শুক্রবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৬

ঢাকা বোর্ডের নতুন নির্দেশনা: ২০২৬ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে eTIF আপডেট বাধ্যতামূলক

বহুল পঠিত

নতুন শিক্ষা বছরের প্রস্তুতি ও বোর্ডের আদেশ

আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষাগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এক জরুরি চিঠির মাধ্যমে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এই নির্দেশনা মূলত শিক্ষকদের তথ্যাদির ইলেকট্রনিক ডাটাবেস বা eTIF যথাযথভাবে হালনাগাদ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া যাতে কোনো প্রকার জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন হতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপটি গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই আদেশটি স্কুল এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

১. ২০২৬ সালের পাবলিক পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

২. ঢাকা বোর্ড শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করেছে।

৩. উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন।

৪. eTIF ফাইল আপডেট করা এখন সময়ের দাবি।

৫. সঠিক ডেটাবেস ছাড়া পরীক্ষা পরিচালনা কঠিন হবে।

সঠিক এবং নির্ভুল তথ্য ভাণ্ডার তৈরি করা পরীক্ষা পরিচালনার একটি অপরিহার্য অংশ। যদি শিক্ষকদের তথ্য সঠিকভাবে আপডেট না করা হয়, তবে পরীক্ষক নিয়োগে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, অবসরজনিত কারণে বা অন্য কোনো কারণে যাঁরা আর সক্রিয় নন, তাঁদের নাম অবিলম্বে তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন না হলে প্রধান পরীক্ষক এবং সহকারী পরীক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বিষয়টি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইলেকট্রনিক টিচার ইনফরমেশন ফাইল বা eTIF এর গুরুত্ব

শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে ডিজিটাল ডেটাবেসের গুরুত্ব অপরিসীম। ইলেকট্রনিক টিচার ইনফরমেশন ফাইল বা eTIF হলো শিক্ষকদের বিস্তারিত তথ্যের একটি ডিজিটাল ভাণ্ডার। এই ফাইলে শিক্ষকের বর্তমান কর্মস্থান, বিষয়, যোগদানের তারিখ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকে। উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় বোর্ড কর্তৃপক্ষ এই ডেটাবেস থেকেই পরীক্ষকদের তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন। তাই এই তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। কোনো প্রকার ত্রুটি যেন না থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

১. eTIF শিক্ষকদের ডিজিটাল পরিচিতির মূল মাধ্যম।

২. বোর্ড এই তথ্য ব্যবহার করে পরীক্ষক তৈরি করে।

৩. ভুল তথ্য থাকলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে।

৪. স্বচ্ছ ও দ্রুত কাজের জন্য এটি অপরিহার্য।

৫. ডেটাবেস আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার অঙ্গ।

প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, তাঁরা তাদের ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের বর্তমান অবস্থান নিয়মিত আপডেট রাখবেন। অনেক সময় দেখা যায়, শিক্ষক অবসর গ্রহণ করেছেন কিন্তু তাঁর নাম তালিকায় রয়ে গেছে। অথবা কেউ চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন কিন্তু সেটি ডেটাবেসে প্রতিফলিত হয়নি। এই ধরনের অসঙ্গতি দূর করতেই মূলত বোর্ডের পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ভুল তথ্য ভাণ্ডার তৈরি করলে পরীক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থা আরও গতিশীল এবং নির্ভুল হবে।

যাদের নাম বাদ দিতে হবে তাদের শ্রেণীবিভাগ

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত চিঠিতে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণীর শিক্ষকের নাম eTIF থেকে অপসারণের কথা বলা হয়েছে। এই শ্রেণীভুক্ত শিক্ষকরা আর সক্রিয়ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নয় এবং তাঁদের উপস্থিতি পরীক্ষা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যাঁরা ইতিমধ্যে অবসর গ্রহণ করেছেন বা চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন, তাঁদের নাম অবিলম্বে মুছে ফেলতে হবে। এছাড়াও যাঁরা দুর্ভাগ্যবশত মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদের তথ্যও ডেটাবেস থেকে সরানো প্রয়োজন।

১. অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নাম কর্তন করতে হবে।

২. মৃত শিক্ষকদের তথ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

৩. অন্যত্র বদলি হওয়া শিক্ষকদের নাম মুছতে হবে।

৪. স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেওয়া শিক্ষকদের অপসারণ জরুরি।

৫. বোর্ড কর্তৃক কালো তালিকাভুক্তদের নামও বাদ দিতে হবে।

যাঁরা খণ্ডকালীন বা পার্ট-টাইম শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন, তাঁদের বিষয়েও বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। অনেক সময় খণ্ডকালীন শিক্ষকদের পূর্ণকালীন হিসেবে ভুলবশত তালিকায় রাখা হয়, যা পরবর্তীতে সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও সততা এবং নির্ভুলতার সাথে তথ্য যাচাই করতে হবে। বোর্ড থেকে কালো তালিকাভুক্ত বা ব্ল্যাকলিস্টেড হওয়া শিক্ষকদের নামও সংশোধন করতে হবে। এই সকল শ্রেণীর শিক্ষকদের নাম যথাযথভাবে অপসারণ করা না হলে eTIF এর নির্ভুলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও নির্ভুল ডেটাবেসের সম্পর্ক

এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার মূল ধাপ হলো উত্তরপত্র মূল্যায়ন। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য দক্ষ এবং যোগ্য পরীক্ষক নিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। বোর্ড কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের ইলেকট্রনিক তথ্যের ভিত্তিতেই পরীক্ষক তালিকা প্রস্তুত করেন। যদি ডেটাবেসে ভুল তথ্য থাকে, তবে উপযুক্ত ব্যক্তিকে পরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যায় না। এমনকি অনুপস্থিত বা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার ঝুঁকিও থেকে যায়। এই জটিলতা এড়াতেই ডেটাবেস শতভাগ নির্ভুল থাকা প্রয়োজন।

১. নির্ভুল ডেটাবেস সুষ্ঠ মূল্যায়ন নিশ্চিত করে।

২. যোগ্য পরীক্ষক নির্বাচনে এটি সহায়তা করে।

৩. ভুল নিয়োগ এড়াতে তথ্য যাচাই জরুরি।

৪. পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে দেরি হতে পারে।

৫. মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসে।

প্রধান পরীক্ষক এবং পরীক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায়শই জটিলতা সৃষ্টি হয় যখন শিক্ষকের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট থাকে না। কোনো শিক্ষক অবসর নিয়েছেন কিন্তু তাঁর নাম থেকে গেছে এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে দায়িত্ব দিলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এটি পুরো মূল্যায়ন কার্যক্রমে ধীরগতি আনে। তাই ঢাকা বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য নির্ভুল ডেটাবেস তৈরি করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই এই বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের তথ্য আপডেট করতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দায়িত্ব ও করণীয়

সকল সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকদের ওপর এই দায়িত্বটি অর্পণ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন যাঁরা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষকের তথ্য সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। তাই বোর্ডের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অবশ্যই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের eTIF লগইন করে প্রতিটি শিক্ষকের তথ্য যাচাই করতে হবে। কোনো শিক্ষক চাকরি ছেড়েছেন কিনা, অবসর নিয়েছেন কিনা বা মারা গেছেন কিনা, সেগুলো খুঁটিয়ে দেখতে হবে।

১. প্রধান শিক্ষকদের এই আপডেট কাজে নেতৃত্ব দিতে হবে।

২. প্রতিটি শিক্ষকের বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে হবে।

৩. ভুল তথ্য পেলে তা দ্রুত সংশোধন করতে হবে।

৪. বোর্ডের নির্দেশনা মেনে কাজ করতে হবে।

৫. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।

প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উচিত এই বিষয়ে একটি ছোট মিটিং বা সভার আয়োজন করা। সেখানে শিক্ষকদের নিজেদের তথ্য যাচাই করতে বলা যেতে পারে। এতে কোনো ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। পাশাপাশি, খণ্ডকালীন শিক্ষকদের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তাঁরা কি পরীক্ষার কাজে অংশ নিতে আগ্রহী কিনা। যদি না হন, তবে তাঁদের নামও তালিকা থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। সব মিলিয়ে, প্রধান শিক্ষকদের সততা এবং দক্ষতার সাথে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবেই ২০২৬ সালের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

সংশোধনে ব্যর্থতার প্রভাব ও জরিমানা

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, eTIF সংশোধন না করলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বোর্ড থেকে ডেটাবেস সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই, এটি একান্তই প্রতিষ্ঠানের এখতিয়ার। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান গাফিলতি করে, তবে পরীক্ষা পরিচালনায় বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় হঠাৎ দেখা যেতে পারে যে নিয়োগপ্রাপ্ত পরীক্ষক আর সেই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নেই। এতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া থমকে দাঁড়াবে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ফলাফল প্রকাশে দেরি হবে।

১. ডেটাবেস ভুল থাকলে পরীক্ষক সংকট দেখা দেবে।

২. মূল্যায়ন কাজ মারাত্মকভাবে বিলম্বিত হবে।

৩. বোর্ড কর্তৃপক্ষ ক্ষুব্ধ হতে পারেন।

৪. প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

৫. ছাত্রদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

এমন পরিস্থিতি এড়াতে বোর্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তাই প্রতিটি স্কুল এবং কলেজ অধ্যক্ষকে বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করতে হবে। কোনো ধরনের অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় দিয়ে হলেও নির্ভুলভাবে কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেই জন্য বর্তমানে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। শিক্ষা ব্যবস্থার স্বার্থে এই আপডেটটি অত্যন্ত জরুরি এবং এটি অগ্রাহ্য করা উচিত হবে না।

বোর্ডের সীমাবদ্ধতা ও সমাধানের উপায়

শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে সরাসরি eTIF সংশোধন করা সম্ভব নয়। বোর্ডের কাজ হলো নীতিনির্ধারণ এবং তত্ত্বাবধান করা। শিক্ষকদের ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য আপডেট করার একমাত্র দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। এই সীমাবদ্ধতার কারণেই বোর্ড নিয়মিত নির্দেশনা জারি করে থাকে। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই নিজেদের লগইন আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। কোনো প্রকার সাহায্যের প্রয়োজন হলে বোর্ডের নির্দিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করতে পারেন।

১. বোর্ড সরাসরি শিক্ষকদের ডেটা এডিট করতে পারে না।

২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেই এই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

৩. লগইন তথ্য সুরক্ষিত রাখা জরুরি।

৪. প্রয়োজনে বোর্ডের সহায়তা নেওয়া যাবে।

৫. নিজস্ব উদ্যোগে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।

অনেক সময় দেখা যায়, লগইন আইডি বা পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠান আপডেট করতে পারে না। এমন ক্ষেত্রে দ্রুত বোর্ডের আইটি সেলে যোগাযোগ করে সমাধান নিতে হবে। এছাড়াও, কোনো শিক্ষকের তথ্য যদি ডিজিটাল স্বাক্ষর বা অন্য কোনো কারিগরি কারণে আপডেট না হয়, তবে সেটিও সমাধান করতে হবে। সব মিলিয়ে, প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সমস্ত বাধা অতিক্রম করে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি একটি যৌথ প্রচেষ্টার বিষয়, যেখানে বোর্ড এবং প্রতিষ্ঠান উভয়কেই সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।

খণ্ডকালীন শিক্ষক এবং ব্ল্যাকলিস্টেড ব্যক্তিদের বিষয়

নির্দেশনায় বিশেষভাবে খণ্ডকালীন শিক্ষক এবং ব্ল্যাকলিস্টেড ব্যক্তিদের উল্লেখ করা হয়েছে। খণ্ডকালীন শিক্ষকরা প্রায়ই নিয়মিত শিক্ষকদের মতো সব সুযোগ-সুবিধা পান না। তাই তাদের পরীক্ষার কাজে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। অনেক সময় তারা স্থায়ী হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকেন কিন্তু কাজ করেন না। এই অসামঞ্জস্য দূর করতে তাঁদের নাম স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। অন্যদিকে, বোর্ড থেকে কালো তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের নাম থাকা শিক্ষার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

১. খণ্ডকালীন শিক্ষকদের অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে।

২. তালিকায় ভুল থাকলে তা ঠিক করতে হবে।

৩. কালো তালিকাভুক্তদের নাম বাদ দেওয়া বাধ্যতামূলক।

৪. শিক্ষার মান রক্ষায় এই পদক্ষেপ জরুরি।

৫. অনুপযুক্ত ব্যক্তিদের বাদ দিলে মূল্যায়ন ভালো হয়।

ব্ল্যাকলিস্টেড শিক্ষকদের মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি পরীক্ষার ন্যায্যতা নষ্ট করে। তাই প্রতিষ্ঠানকে খুব মনোযোগ দিয়ে যাচাই করতে হবে যে কোনো অনিয়মের সাথে জড়িত শিক্ষক কি তালিকায় আছেন কিনা। যদি থাকেন, তবে তাঁদের নাম অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও যদি তাঁরা মূল্যায়নে অংশ নিতে অনিচ্ছুক হন, তবে তাঁদেরও বাদ দিয়ে নতুন এবং সক্রিয় শিক্ষকদের সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে পুরো সিস্টেমটি আরও গতিশীল হবে।

আধুনিকীকরণ ও ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থাপনা

বর্তমানে সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল এবং আধুনিক করার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। eTIF এর মতো ডিজিটাল ডেটাবেস এই আধুনিকীকরণের একটি অংশ। কাগজপত্র কমানো এবং দ্রুত তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য। একসময় শিক্ষকদের তথ্য হাতে লেখা খাতায় সংরক্ষণ করা হতো, যা নিয়ে প্রায়ই হারানো বা ভুলের ঘটনা ঘটত। কিন্তু এখন সবকিছু অনলাইনে থাকায় তথ্য পাওয়া সহজ হয়েছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত আপডেট এবং সততা। ডিজিটাল সিস্টেমের সুবিধা পেতে হলে আমাদেরও সচেতন হতে হবে।

১. ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে এই পদক্ষেপ সহায়ক।

২. কাগজপত্র ব্যবহার কমে যাচ্ছে।

৩. তথ্য প্রাপ্তি এখন খুব সহজ ও দ্রুত।

৪. ডেটাবেস নিরাপদ এবং সুরক্ষিত থাকে।

৫. আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে।

ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করেছে। এখন কেউ ভুল তথ্য দিয়ে সুবিধা নিতে পারে না। সবকিছু অনলাইনে ট্র্যাক করা সম্ভব। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে বোর্ডের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এই আধুনিকীকরণের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে বাধ্য। যদি কেউ এই প্রযুক্তির সুযোগ নিতে চায়, তবে তাকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ডিজিটাল কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পাবে, তাই এখন থেকেই অভ্যস্ত হওয়া প্রয়োজন।

২০২৬ সালের পরীক্ষার প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

২০২৬ সালের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে বোর্ড ইতিমধ্যেই নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই পরীক্ষাগুলো যেন সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্র ফাঁস মুক্ত এবং ন্যায্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে। eTIF আপডেট করা হলো তারই একটি অংশ। সঠিক পরীক্ষক নিয়োগ দিলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা রোধ করা সহজ হয়। এছাড়াও, পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত প্রকাশের জন্যও এই প্রস্তুতি জরুরি। বোর্ড চাইছে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনিয়ম যেন না ঘটে।

১. ২০২৬ সালের পরীক্ষা নিয়ে বোর্ড আশাবাদী।

২. প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

৩. ন্যায্য মূল্যায়নের জন্য প্রস্তুতি চলছে।

৪. দ্রুত ফলাফল প্রকাশ লক্ষ্য।

৫. শিক্ষার মান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ।

ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে এই নিয়মগুলো প্রয়োগ করা হবে বলে জানা গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকেই সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাঁরা এখন গাফিলতি করবেন, তাঁরা পরবর্তীতে বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। তাই সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্তত উজ্জ্বল করতে এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমাদের সবার লক্ষ্য উন্নত এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

সারসংক্ষেপ ও সমাপনী অনুরোধ

সব মিলিয়ে, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে প্রকাশিত এই নির্দেশনা অত্যন্ত যথার্থ। eTIF সংশোধন করা কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব। উত্তরপত্র মূল্যায়নের মান নিশ্চিত করার জন্য সঠিক এবং আপডেটেড শিক্ষক তথ্য অপরিহার্য। প্রতিটি স্কুল এবং কলেজ প্রধানকে অবশ্যই এই বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে হবে। কোনো ধরনের অবহেলা যেন না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

১. বোর্ডের নির্দেশনা মেনে চলা আবশ্যিক।

২. eTIF আপডেট করা সময়ের দাবি।

৩. সঠিক মূল্যায়নের স্বার্থে এটি জরুরি।

৪. শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি সকলের দায়িত্ব।

৫. সবাইকে সচেতন হতে হবে।

আমরা আশা করি, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বোর্ডের এই আহ্বানে সাড়া দেবে। তাঁরা তাদের ওয়েবসাইটে লগইন করে অবশ্যই প্রয়োজনীয় সংশোধন করবেন। এতে করে আগামী দিনের পরীক্ষাগুলো আরও সুন্দর এবং সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের সবার উদ্দেশ্য হলো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্যে এই ছোট পদক্ষেপটি আজ আমাদের নিতে হচ্ছে। ধন্যবাদ সবাইকে সহযোগিতার জন্য।

প্রশ্ন এবং উত্তর

১. ২০২৬ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার eTIF সংশোধনের মূল কারণ কী?

উত্তর: উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য একটি নির্ভুল এবং আপডেটেড ডেটাবেস তৈরি করা এর মূল কারণ। এতে করে যোগ্য পরীক্ষক নিয়োগে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হবে না।

২. ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত চিঠিতে কোন তারিখটি উল্লেখ করা হয়েছে?

উত্তর: চিঠিটি মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। এই তারিখে শিক্ষা বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশনা জারি করেন।

৩. কোন কোন শ্রেণীর শিক্ষকদের নাম eTIF থেকে অপসারণ করতে বলা হয়েছে?

উত্তর: যাঁরা অবসর নিয়েছেন, মৃত্যুবরণ করেছেন, অন্যত্র বদলি হয়েছেন, স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন, বোর্ড থেকে কালো তালিকাভুক্ত হয়েছেন এবং খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

৪. eTIF সঠিকভাবে সংশোধন না করলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

উত্তর: এতে উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য প্রধান পরীক্ষক বা সহকারী পরীক্ষক নিয়োগে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভুল ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৫. ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কি সরাসরি eTIF সংশোধন করতে পারে?

উত্তর: না, শিক্ষা বোর্ড থেকে eTIF সংশোধন করার কোনো সুযোগ নেই। এই দায়িত্ব একান্তই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের।

৬. কালো তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের নাম কেন তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে?

উত্তর: কালো তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের নাম থাকলে পরীক্ষার ন্যায্যতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বার্থে তাঁদের নাম অবশ্যই বাদ দিতে হবে।

৭. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এই বিষয়ে কী করতে হবে?

উত্তর: প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিজেদের লগইন আইডি ব্যবহার করে eTIF-এ প্রবেশ করতে হবে। তারপর নির্দেশনা অনুযায়ী অযোগ্য বা অনুপস্থিত শিক্ষকদের নাম কর্তন করে তালিকা আপডেট করতে হবে।

আরো পড়ুন

জুলাই বিপ্লবের বীরদের জন্য আসছে ঐতিহাসিক ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’!

ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার কারিগরদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে সরকার একটি বিশেষ ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ (Indemnity Ordinance) প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (NSU) ২৬তম সমাবর্তন: ডিগ্রি পেলেন ৩৩২২ গ্র্যাজুয়েট

রাজধানীর বসুন্ধরায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (NSU) প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬তম সমাবর্তন। জীবনের নতুন ধাপে পা রাখা ৩,৩২২ জন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে অর্জিত কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রি। রঙিন গাউন আর হ্যাট পরে উল্লাসে মেতে ওঠা এই তরুণদের চোখে ছিল আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন।

রাজধানীতে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’: ১২০০ যোদ্ধা ও সাংবাদিককে বিশেষ স্মারক প্রদান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা এবং আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য 'জুলাই বীর সম্মাননা' অনুষ্ঠান। আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ঐতিহাসিক ফেলানী হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং সাহসী সাংবাদিকদের বিশেষ সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ