শনিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৬

সেন্ট মার্টিনের প্রথম যাত্রা: ১২০০ পর্যটক নিয়ে তিন জাহাজের উদ্দেশ্যে যাত্রা

বহুল পঠিত

সেন্ট মার্টিনের প্রথম যাত্রা: পর্যটন মৌসুমের উদ্বোধন

মৌসুমের প্রথম যাত্রায় প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ১২০০ পর্যটক নিয়ে যাত্রা করেছে তিনটি জাহাজ। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে জাহাজগুলো রওনা হয়। প্রথম এই যাত্রায় অংশ নিতে ভোর থেকেই ঘাটে আসা শুরু করেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যাত্রীরা। ক্রয় করা টিকিট প্রদর্শন করে জাহাজের আসন গ্রহণ করার আগে প্রত্যেক যাত্রীর হাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় ‘পরিবেশবান্ধব’ পানির বোতল। প্রথম যাত্রায় এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ নামের জাহাজগুলো যাত্রীদের নিয়ে যাত্রা করে। এই যাত্রার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সেন্ট মার্টিন পর্যটন মৌসুমের সূচনা হলো। পর্যটকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায় এবং তারা আশা করছেন সুন্দর একটি ভ্রমণ অভিজ্ঞতা হবে।

জাহাজের নাম এবং যাত্রার বিবরণ

সেন্ট মার্টিনের প্রথম যাত্রায় তিনটি জাহাজ অংশগ্রহণ করেছে। এগুলো হলো এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া এবং কেয়ারি সিন্দাবাদ। এই জাহাজগুলো মোট ১২০০ পর্যটক বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে এই জাহাজগুলো ছেড়ে যায়। জাহাজ মালিকদের ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের’ সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, প্রশাসন ৬টি জাহাজকে অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু যাত্রীর আনুপাতিক হার বিবেচনায় আজ ৩টি জাহাজ যাচ্ছে। জোয়ার-ভাটা এবং নদীর নাব্যতা বিবেচনায় প্রতিদিনের যাত্রার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সেন্ট মার্টিন থেকে ছেড়ে আসা জাহাজগুলো বিকেলে আবার কক্সবাজারের উদ্দেশে ফিরবে। জাহাজগুলো নিরাপদ এবং আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন বলে জানা গেছে।

পর্যটকদের জন্য নির্দেশিকা ও টিকিট ব্যবস্থা

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজগুলোতে যেতে পারবেন। পরবর্তী দুই মাস (৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত) দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে। যাত্রার ক্ষেত্রে পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে। পর্যটকদের অবশ্যই এই নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে। টিকিট সংগ্রহের পর যাত্রীদের নির্দিষ্ট সময়ের আগে ঘাটে উপস্থিত হতে হবে। টিকিট প্রদর্শন করে জাহাজে উঠতে হবে। প্রশাসন পর্যটকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং প্রশাসনের সহযোগিতা

সেন্ট মার্টিনের প্রথম যাত্রায় পর্যটকদের জন্য একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্রয় করা টিকিট প্রদর্শন করে জাহাজের আসন গ্রহণ করার আগে প্রত্যেক যাত্রীর হাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় ‘পরিবেশবান্ধব’ পানির বোতল। এই উদ্যোগটি পর্যটকদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্লাস্টিক দূষণ রোধে সহায়ক হবে। বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে প্রথম যাত্রার প্রারম্ভে পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই পর্যটক এবং সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কাম্য। প্রশাসন নিশ্চিত করতে চায় যে পর্যটকরা নিরাপদে এবং সুস্থ পরিবেশে ভ্রমণ করতে পারেন। এছাড়াও স্থানীয় জনগণের সাথে পর্যটকদের সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ: বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ

সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ যা বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার অন্তর্গত একটি ছোট দ্বীপ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নীল জলরাশি, সাদা বালুকাবিশিষ্ট সমুদ্র সৈকত এবং প্রবাল প্রাচীরের জন্য এই দ্বীপ দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। দ্বীপটি প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং এর জনসংখ্যা প্রায় ৭,০০০ জন। প্রতি বছর অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে পর্যটন মৌসুম থাকে। এ সময় হাজার হাজার পর্যটক এই দ্বীপ ভ্রমণ করতে আসেন। দ্বীপের প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে সমুদ্র সৈকত, চেরা দ্বীপ, নারিকেল বাগান, এবং সূর্যাস্ত দৃশ্য। পর্যটকরা এখানে সাঁতার, স্নরকেলিং এবং বিভিন্ন জলজ ক্রীড়া উপভোগ করতে পারেন।

পর্যটন মৌসুমের সময়সীমা এবং সুবিধা

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটন মৌসুম সাধারণত অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয়ে মার্চ মাস পর্যন্ত চলে। এবছর ডিসেম্বরের প্রথম দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন মৌসুমের উদ্বোধন হয়েছে। পরবর্তী দুই মাস (৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত) দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে। এর ফলে পর্যটকরা আরামে দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন এবং সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের মতো প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে পারবেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজগুলোতে যেতে পারবেন। এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে দ্বীপের পরিবেশ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য। পর্যটকদের জন্য দ্বীপে বিভিন্ন ধরনের আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে, যার মধ্যে হোটেল, মোটেল এবং কটেজ অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও খাবারের জন্য রয়েছে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট যেখানে স্থানীয় খাবার এবং সামুদ্রিক মাছের স্বাদ নেওয়া যায়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই পর্যটক এবং সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কাম্য। জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করা হয়েছে এবং জোয়ার-ভাটা এবং নদীর নাব্যতা বিবেচনায় প্রতিদিনের যাত্রার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। এছাড়াও দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষার জন্য পরিবেশবান্ধব পর্যটন উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হবে। সরকার এবং বেসরকারি সংস্থাগুলো মিলে সেন্ট মার্টিনকে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।

প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১: সেন্ট মার্টিনের প্রথম যাত্রায় কতজন পর্যটক এবং কতটি জাহাজ অংশগ্রহণ করেছে?

উত্তর: সেন্ট মার্টিনের প্রথম যাত্রায় ১২০০ পর্যটক এবং তিনটি জাহাজ অংশগ্রহণ করেছে।

প্রশ্ন ২: জাহাজগুলো কখন এবং কোথা থেকে ছেড়ে যায়?

উত্তর: জাহাজগুলো সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে ছেড়ে যায়।

প্রশ্ন ৩: প্রথম যাত্রায় কোন কোন জাহাজগুলো অংশগ্রহণ করেছে?

উত্তর: প্রথম যাত্রায় এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ নামের জাহাজগুলো অংশগ্রহণ করেছে।

প্রশ্ন ৪: পর্যটকদের কোথা থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে?

উত্তর: পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে।

প্রশ্ন ৫: টিকিটের সাথে কী কী থাকবে?

উত্তর: প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে।

প্রশ্ন ৬: প্রতিদিন সর্বোচ্চ কতজন পর্যটক সেন্ট মার্টিন যেতে পারবেন?

উত্তর: সরকারি নির্দেশনা মেনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজগুলোতে যেতে পারবেন।

প্রশ্ন ৭: সেন্ট মার্টিন দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ কতদিন থাকবে?

উত্তর: পরবর্তী দুই মাস (৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত) দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে।

প্রশ্ন ৮: প্রশাসন কর্তৃক কতটি জাহাজকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে?

উত্তর: প্রশাসন কর্তৃক ৬টি জাহাজকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন ৯: পর্যটকদের কী ধরনের উপহার দেওয়া হয়েছে?

উত্তর: প্রত্যেক যাত্রীর হাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে ‘পরিবেশবান্ধব’ পানির বোতল তুলে দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন ১০: কিউআর কোড ছাড়া টিকিট কীভাবে গণ্য হবে?

উত্তর: কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।

প্রশ্ন ১১: জাহাজগুলো সেন্ট মার্টিন থেকে কখন ফিরবে?

উত্তর: সেন্ট মার্টিন থেকে ছেড়ে আসা জাহাজগুলো বিকেলে আবার কক্সবাজারের উদ্দেশে ফিরবে।

আরো পড়ুন

জুলাই বিপ্লবের বীরদের জন্য আসছে ঐতিহাসিক ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’!

ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার কারিগরদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে সরকার একটি বিশেষ ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ (Indemnity Ordinance) প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।

রাজধানীতে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’: ১২০০ যোদ্ধা ও সাংবাদিককে বিশেষ স্মারক প্রদান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা এবং আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য 'জুলাই বীর সম্মাননা' অনুষ্ঠান। আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ঐতিহাসিক ফেলানী হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং সাহসী সাংবাদিকদের বিশেষ সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ড. ইউনূসের ডাক: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান

একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্তের অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ইউনূস। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সম্ভাব্য গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। ড. ইউনূসের মতে, এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র সংস্কারের এক বড় সুযোগ।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ