আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য এল বড় সুখবর! নির্বাচনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক মানদন্ডে উন্নীত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) তাদের পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন মোতায়েন করেছে।
স্বচ্ছতার অনন্য দৃষ্টান্ত: ২০০ জন পর্যবেক্ষক
সরকারের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ইইউ নির্বাচনের প্রতিটি ধাপ কড়া নজরদারিতে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে।
- বিশাল টিম: সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক এই মিশনে অংশ নেবেন।
- মাঠ পর্যায়ে বিস্তৃতি: আগামী ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই সারা বাংলাদেশে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক ছড়িয়ে পড়বেন।
- ভোটের দিন: নির্বাচনের আগে ও পরে- ভোটগ্রহণ, গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্তকরণ পর্যন্ত সবকিছু তারা খুঁটিয়ে দেখবেন।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও সরকারের সহযোগিতা
১৩ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ মহোদয়ের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পলিটিক্যাল অ্যানালিস্ট মারসেল নেগি এবং ইলেকশন অ্যানালিস্ট ভ্যাসিল ভাসচেনকা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে অধ্যাপক আলী রীয়াজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ইলেকশন অবজারভেশন মিশনকে সরকারের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”
এটি প্রমাণ করে যে সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে কতটা আন্তরিক।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও রিপোর্টিং
এই মিশনটি কেবল নামমাত্র পর্যবেক্ষণ নয়, বরং একটি তথ্যনির্ভর ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ তুলে ধরবে:
- প্রাথমিক রিপোর্ট: নির্বাচনের ঠিক দুই দিন পর, অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তারা তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
- চূড়ান্ত রিপোর্ট: নির্বাচন প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হলে তারা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নয়নের সুপারিশসহ একটি বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করবে।
কেন এটি দেশের জন্য বড় সুসংবাদ?
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার এই সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, বিশ্ববাসী বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। এই কড়া পর্যবেক্ষণ দেশের সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং একটি সংঘাতহীন, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করবে।
গণতন্ত্রের এই যাত্রায় এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় মাইলফলক!




