সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের বিদায়ী সাক্ষাৎ

বহুল পঠিত

ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত দেখা গেছে। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান, তেজগাঁওস্থ প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে আসেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতের শুরুতেই দুই প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দায়িত্বকালীন সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও মতামত বিনিময় করেন।

নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও কৃতজ্ঞতা

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর সহযোগিতা দেশের শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রফেসর ইউনূসের মতে, সেনাপ্রধানের পেশাদারিত্ব, দায়িত্বপরায়ণতা এবং সময়োপযোগী সমন্বয় নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে অবদান রেখেছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সহযোগিতা

এই সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাক্ষাতের সময় তারা ভবিষ্যতে দেশের নিরাপত্তা, সামাজিক শান্তি ও নাগরিকদের সুষ্ঠু নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কিভাবে একযোগে কাজ করতে পারে, তা নিয়েও সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে সরকারের কার্যক্রম এবং বিশেষ করে নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর সমন্বয়মূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে এই ধরনের আন্তঃসামরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তা

এই সাক্ষাৎ দেশের নাগরিকদের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করছে—যেখানে রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের কল্যাণে কাজ করছে। বিশেষ করে চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে, এই সৌজন্য সাক্ষাৎ দেশের স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও নেতৃত্বের দায়িত্ববোধের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরো পড়ুন

শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন ১২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি: কাল নতুন সরকারের অভিষেক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ, তারেক রহমান-এর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ এবং নতুন মন্ত্রিসভার অভিষেককে ঘিরে শেষ সময়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হবে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান

আগামী মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। রীতি অনুযায়ী বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হতো মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান। তবে এবার প্রথমবারের মতো এই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।

জামায়াতে ইসলামীর ঐতিহাসিক উত্থান: সর্বোচ্চ ভোট ও রাজপথে নতুন শক্তির বার্তা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে জোট-নির্ভর দল হিসেবে পরিচিত থাকলেও, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এ নিজেদের একক শক্তির এক বিশাল মহড়া দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে...
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ