ঢাকা, ৪–৬ ডিসেম্বর ২০২৫: রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি (ICCB)-তে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক লেদার প্রদর্শনী ‘লেদারটেক বাংলাদেশ ২০২৫’। বিশ্বজুড়ে খ্যাতনামা লেদার উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীতে এবারের বিশেষ আকর্ষণ পাকিস্তানের লেদার ইন্ডাস্ট্রি।
পাকিস্তানি ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে ১৫টি কোম্পানির অংশগ্রহণ

প্রদর্শনীতে পাকিস্তান ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (PTA)-এর নেতৃত্বে পাকিস্তানের ১৫টি শীর্ষস্থানীয় লেদার কোম্পানি অংশগ্রহণ করছে। তারা বাংলাদেশের বাজারে পাকিস্তানের লেদার পণ্যের বৈচিত্র্য ও গুণমান তুলে ধরছে। তাদের প্রদর্শিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে-
- উচ্চমানের চামড়া
- ফিনিশড লেদার
- লেদার গার্মেন্টস
- জুতা ও জুতা শিল্পের কাঁচামাল
- ফ্যাশন লেদার অ্যাক্সেসরিজ
প্রদর্শনীস্থলে স্থাপিত পাকিস্তান প্যাভিলিয়ন ইতোমধ্যেই ব্যবসায়ীদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে।
হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের উদ্বোধন
বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার মিঃ ইমরান হায়দার আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন-
“পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে এখনো অনেক অনাবিষ্কৃত বাণিজ্য সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে লেদার শিল্পসহ বিভিন্ন সেক্টরে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ী পর্যায়ের সংযোগ যত শক্তিশালী হবে, ততই দুই দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তানের লেদার ইন্ডাস্ট্রি বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদন করে এবং বাংলাদেশি আমদানিকারকদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হতে পারে।
বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয় দেশই দক্ষিণ এশিয়ার লেদার বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি লেদার বাণিজ্যের পরিমাণ খুব বেশি নয়। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরা জানান—
- বাংলাদেশে লেদার সেক্টরের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে
- পাকিস্তানের লেদার পণ্য বাংলাদেশি নির্মাতাদের জন্য ভালো মানের কাঁচামালের উৎস হতে পারে
- ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগে (Joint Venture) কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনাও রয়েছে
দর্শনার্থীরা পাকিস্তানি পণ্যের গুণমানে মুগ্ধ
প্রদর্শনীতে আসা দর্শনার্থী, ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা পাকিস্তানের প্রদর্শিত চামড়া ও লেদার ফিনিশিংয়ের মান দেখে মুগ্ধ হন। অনেক ব্যবসায়ী জানান, পাকিস্তানি লেদার পণ্য আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এবং মূল্যও প্রতিযোগিতামূলক।
প্রদর্শনীতে পাকিস্তান প্যাভিলিয়নের ভিজিটরদের বেশিরভাগই জানান-
“পণ্যের গুণমান, রং, ফিনিশিং এবং দাম- সবকিছুই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার মতো।”
সমাপনী কথা
লেদারটেক বাংলাদেশ ২০২৫ শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার লেদার শিল্পের ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করার একটি সেতুবন্ধন। পাকিস্তানি কোম্পানিগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ দুই দেশের বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশ–পাকিস্তান লেদার ব্যবসায় আরও সমৃদ্ধ সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা।





