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ