বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক অজেয় মহাকাব্যের নাম বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক পরিক্রমায় অসংখ্য চড়াই-উতরাই পেরিয়েও ভোটের ময়দানে তিনি থেকেছেন অনন্য। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী এমন এক বিরল রেকর্ডের অধিকারী, যা দেশের আর কোনো রাজনীতিবিদের ঝুলিতে নেই। ৫টি সংসদ নির্বাচনে ২৩টি আসনে লড়াই করে সবকটিতেই জয়ের রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
ভোটের ইতিহাসে অজেয় যাত্রা
১৯৯১ থেকে ২০০৮- এই দীর্ঘ সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যতবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন, কোনোটিতেই পরাজয় তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। এমনকি যখন তাঁর দল বিএনপি পরাজিত হয়েছে, তখনও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা তাকে বিজয়ী করে এনেছে।
এক নজরে বেগম জিয়ার নির্বাচনী ম্যাজিক:
- ১৯৯১ (৫ম সংসদ নির্বাচন): খালেদা জিয়া ৫টি আসনে (বগুড়া–৭, ঢাকা–৫, ঢাকা–৯, ফেনী–১ ও চট্টগ্রাম–৮) লড়ে সবকটিতে জয়ী হন। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন তিনি।
- ১৯৯৬ (৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচন): ফেনী–১ ও ২, বগুড়া–৭, সিরাজগঞ্জ–২ ও রাজশাহী–২—এই ৫টি আসনেই তিনি জয়লাভ করেন।
- ১৯৯৬ (৭ম সংসদ নির্বাচন): দল সরকার গঠন করতে না পারলেও খালেদা জিয়া ব্যক্তিগতভাবে ৫টি আসনেই (বগুড়া–৬, ৭, ফেনী–১, লক্ষ্মীপুর–২ ও চট্টগ্রাম–১) বিপুল ভোটে জয়ী হন।
- ২০০১ (৮ম সংসদ নির্বাচন): এই নির্বাচনেও ৫টি আসনে (বগুড়া–৬, ৭, খুলনা–২, ফেনী–১ ও লক্ষ্মীপুর–২) তাঁর বিজয় রথ কেউ থামাতে পারেনি। তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।
- ২০০৮ (৯ম সংসদ নির্বাচন): নির্বাচন কমিশন ৩টি আসনের বেশি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত করলে তিনি বগুড়া–৬, ৭ ও ফেনী–১ আসন থেকে লড়াই করে সবকটিতেই বিজয়ী হন।
বিরল নজিরের নেপথ্যে
৫টি নির্বাচনে ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং একটিতেও না হারা বিশ্ব রাজনীতিতেও এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ। বিএনপি চেয়ারপারসনের এই ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে বিশ্লেষকরা তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের সাথে সুগভীর সংযোগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখেন।
২০১৪ ও ২০২৪-এর নির্বাচন বয়কট এবং ২০১৮-তে আইনি জটিলতায় অংশ নিতে না পারলেও, খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা ম্লান হয়নি। দীর্ঘ সময় পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তাঁর ৩টি আসন (বগুড়া–৭, দিনাজপুর–৩ ও ফেনী–১) থেকে অংশ নেওয়ার খবর তাঁর সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছিল।