ঈদুল আজহার আমেজ এখনো কাটেনি। আর ঈদের সিনেমা নিয়ে দর্শকদের মাঝে আলোচনা-সমালোচনা তো লেগেই থাকে। এবারের ঈদে দেশের সিনেমা হলে মুক্তি পাওয়া অন্যতম আলোচিত সিনেমা হলো ‘রকস্টার’। আজমান রুশো পরিচালিত এই সিনেমায় নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। দেশের ১০৩টি সিনেমা হলে সফলভাবে প্রদর্শনের পর এবার সিনেমাটি যাচ্ছে প্রবাসীদের মাতাতে।
আগামী ৫ জুন থেকে ইউরোপ ও আমেরিকার মোট ৪১টি মাল্টিপ্লেক্সে একযোগে মুক্তি পাচ্ছে ‘রকস্টার’। এই খবরটি আসার পর থেকেই শাকিব ভক্ত এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন করে আনন্দের হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
কেমন সাড়া পাচ্ছে শাকিব খানের রকস্টার?
দেশের মাটিতে মুক্তির পর থেকেই ‘রকস্টার’ সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ সিনেমার মেকিং এবং শাকিব খানের লুকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, আবার কেউ কেউ গল্প নিয়ে কিছুটা সমালোচনাও করছেন। তবে সব সমালোচনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সিনেমাটি বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করছে।
সিনেমার গল্পটি মূলত গড়ে উঠেছে একজন রকস্টারের জীবনকে কেন্দ্র করে। তার উত্থান, আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা, ব্যক্তিগত জীবনের নানা টানাপোড়েন এবং শেষ পর্যন্ত পতনের এক হৃদয়স্পর্শী গল্প সেলুলয়েডে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শাকিব খান এই চরিত্রে দারুণ অভিনয় করেছেন, যা দর্শকদের হলে টানতে বাধ্য করছে।
শাকিবের সঙ্গে নতুন মুখের রসায়ন
এই সিনেমায় শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন ছোটপর্দায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূর। এছাড়াও আছেন তানজিয়া জামান মিথিলা ও সুনিধি নায়েক। নতুন এই জুটির রসায়ন দর্শকরা বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে সাবিলা নূরের অভিনয় বড় পর্দায় বেশ পরিপক্ব লেগেছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে ‘রকস্টার’ সিনেমার বড় চমক
দেশীয় বাজারের সাফল্য এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়ছে। পরিবেশনা সংস্থা ‘স্বপ্ন স্কেয়ারকোর’ নিশ্চিত করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের ৪১টি বিশ্বমানের থিয়েটারে আগামী ৫ জুন থেকে দেখা যাবে ‘রকস্টার’।
বিদেশে সিনেমাটি মুক্তির এই খবরটি ঢালিউডের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা সিনেমার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। শাকিব খানের সিনেমা মানেই প্রবাসীদের কাছে এক আলাদা আবেগ, আর সেই আবেগকে পুঁজি করেই বড় পরিসরে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে এই ছবি।
কোন দেশে কতটি সিনেমা হলে চলবে?
পরিবেশক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম সপ্তাহে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বড় বড় চেইন থিয়েটারগুলোতে সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে। নিচে এর একটি তালিকা দেওয়া হলো:
- কানাডা: প্রথম সপ্তাহে কানাডার মোট ৭টি সিনেমা হলে মুক্তি পাবে।
- যুক্তরাষ্ট্র: আমেরিকার মোট ৩০টি থিয়েটারে চলবে সিনেমাটি। এর মধ্যে বিখ্যাত এএমসি (AMC) চেইনের ১৯টি, রিগালের ৭টি, সিনেমার্কের ২টি এবং শোকেসের ২টি থিয়েটার রয়েছে।
- যুক্তরাজ্য: ইংল্যান্ডের সিনেওয়ার্ল্ডের মোট ৪টি থিয়েটারে দর্শকরা সিনেমাটি উপভোগ করতে পারবেন।
হলিউডের কঠিন বাজারে বাংলা সিনেমার বড় সুযোগ
চলতি বছরে ফিফা ওয়ার্ল্ডকাপের কারণে হলিউডের ডোমেস্টিক মার্কেটে এখন বেশ কঠিন প্রতিযোগিতা চলছে। বিশ্বজুড়ে বড় বড় সিনেমার ভিড়ে বছরের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং এই সপ্তাহে ৩৭টিরও বেশি থিয়েটার ম্যানেজ করতে পারা ‘রকস্টার’ সিনেমার জন্য একটি বিশাল বড় সাফল্য।
সিনেমার পরিবেশক সজীব জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রথম সপ্তাহে যদি সিনেমাটি ভালো ওপেনিং বা দর্শক সাড়া পায়, তবে আগামী সপ্তাহ থেকে থিয়েটারের সংখ্যা আরও অনেক বাড়ানো হবে।
কেন প্রবাসীদের এই সিনেমাটি দেখা উচিত?
১. শাকিব খানের নতুন অবতার: চিরচেনা রোমান্টিক বা অ্যাকশন লুকের বাইরে শাকিব খানকে এখানে একজন রকস্টার হিসেবে দেখা গেছে, যা বেশ নতুনত্ব এনেছে।
২. চমৎকার গান ও আবহ সঙ্গীত: মিউজিক্যাল ড্রামা ঘরানার সিনেমা হওয়ায় এর গানগুলো বেশ চমৎকার।
৩. বিগ স্ক্রিন এক্সপেরিয়েন্স: উন্নত প্রযুক্তিতে নির্মিত এই সিনেমাটি বিদেশের মাল্টিপ্লেক্সে দেখার অভিজ্ঞতা দারুণ হবে।
পরিশেষে বলা যায়, ‘রকস্টার’ সিনেমার আন্তর্জাতিক মুক্তি কেবল শাকিব খানের জন্য নয়, বরং পুরো বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি বড় সুসংবাদ। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে বাংলা সিনেমা কতটা জায়গা করে নিতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।




