শুক্রবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৬

শিকারের গোপন অস্ত্র: বুমেরাংয়ের অজানা ইতিহাস

বহুল পঠিত

“বুমেরাং” নামটি শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের হাতে থাকা বাঁকা কাঠের অস্ত্র। কিন্তু এটি শুধুমাত্র তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এটি মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ও বুদ্ধিদীপ্ত অস্ত্র।

এর গঠন যেমন সহজ, কার্যকারিতা ঠিক ততটাই আশ্চর্যজনক।

বুমেরাং কী?

বুমেরাং হলো একটি বিশেষ নকশার বায়ুগতীয় (aerodynamic) অস্ত্র, যা সাধারণত কাঠ দিয়ে তৈরি হয়। এটি মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে:

১. প্রত্যাবর্তনশীল বুমেরাং (Returning Boomerang)

এই ধরনের বুমেরাং সবচেয়ে বেশি পরিচিত। একে সঠিকভাবে নিক্ষেপ করলে এটি আকাশে ঘুরে আবার নিক্ষেপকারীর কাছে ফিরে আসে। এর পেছনে কাজ করে ডানার বক্রতা এবং অপ্রতিসম নকশা। এসব বৈশিষ্ট্য বাতাসের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে “লিফট” এবং “ঘূর্ণন” তৈরি করে।

সাধারণত এই বুমেরাং শিকারের জন্য নয়, বরং খেলাধুলা, অনুশীলন বা মাঝেমধ্যে পাখি শিকারে ব্যবহার হতো।

২. অ-প্রত্যাবর্তনশীল বুমেরাং (Non-returning Boomerang)

এই ধরনের বুমেরাং আকারে বড় ও ভারী হয়। এতে প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় বক্রতা কম থাকে। এর মূল কাজ হলো দূরের লক্ষ্যবস্তুতে জোরে আঘাত করা। এই বুমেরাং শিকার করার জন্যই বেশি ব্যবহৃত হতো।

বুমেরাং এর ইতিহাস

অনেকেই মনে করেন বুমেরাং কেবল অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের অস্ত্র। তবে গবেষণায় জানা গেছে, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাচীন সভ্যতায়ও এর ব্যবহার ছিল।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীরা হাজার বছর ধরে বুমেরাং ব্যবহার করছেন। তারা এটি শিকার, যুদ্ধ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার করতেন।

প্রাচীন মিশর

তুতেনখামেনের সমাধি থেকে বিভিন্ন নিক্ষেপযোগ্য লাঠি পাওয়া গেছে। এগুলোকে বুমেরাং-এর প্রাচীন রূপ হিসেবে ধরা হয়।

ইউরোপ

পোল্যান্ডে প্রায় ২০,০০০ বছর পুরোনো একটি অ-প্রত্যাবর্তনশীল বুমেরাং আবিষ্কৃত হয়েছে। এটি বিশ্বের প্রাচীনতম বুমেরাংগুলোর মধ্যে অন্যতম।

বুমেরাং-এর প্রত্যাবর্তনের রহস্য

বুমেরাং ফিরে আসে এটি শুধু মজার নয়, এক বৈজ্ঞানিক বিস্ময়ও বটে।

নিক্ষেপের সময় বুমেরাং ঘূর্ণন ও বিশেষ আকারের জন্য বাতাসে একটি “উত্তোলন শক্তি” তৈরি করে। এরপর “জাইরোস্কোপিক প্রিসেশন” নামক এক প্রক্রিয়ায় সেই শক্তি পার্শ্বীয় (sideways) গতিতে রূপান্তরিত হয়।

এই দুই ধরনের শক্তির সংমিশ্রণে বুমেরাং বৃত্তাকার পথে ঘুরে আবার উৎসস্থলে ফিরে আসে।

বুমেরাং শুধু শিকারের অস্ত্র নয়। এটি মানুষের প্রাচীন প্রযুক্তি, বায়ুবিজ্ঞান এবং পদার্থবিদ্যার এক অসাধারণ উদাহরণ।হাজার বছর পার হলেও, আজও এটি অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতির প্রতীক। পাশাপাশি, এটি সারা বিশ্বের মানুষের কাছে এক কৌতূহলোদ্দীপক বস্তু হিসেবেও পরিচিত।

আরো পড়ুন

বাংলা ভাষায় এআই বিপ্লব: যাত্রা শুরু করল ‘কাগজ ডট এআই’, উন্মোচন হলো নতুন ফন্ট ‘জুলাই’

বাংলা ভাষার ডিজিটাল জগতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এই প্রথমবারের মতো বাংলা ভাষার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর একটি পূর্ণাঙ্গ প্ল্যাটফর্ম ‘কাগজ ডট এআই’ চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে উন্মোচন করা হয়েছে আধুনিক ও দাপ্তরিক ব্যবহারের উপযোগী নতুন বাংলা ফন্ট ‘জুলাই’।

বিজয়ের নতুন সূর্য, স্মৃতি ও সংগ্রামের অঙ্গীকার

“পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল…”- এই অমর পঙক্তির মতোই কুয়াশাচ্ছন্ন এক ডিসেম্বরের ভোরে বাংলার আকাশে উদিত হয়েছিল স্বাধীনতার নতুন সূর্য। উড্ডীন হয়েছিল লাল-সবুজ পতাকা, আর কোটি কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল- “প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ ”।

মহান বিজয় দিবসে লাল-সবুজের আবেশ: পোশাকে পোশাকে দেশপ্রেমের প্রকাশ

মহান বিজয় দিবস এলেই নতুন রঙে, নতুন আবেগে সেজে ওঠে বাংলাদেশ। চারদিকে উড়তে থাকে লাল-সবুজের পতাকা, রাজপথ থেকে ঘরের ভেতর- সবখানেই ছড়িয়ে পড়ে বিজয়ের উচ্ছ্বাস। এই আনন্দ আর গর্বের প্রকাশ শুধু পতাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, ছড়িয়ে পড়ে মানুষের পোশাকেও।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ