ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি বিশাল জনমত জরিপ। ‘প্রি-ইলেকশন পালস: ইন-ডেপথ অ্যানালিসিস অব দ্য বাংলাদেশি ইলেকটোরেট’ শীর্ষক এই জরিপে উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য- আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হতে যাচ্ছে এক চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বা ‘হাড্ডাহাড্ডি’ লড়াই।
প্রজেকশন বিডি, ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি (আইআইএলডি), জাগরণ ফাউন্ডেশন ও ন্যারেটিভ-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই জরিপের বিস্তারিত ফলাফল নিচে তুলে ধরা হলো।
ভোটের মাঠের বর্তমান চিত্র: কে কোথায়?
সমগ্র বাংলাদেশে ৬৪টি জেলার ২৯৫টি আসনে মোট ২২,১৭৪ জন ভোটারের ওপর পরিচালিত এই জরিপ অনুযায়ী, কোনো একক দল নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করছে না। জনসমর্থনের চিত্রে দেখা যাচ্ছে:
- বিএনপি: ৩৪.৭% (শীর্ষস্থানে, তবে ব্যবধান সামান্য)
- জামায়াতে ইসলামী: ৩৩.৬% (শক্তিশালী অবস্থানে)
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ৭.১%
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: ৩.১%
- অন্যান্য দল: ৪.৫%
- সিদ্ধান্তহীন: ১৭%
পর্যবেক্ষণ: জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহীন উল্লেখ করেছেন যে, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার ভোটের ব্যবধান অত্যন্ত কম, যা একটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দেয়।
ভোটাররা কাকে কেন বেছে নিচ্ছেন?
ভোটারদের পছন্দের পেছনে কাজ করছে ভিন্ন ভিন্ন মনস্তত্ত্ব ও যুক্তি। জরিপে দলগুলোর প্রতি সমর্থনের মূল কারণগুলো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে:
| রাজনৈতিক দল | সমর্থনের প্রধান কারণ | পরিসংখ্যান |
| বিএনপি | রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা | ৭২.১% সমর্থক এই মত দিয়েছেন |
| জামায়াতে ইসলামী | সততা এবং দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তি | ৪৪.৮৭% ‘কম দুর্নীতিগ্রস্ত’ এবং ৪০.৭% ‘সততা’র কারণে পছন্দ করেছেন |
| এনসিপি | জুলাই বিপ্লবে সক্রিয় ভূমিকা | ৩৬.৭৭% সমর্থক এই আবেগকে প্রাধান্য দিয়েছেন |
১৭ শতাংশ ‘ডিসাইডিং ফ্যাক্টর’ বা ভাসমান ভোটার
নির্বাচনের ফলাফলের চাবিকাঠি থাকতে পারে এখনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া ১৭ শতাংশ ভোটারের হাতে। এদের মনস্তত্ত্ব বেশ জটিল:
- সিদ্ধান্তহীনদের মধ্যে ৩০.১৭% জানিয়েছেন, তারা বর্তমানের কোনো রাজনৈতিক দলকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না।
- ৩৮.৬% ভোটার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য বা মতামত প্রকাশ করতে রাজি হননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভোট যেদিকে ঝুঁকবে, নির্বাচনের ফলাফল সেদিকেই মোড় নিতে পারে।
জরিপ পদ্ধতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা
জরিপটি গত বছরের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। তথ্যের সঠিকতা ও ভারসাম্য রক্ষায় ‘স্ট্রাটিফাইড স্যাম্পলিং ডিজাইন’ ব্যবহার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ভৌগোলিক অবস্থান, শহর ও গ্রামের অনুপাত এবং জনসংখ্যাগত বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
উপস্থিতি ও বিশেষজ্ঞ মতামত:
জরিপের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক মুশতাক হোসেন খান, মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আমিন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ডিন এ কে এম ওয়ারেসুল করিম এবং বিডিজবসের সিইও ফাহিম মাশরুরসহ আরও অনেকে উপস্থিত থেকে এই গবেষণার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।.
সুত্রঃ যুগান্তর




