Sunday, June 28, 2026

ফুটবল খেলা কি হারাম, নাকি জায়েজ? যা বললেন ডা. জাকির নায়েক

বহুল পঠিত

ফুটবল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটি। কোটি কোটি মানুষ এই খেলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে যুক্ত। কেউ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে দৌড়াচ্ছেন, কেউ গ্যালারিতে বা টিভির সামনে বসে প্রিয় দলের সমর্থন করছেন, আবার কেউ এটিকে নিজের জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তবে মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় প্রশ্ন আলোচিত হয়ে আসছে ফুটবল খেলা কি ইসলামে বৈধ? আর পেশা বা ক্যারিয়ার হিসেবে ফুটবলকে গ্রহণ করা কতটুকু শরিয়তসম্মত?

এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই বিভিন্ন প্রখ্যাত আলেমের মতামতের দিকে তাকান। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি বক্তা ডা. জাকির নায়েক এ বিষয়ে অত্যন্ত বিস্তারিত ও সহজ আলোচনা করেছেন। তিনি একদিকে যেমন ফুটবল খেলার শারীরিক উপকারিতা তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে পেশাদার ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ধর্মীয় বা শরিয়তগত চ্যালেঞ্জগুলোও পরিষ্কারভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি তাঁর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এই বিষয়ে যে চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা আজকের এই প্রতিবেদনে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।

সাধারণভাবে ফুটবল খেলার ইসলামি বিধান

ডা. জাকির নায়েক তাঁর আলোচনায় শুরুতেই সাধারণ নিয়মে ফুটবল খেলার বিধান স্পষ্ট করেছেন। ইসলামের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, আপনি যে খেলাই খেলুন না কেন, তা যদি আপনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট ও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে এবং কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষার বিরোধী কোনো কাজের দিকে নিয়ে না যায়, তাহলে তা ইসলামে পুরোপুরি অনুমোদিত।

ফুটবল এমন একটি খেলা যা খেলোয়াড়দের প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম করায় এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই ফুটবল খেলা যদি আপনাকে ফিট থাকতে সাহায্য করে এবং এর কারণে আপনার দ্বারা কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কোনো কাজ না হয়, তবে সাধারণ হিসেবে ফুটবল খেলা মোটেও হারাম নয়।

পেশা হিসেবে ফুটবল: আলেমদের মধ্যে মতভেদ

সাধারণভাবে খেলা আর এটিকে নিজের প্রধান পেশা বা চাকরি হিসেবে বেছে নেওয়ার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। পেশা হিসেবে ফুটবল খেলার ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ বা ভিন্ন ভিন্ন মতামত আছে।

অনেক বিখ্যাত আলেম বলেন যে, পেশা হিসেবে ফুটবল খেলাকে বেছে নেওয়া বৈধ নয় এবং এটি সম্পূর্ণ হারাম। তাঁদের মধ্যে একজন অত্যন্ত বিখ্যাত আলেম হলেন শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম। তিনি তাঁর বিখ্যাত ফতোয়া গ্রন্থের ৮ম খণ্ডের ১১৬ থেকে ১১৯ পৃষ্ঠায় বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেছেন যে, কেন পেশা হিসেবে ফুটবল খেলা হারাম।

শায়খ ইব্রাহিমের ফতোয়া: ফুটবল কেন হারাম?

শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম তাঁর ফতোয়ায় বলেছেন যে, ফুটবলের পেশাদারিত্বের ভেতরের খুঁটিনাটি ও বিস্তারিত বিবরণ না জেনে কারও এই বিষয়ে ঢালাও ফতোয়া দেওয়ার অধিকার নেই যে এটি অনুমোদিত নাকি অনুমোদিত নয়। তিনি পেশাদার ফুটবল হারাম হওয়ার পেছনে প্রধান ৫টি কারণ তালিকাভুক্ত করেছেন:

  • ১. সতরের সমস্যা: পেশাদার ফুটবলে ছোট হাফপ্যান্ট পরতে হয়, যার কারণে অনেক সময় সতরের ব্যাপারে আপস করতে হতে পারে এবং সতর মানুষের সামনে উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে।
  • ২. নামাজ ছুটে যাওয়া: খেলার নির্দিষ্ট সময়সূচীর কারণে জামায়াতে নামাজ ছুটে যেতে পারে বা নামাজ পুরোপুরি কাজা হয়ে যেতে পারে।
  • ৩. দলাদলি ও কোন্দল: এই খেলাকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে চরম দলাদলি, হিংসা বা কোন্দল তৈরি হতে পারে।
  • ৪. আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি: ফুটবলে মারাত্মক আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। প্রায়শই খেলোয়াড়দের হাত-পা বা হাড় ভেঙে যায়। এই কারণেই ফুটবল ম্যাচের সময় মাঠের পাশে সবসময় অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখতে দেখা যায়।
  • ৫. অমুসলিম দেশে সফর: আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার জন্য অনেক সময় বিভিন্ন অমুসলিম দেশে যেতে হয়, যেখানে যাওয়ার পর বিভিন্ন হারাম ও অনৈসলামিক কাজে লিপ্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে।

এসব বড় বড় বিষয়ের কারণে শায়খ ইব্রাহিম ফতোয়া দিয়েছেন যে, পেশা হিসেবে ফুটবল খেলা হারাম।

শায়খ ইব্রাহিমের ফতোয়ার সাথে ডা. জাকির নায়েকের দ্বিমত

ডা. জাকির নায়েক বলেন, “আমি শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিমের ফতোয়ার অনেকখানি কথার সাথে একমত, তবে পুরোপুরি নই।” তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন যে, শায়খ ইব্রাহিম পেশা হিসেবে ফুটবলের যে স্তরের কথা বলছেন তা মূলত অনেক উঁচু বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের।

বিশ্বমানের ফুটবল খেলোয়াড় হওয়া, বিশ্বকাপ বা ইউরো কাপের মতো শীর্ষ স্তরে খেলার ক্ষেত্রে শায়খ ইব্রাহিমের কথা অনেকখানি সঠিক। কিন্তু একদম সাধারণ স্তর থেকে শুরু করে সব ধরনের ফুটবল খেলাকে ঢালাওভাবে পেশা হিসেবে হারাম বলা এই বিষয়ে ডা. জাকির নায়েক দ্বিমত পোষণ করেন।

সাধারণ স্তরে পেশাদার ফুটবল কেন জায়েজ?

ডা. জাকির নায়েক বলেন, পেশাদার ফুটবলার হওয়ার মানেই এটা নয় যে আপনাকে সবসময় বিশ্বকাপ, অলিম্পিক বা ইউরো কাপেই খেলতে হবে। বিশ্বের মোট ফুটবল খেলোয়াড়দের মধ্যে হয়তো মাত্র ০.১ শতাংশের চেয়েও কম খেলোয়াড় সেই আন্তর্জাতিক শীর্ষ স্তরে পৌঁছাতে পারেন।

তিনি তাঁর বোম্বে (মুম্বাই) জীবনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে তাঁর এমন অনেক বন্ধু ছিলেন যারা স্থানীয় বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি কোম্পানিতে (যেমন: রেলওয়ে বা কাস্টমস) চাকরি করতেন এবং কোম্পানির হয়ে ফুটবল খেলতেন। এই সেক্টরগুলোতে অনেক সময় যারা খেলাধুলায় ভালো, পড়াশোনায় ততটা ভালো না হলেও তাদের চাকরি দেওয়া হয় এবং পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলা হয়।

সাধারণ বা লোকাল স্তরের এই খেলার ক্ষেত্রে শায়খ ইব্রাহিম যেসব সমস্যার কথা বলেছেন, মুসলিম খেলোয়াড়েরা চাইলে খুব সহজেই সেগুলো এড়িয়ে চলতে পারেন:

  • সতরের সমাধান: একজন মুসলিম খেলোয়াড় চাইলে সহজেই হাঁটু ঢাকা লম্বা শর্টস বা হাফপ্যান্ট পরিধান করে খেলতে পারেন।
  • নামাজের সমাধান: ফুটবল ম্যাচ সাধারণত মাঝখানের বিরতিসহ মাত্র দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মতো হয়। এটি দিনের বেলা বা সন্ধ্যায় এমন সময়ে খেলা যায় যখন নামাজের জামায়াতের সময় থাকে না। তাছাড়া মুসলিম দেশে ম্যাচের সময় নির্ধারণ করার সময় নামাজের জামায়াতের সময়ের দিকে খেয়াল রাখা হয়।

ডা. জাকির নায়েকের যুক্তি: “আমি অনেক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি মানুষকে চিনি যারা ফুটবল খেলেন। আবার অনেক কনস্ট্রাকশন কর্মী বা সেলসম্যান আছেন যারা ব্যস্ততার কারণে নামাজ পড়েন না। তাই বলে কি কনস্ট্রাকশন বা বিক্রয়কর্মীর পেশা হারাম হয়ে যাবে? অবশ্যই না! নামাজ না পড়াটা সেই ব্যক্তির নিজের ভুল, পেশার নয়। ফুটবলেও নামাজ পড়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।”

তাই ডা. জাকির নায়েকের মতে, সাধারণ স্তরে বা স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলকে পেশা হিসেবে নেওয়াকে বড়জোর ‘মাকরূহ’ বলা যেতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই ‘হারাম’ বলা যায় না।

ক্রিকেট বনাম ফুটবল: ডা. জাকির নায়েকের ব্যক্তিগত মত

ডা. জাকির নায়েক তাঁর আলোচনায় ক্রিকেট খেলার চেয়ে ফুটবল খেলাকে বেশি ভালো ও উপকারী মনে করেন। তিনি বলেন, “আমি ক্রিকেট পছন্দ করি না। ক্রিকেট খেলা পাঁচ দিন বা পুরো এক দিন ধরে চলে, এটি একটি অত্যন্ত বিরক্তিকর খেলা। আমি বলছি না যে ক্রিকেট খেলা হারাম, কিন্তু এতে শারীরিক পরিশ্রম অনেক কম।”

তার বিপরীতে ফুটবলে মাত্র দেড় ঘণ্টা সময় যেভাবে দৌড়াতে হয়, তাতে যে পরিমাণ শক্তি ও স্ট্যামিনার প্রয়োজন হয়, তা শরীরের স্বাস্থ্যের জন্য ক্রিকেটের চেয়ে অনেক বেশি ভালো। এই কারণে ডা. জাকির নায়েক তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠিত স্কুলেও ক্রিকেটকে নিষিদ্ধ না করলেও কখনো উৎসাহিত করেননি, বরং ছাত্রদের ফুটবল খেলতে বেশি উৎসাহিত করতেন।

উচ্চস্তর বা আন্তর্জাতিক ফুটবলের যত বড় ঝুঁকি

ডা. জাকির নায়েক স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো খেলোয়াড় যখন সাধারণ স্তর পার হয়ে রাজ্য স্তর বা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে চলে যান, তখন ইসলামের সব ফরজ বিধান মেনে চলা সত্যিই অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক স্তরে পেশা হিসেবে ফুটবল খেললে কেন সমস্যা বাড়ে, তার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. জুয়া ও বাজির প্রভাব

জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরের ফুটবল ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে প্রচুর জুয়া ও বাজি ধরা হয়। তবে ডা. জাকির নায়েক বলেন, খেলোয়াড় নিজে যদি এই বাজির সাথে সরাসরি জড়িত না থাকেন, তবে তিনি গুনাহগার হবেন না।

২. হারাম স্পনসরশিপ ও ব্র্যান্ডিং

আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো টি-শার্টের স্পনসরশিপ। অনেক সময় বিখ্যাত ফুটবলারদের এমন সব কোম্পানির লোগো দেওয়া টি-শার্ট পরতে হয় যাদের ব্র্যান্ডিং করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম যেমন মদের কোম্পানি বা সুদী ব্যাংক। আপনি একজন মুসলিম হয়ে মদের বা সুদের বিজ্ঞাপন নিজের শরীরে জড়িয়ে প্রচার করতে পারেন না। যখন কোটি কোটি ডলারের অফার আসে, তখন নিজের নফস বা লোভ সংবরণ করে ‘না’ বলা অনেক খেলোয়াড়ের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে।

৩. ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও কোকাকোলা বিতর্ক

উচ্চপর্যায়ে ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষমতা বোঝাতে ডা. জাকির নায়েক ইউরো কাপ ২০২০ (যা ২০২১ সালে হয়েছিল) এর একটি বিখ্যাত ঘটনার উদাহরণ দেন। পর্তুগালের বিশ্ববিখ্যাত ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো একটি ইন্টারভিউয়ের টেবিলে বসে সামনে রাখা কোকাকোলার দুটি ক্যান সরিয়ে দেন এবং পানির বোতল তুলে ধরে বলেন ‘আকুয়া’ (পানি পান করুন)।

তাঁর এই সামান্য একটি ইশারার কারণে মাত্র দুই দিনের মধ্যে কোকাকোলা কোম্পানির শেয়ারের দাম ব্যাপক কমে যায় এবং তাদের প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আর্থিক লোকসান হয়। ডা. জাকির নায়েক গুগলে সার্চ করে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, একজন তারকা খেলোয়াড়ের ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষমতা কতটা শক্তিশালী।

৪. পল পগবা ও অ্যালকোহল ক্যান

একই টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের বিখ্যাত মুসলিম ফুটবলার পল পগবা তাঁর ইন্টারভিউয়ের সামনে রাখা একটি বিয়ার বা অ্যালকোহলের বোতল আলতো করে সরিয়ে পাশে রেখে দেন। এটি দেখে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ প্রশংসা করে। এর ঠিক কয়েকদিন পরেই ইউরো কাপ কর্তৃপক্ষ নতুন নিয়ম পাস করে জানায় যে, ভবিষ্যতে কোনো মুসলিম খেলোয়াড় যখন ইন্টারভিউ দেবেন, তখন তাঁর সামনে কোনো অ্যালকোহল বা মদ জাতীয় পানীয় রাখা হবে না।

ডা. জাকির নায়েক বলেন, আন্তর্জাতিক স্তরে এমন কিছু দৃঢ় ইমানের মুসলিম খেলোয়াড় আছেন যারা মদের বিজ্ঞাপন বা হারামের প্রচার করতে বুক ফুলিয়ে ‘না’ বলতে পারেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য এই বিশাল অর্থের লোভ ও গ্ল্যামার এড়িয়ে চলা অত্যন্ত কঠিন।

চূড়ান্ত সারমর্ম

ডা. জাকির নায়েকের পুরো আলোচনার মূল সারকথা হলো ফুটবল খেলা নিজের জায়গায় কোনো হারাম খেলা নয়; বরং এটি একটি অত্যন্ত উপকারী, স্বাস্থ্যসম্মত এবং স্ট্যামিনা বাড়ানোর মতো চমৎকার খেলাধুলা। তবে পেশা বা ক্যারিয়ার হিসেবে ফুটবলের বৈধতা সম্পূর্ণ নির্ভর করে একজন খেলোয়াড় ইসলামের ফরজ বিধানগুলো কতটুকু মেনে চলতে পারছেন তার ওপর।

  • সাধারণ বা লোকাল পর্যায়ে: শরিয়তের সীমারেখা, সতর এবং সঠিক সময়ে নামাজ রক্ষা করে ফুটবল খেলা এবং এর মাধ্যমে চাকরি বা জীবিকা অর্জন করা সম্পূর্ণ জায়েজ এবং এটি নিশ্চিতভাবেই হারাম নয়।
  • আন্তর্জাতিক বা উচ্চপর্যায়ে: এই স্তরে প্রচুর গ্ল্যামার, প্রলোভন, হারাম স্পনসরশিপ এবং অনৈসলামিক পরিবেশ থাকার কারণে ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই কেউ যদি এই স্তরকে হারাম বা মাকরূহ বলেন, তবে তা গ্রহণযোগ্য।

একজন মুসলিমের জন্য প্রধান বিষয় হলো ফুটবল নয়, বরং নিজের দ্বীন ও ইমানের ওপর অবিচল থাকা। খেলাধুলা যদি মানুষকে আল্লাহর ইবাদত থেকে দূরে সরিয়ে দেয় তবে তা বর্জনীয়, আর যদি সীমার মধ্যে থেকে শরীরকে সুস্থ রাখে তবে তা অবশ্যই কল্যাণকর।

আরো পড়ুন

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সঙ্গী ও বন্ধু কারা? ইহকাল ও পরকালে কল্যাণের পথ দেখাবে যে ৮টি অনন্য সম্পর্ক

মানুষের সামাজিক জীবনে অসংখ্য সম্পর্ক প্রতিনিয়ত তৈরি হয় এবং ভেঙে যায়। এর মধ্যে কিছু সম্পর্ক থাকে খুবই ক্ষণস্থায়ী, আবার কিছু সম্পর্ক দুনিয়ার সীমানা অতিক্রম...

হতাশা কাটানোর আমল: মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির ৬টি কার্যকরী উপায়

বর্তমান যুগের কর্মব্যস্ত জীবনে হতাশা, দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা যেন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই, আর্থিক সমস্যা, পারিবারিক অশান্তি কিংবা...

সদকায়ে জারিয়া: মৃত্যুর পরও যে ১০ উপায়ে সওয়াব জারি থাকে; ইসলামের আলোতে বিশেষ বিশ্লেষণ

পৃথিবীর জীবন ক্ষণস্থায়ী। প্রতিটি মানুষকেই একদিন এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। মৃত্যুর সাথে সাথে মানুষের সব রকমের জাগতিক কাজকর্ম এবং আমল করার...
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ