বিএনএসিডব্লিউসি’র ২৫তম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
ঢাকা, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ (সোমবার):
বাংলাদেশে রাসায়নিক নিরাপত্তা, জনসুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (বিএনএসিডব্লিউসি)–এর ২৫তম সাধারণ সভা আজ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মাল্টিপারপাস হলে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনএসিডব্লিউসি’র চেয়ারম্যান এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার
লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, বিএসপি, এনডিসি, এইচডিএমসি, পিএসসি, পিএইচডি।
উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও বাহিনী থেকে মোট ৪৩ জন সামরিক ও অসামরিক সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
এ অংশগ্রহণ দেশের রাসায়নিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাসায়নিক নিরাপত্তায় কঠোর নির্দেশনা
সভায় আন্তর্জাতিক রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (CWC) এবং রাসায়নিক অস্ত্র (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০০৬ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশেষভাবে-
- তফসিলভুক্ত রাসায়নিক দ্রব্য সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম
- তফসিল বহির্ভূত স্বতন্ত্র জৈব রাসায়নিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে
– বিএনএসিডব্লিউসির সঙ্গে অনলাইনে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
এতে করে রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর বার্তা
সভায় সম্প্রতি মিরপুর, গাজীপুর ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া অগ্নি দুর্ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়। রাসায়নিক অব্যবস্থাপনাকে এসব দুর্ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করে-
1. ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে
2. সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকার বিষয়ে
– সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ
চেয়ারম্যান, বিএনএসিডব্লিউসি তাঁর বক্তব্যে বলেন-
- দেশের সার্বিক রাসায়নিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করা জরুরি
- রাসায়নিক দুর্ঘটনা মোকাবিলায়
- আমদানীকারক
- ব্যবহারকারী
- কাস্টমস
- আইন প্রয়োগকারী সংস্থা
সহ সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
এই উদ্যোগ দেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্য খাতে নিরাপদ রাসায়নিক ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই পদক্ষেপের ফলে
১. জাতীয় রাসায়নিক নিরাপত্তা জোরদার
২. অগ্নি ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ
৩. আন্তর্জাতিক কনভেনশন বাস্তবায়নে অগ্রগতি
৪. জননিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় দৃঢ় অবস্থান
নিঃসন্দেহে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক , যা নিরাপদ ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিফলন।