মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

নির্বাচনের নতুন জরিপ: বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

বহুল পঠিত

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি বিশাল জনমত জরিপ। ‘প্রি-ইলেকশন পালস: ইন-ডেপথ অ্যানালিসিস অব দ্য বাংলাদেশি ইলেকটোরেট’ শীর্ষক এই জরিপে উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য- আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হতে যাচ্ছে এক চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বা ‘হাড্ডাহাড্ডি’ লড়াই।

প্রজেকশন বিডি, ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি (আইআইএলডি), জাগরণ ফাউন্ডেশন ও ন্যারেটিভ-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই জরিপের বিস্তারিত ফলাফল নিচে তুলে ধরা হলো।

ভোটের মাঠের বর্তমান চিত্র: কে কোথায়?

সমগ্র বাংলাদেশে ৬৪টি জেলার ২৯৫টি আসনে মোট ২২,১৭৪ জন ভোটারের ওপর পরিচালিত এই জরিপ অনুযায়ী, কোনো একক দল নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করছে না। জনসমর্থনের চিত্রে দেখা যাচ্ছে:

  • বিএনপি: ৩৪.৭% (শীর্ষস্থানে, তবে ব্যবধান সামান্য)
  • জামায়াতে ইসলামী: ৩৩.৬% (শক্তিশালী অবস্থানে)
  • জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ৭.১%
  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: ৩.১%
  • অন্যান্য দল: ৪.৫%
  • সিদ্ধান্তহীন: ১৭%

পর্যবেক্ষণ: জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহীন উল্লেখ করেছেন যে, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার ভোটের ব্যবধান অত্যন্ত কম, যা একটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দেয়।

ভোটাররা কাকে কেন বেছে নিচ্ছেন?

ভোটারদের পছন্দের পেছনে কাজ করছে ভিন্ন ভিন্ন মনস্তত্ত্ব ও যুক্তি। জরিপে দলগুলোর প্রতি সমর্থনের মূল কারণগুলো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে:

রাজনৈতিক দলসমর্থনের প্রধান কারণপরিসংখ্যান
বিএনপিরাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা৭২.১% সমর্থক এই মত দিয়েছেন
জামায়াতে ইসলামীসততা এবং দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তি৪৪.৮৭% ‘কম দুর্নীতিগ্রস্ত’ এবং ৪০.৭% ‘সততা’র কারণে পছন্দ করেছেন
এনসিপিজুলাই বিপ্লবে সক্রিয় ভূমিকা৩৬.৭৭% সমর্থক এই আবেগকে প্রাধান্য দিয়েছেন

১৭ শতাংশ ‘ডিসাইডিং ফ্যাক্টর’ বা ভাসমান ভোটার

নির্বাচনের ফলাফলের চাবিকাঠি থাকতে পারে এখনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া ১৭ শতাংশ ভোটারের হাতে। এদের মনস্তত্ত্ব বেশ জটিল:

  • সিদ্ধান্তহীনদের মধ্যে ৩০.১৭% জানিয়েছেন, তারা বর্তমানের কোনো রাজনৈতিক দলকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না।
  • ৩৮.৬% ভোটার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য বা মতামত প্রকাশ করতে রাজি হননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভোট যেদিকে ঝুঁকবে, নির্বাচনের ফলাফল সেদিকেই মোড় নিতে পারে।

জরিপ পদ্ধতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা

জরিপটি গত বছরের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। তথ্যের সঠিকতা ও ভারসাম্য রক্ষায় ‘স্ট্রাটিফাইড স্যাম্পলিং ডিজাইন’ ব্যবহার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ভৌগোলিক অবস্থান, শহর ও গ্রামের অনুপাত এবং জনসংখ্যাগত বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

উপস্থিতি ও বিশেষজ্ঞ মতামত:

জরিপের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক মুশতাক হোসেন খান, মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আমিন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ডিন এ কে এম ওয়ারেসুল করিম এবং বিডিজবসের সিইও ফাহিম মাশরুরসহ আরও অনেকে উপস্থিত থেকে এই গবেষণার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।.

সুত্রঃ যুগান্তর

আরো পড়ুন

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ে মাঠে নামছে এনসিপি: সারা দেশে নিয়োগ পাচ্ছেন ২৭০ অ্যাম্বাসেডর

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশব্যাপী বড় সাংগঠনিক উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি সারা দেশে ২৭০ জন ‘অ্যাম্বাসেডর’ নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যারা মাঠপর্যায়ে গণভোটের পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করবেন।

‘আগের অবস্থায় ফেরার কোনো প্রয়োজন নেই’ – সাংবাদিকদের সামনে বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরলেন তারেক রহমান

দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময়ের নির্বাসন শেষে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করলেন বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

রাজনীতির নতুন দিগন্ত: গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তারেক রহমানের হৃদ্যতাপূর্ণ শুভেচ্ছা বিনিময়

দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময়ের নির্বাসন কাটিয়ে স্বদেশে ফেরার পর এক নতুন রাজনৈতিক আবহে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হলেন বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এক জমকালো শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এটি কেবল একটি অনুষ্ঠান ছিল না, বরং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ