সেনাবাহিনীর গৌরব অক্ষুণ্ন রাখাই বিএনপির অঙ্গীকার
বিএনপি ক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত (বাংলাদেশ রাইফেলস) বিডিআর নাম পুনর্বহাল করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে কখনোই সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
শনিবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বাহিনীর সদস্য ও পিলখানায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান বলেন,
“সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়-এমন কোনো কাজ বিএনপি অতীতেও করেনি, বর্তমানেও করে না এবং ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও করবে না।”
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম
তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি। বিএনপি শক্তিশালী থাকলে দেশও শক্তিশালী থাকে, একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্মান ও মর্যাদাও অক্ষুণ্ন থাকে।
শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময় বিশ্বাস করতেন—একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী ছাড়া স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন,
“শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যেমন জাতিকে গর্বিত করেছেন, তেমনি একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে সেনাবাহিনীকেও গর্বিত করেছেন।”
পিলখানা হত্যাযজ্ঞ ও জাতীয় স্মৃতির মর্যাদা
২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাযজ্ঞের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ওই নির্মম ঘটনার পর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম ও ইউনিফর্ম পরিবর্তন করা হয়েছিল, যা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
তিনি জানান, জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে-
- বিডিআর নাম পুনর্বহাল করা হবে
- পিলখানা হত্যাযজ্ঞ দিবসকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ বা জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিবস হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হবে
- ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে
সেনাবাহিনী রাজনীতিসচেতন হবে, তবে রাজনীতিকরণ নয়
তারেক রহমান বলেন, সেনাবাহিনী অবশ্যই রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকবে, কিন্তু রাজনীতিতে বিলীন হয়ে যাওয়া কখনোই উচিত নয়। সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব থেকে বিচ্যুতি ঘটলে দেশ ও বাহিনী—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পে ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি
তিনি জানান, সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পে’ নীতি ইতোমধ্যে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকার গঠন করলে এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনা আইনের সংস্কারসহ সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের প্রস্তাবগুলো গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
পরিশেষে তারেক রহমান বলেন, “আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি নিরাপদ, সম্মানজনক ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।”
সুত্রঃ আমার দেশ





