সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর চূড়ান্ত ফলাফলে স্থান পাওয়া হাজার হাজার প্রার্থীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই তারিখের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তির মূল বক্তব্য ও যোগদানের পরবর্তী ধাপ
উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, নিয়োগযোগ্য শূন্য পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের যথাসময়ে ডাকযোগে বা নির্দিষ্ট নিয়মে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়োগের পরবর্তী ধাপগুলো যেভাবে সম্পন্ন হবে:
- ১ অক্টোবর যোগদান: নির্বাচিত সকল প্রার্থী নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করবেন।
- স্কুলে পদায়ন: জেলা শিক্ষা অফিসে যোগদানের পরপরই প্রার্থীদের খালি থাকা নির্দিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পদায়ন (Posting) করা হবে।
- পেশাগত প্রশিক্ষণ: পদায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নবনিযুক্ত এসব শিক্ষকদের শিক্ষকতা ও পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে।
২৯ অক্টোবরের প্রস্তাব বাতিল, দ্রুত যোগদানের সিদ্ধান্ত
এর আগে, শনিবার মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভায় প্রাক-নিয়োগ তদন্ত (পুলিশ ভেরিফিকেশন) ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার কথা চিন্তা করে প্রাথমিক শিক্ষক যোগদানের তারিখ ২৯ অক্টোবর নির্ধারণ করার কথা ভাবা হয়েছিল।
ভার্চ্যুয়াল সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে কাজ কিছুটা ধীরগতির হলেও সরকার যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ের মধ্যে যোগ্য শিক্ষকদের স্কুলে পাঠাতে চায়। পরবর্তীতে রবিবারের পর্যালোচনার পর প্র প্রার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির কথা বিবেচনা করে প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ১ অক্টোবরকেই যোগদানের চূড়ান্ত তারিখ হিসেবে সিলমোহর দেওয়া হয়।
মোট পদসংখ্যা ও নিয়োগ পরীক্ষার পূর্বাপর ইতিহাস
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশজুড়ে মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করবেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
| ধাপ | তারিখ / তথ্য |
| এমসিকিউ পরীক্ষা | চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি (পার্বত্য ৩ জেলা ব্যতিত ৬১ জেলায়) |
| লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ | ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী |
| চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ | গত ৮ ফেব্রুয়ারি |
| চূড়ান্ত নির্বাচিত প্রার্থী | ১৪ হাজার ৩৮৪ জন |
| চুড়ান্ত যোগদানের তারিখ | ১ অক্টোবর ২০২৬ |
আন্দোলন ও সরকারের ইতিবাচক আশ্বাস
পরীক্ষা ও ভাইভাসহ যাবতীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনেক আগেই শেষ হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচিত শিক্ষকেরা দীর্ঘ সময় যোগদান করতে পারছিলেন না। এই বিলম্বের কারণে গত এপ্রিল মাসের শেষ দিকে রাজধানী ঢাকায় সমবেত হয়ে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন চাকরিপ্রার্থীরা।
প্রার্থীদের এই যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, প্রশাসনিক নিরাপত্তা ভেরিফিকেশনসহ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই দ্রুত শেষ করে তাদের সরাসরি যোগদানের ব্যবস্থা করা হবে। অবশেষে মন্ত্রণালয়ের আজকের এই আদেশের ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪টি পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে।




