দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ ২’ দেশজুড়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। গত কয়েক দিনের টানা অভিযানে পুলিশের তৎপরতায় অপরাধী চক্রে নেমে এসেছে আতঙ্ক, আর সাধারণ মানুষের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি ও আস্থার অনুভূতি।
অপরাধ দমনে অভাবনীয় সাফল্য
বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাত্র দুই দিনের ভিন্ন ভিন্ন ২৪ ঘণ্টার অভিযানে মোট ১,৪৩২ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী অপরাধী, মাদককারবারি ও আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী চক্রকে আইনের আওতায় আনা।
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ ২ | বিপুল অস্ত্র উদ্ধার
অভিযানের সময় পুলিশ মোট ৩৩টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, যা বড় ধরনের অপরাধ ও সহিংসতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সর্ববৃহৎ তল্লাশি অভিযান
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে পরিচালিত এই অভিযানে-
- ৪৩ হাজারের বেশি মোটরসাইকেল
- ৩৮ হাজারের বেশি গাড়ি
তল্লাশি করা হয়েছে। এর ফলে সন্দেহভাজন চলাচল নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং অপরাধীদের গোপন গতিবিধি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ও অপরাধ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে প্রায় ৮০০টি অবৈধ মোটরসাইকেল আটক করা হয়েছে।
এতে সড়ক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে অভিযানটি।
অপারেশন হাইলাইটস (২১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত)
- গ্রেফতার: ৬৪৯ জন
- উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র: ১৪টি
- তল্লাশাকৃত মোটরসাইকেল: ২৩,১৪৯টি
- তল্লাশাকৃত গাড়ি: ২০,৭৬৯টি
- আটককৃত মোটরসাইকেল: ৪৪৪টি
নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার পথে দৃঢ় অঙ্গীকার
বাংলাদেশ পুলিশের এই কঠোর, পরিকল্পিত ও নিরলস অভিযানের ফলে দেশজুড়ে অপরাধ দমনে দৃশ্যমান অগ্রগতি এসেছে। জনমনে ফিরে এসেছে নিরাপত্তার অনুভূতি, স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে। অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
নিঃসন্দেহে এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও সক্ষমতার প্রমাণ।
সুত্র: বাংলাদেশ পুলিশ