ঢাকা-৮ আসনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী। সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন যা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি রোধ করা।
নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী জানান, এই উদ্দেশ্যে ‘চাঁদাবাজ ডটকম’ (chandabaj.com) নামে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করা হবে। ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে নাগরিকরা বিভিন্ন এলাকায় যারা চাঁদাবাজি, অনিয়ম বা দুর্নীতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ বা ডকুমেন্টস সরাসরি জমা দিতে পারবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্রক্রিয়ায় তথ্যদাতাদের সম্পূর্ণ গোপনীয়তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে কেউ ভয় বা চাপ ছাড়া তথ্য দিতে পারে।
ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, “আমরা চাই সাধারণ মানুষ সরাসরি অংশগ্রহণ করুক। যারা তথ্য দেবেন, তাদের নাম-পরিচয় আমরা রক্ষা করব। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকরা চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।”
ওয়েবসাইট চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি জাতীয় হটলাইনও প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই হটলাইন নাগরিকদের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত থাকবে এবং তারা চাইলে ফোন কলের মাধ্যমে সরাসরি তথ্য দিতে পারবেন। নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী জানান, “হটলাইন এবং ওয়েবসাইট দুটোই একসঙ্গে কাজ করবে। আমরা চাই যে, দেশজুড়ে কোনো চাঁদাবাজ বা দুর্নীতিবাজ নিরাপদ না থাকুক।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা একগাদা প্রমাণ সংগ্রহ করে সরাসরি তাদের মুখোমুখি গিয়ে বলব- এই হলো প্রমাণ, আপনি এখন রাজনীতি ছেড়ে দেন। এটি কোনো নির্দিষ্ট দলের বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়; এটি আমাদের দেশের স্বচ্ছতা ও নাগরিক দায়িত্ব নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ।”
এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকরা বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির তথ্য দিতে পারবেন। যেমন:
- সরকারি অফিস বা প্রতিষ্ঠান থেকে অবৈধ অর্থ আদায়ের ঘটনা
- স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা অনৈতিক প্রভাব ও চাপ
- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ট্রাফিক বা অন্যান্য ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি
- যেকোনো ধরনের অবৈধ বা অনৈতিক কার্যক্রম যা জনগণের ক্ষতি করছে
নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী আশা প্রকাশ করেছেন, এই উদ্যোগ দেশের নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। “প্রতিটি তথ্য, প্রতিটি প্রমাণ আমাদেরকে সাহায্য করবে একটি স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল এবং দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গঠনে,” তিনি বলেন।
এই উদ্যোগকে অনেকেই নাগরিক অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। দেশের নাগরিকরা সরাসরি অংশগ্রহণ করে সমাজে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি রোধে ভূমিকা রাখতে পারবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়েবসাইট এবং হটলাইনের মাধ্যমে তথ্য সরাসরি সরকারের বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছালে, এটি শুধু একটি সচেতনতামূলক প্রচেষ্টা নয়, বরং বাস্তব পরিবর্তনও আনতে সক্ষম।
নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারণায় এই ওয়েবসাইটের ব্যবহারিক দিকও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই সাধারণ মানুষ শুধু অভিযোগ দেবে না; তারা প্রমাণ জমা দিক। আমরা সেই প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেব। এতে জনগণ আত্মবিশ্বাসী হবে এবং অপরাধীদের ভয় বাড়বে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে এমন উদ্যোগ আগে হয়নি। এই ধরনের ওয়েবসাইট এবং হটলাইন নাগরিকদের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। এটি সরকারের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে, দুর্নীতি হ্রাসে এবং রাজনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নাগরিকদের জন্য ওয়েবসাইটে একটি সহজ ইন্টারফেস তৈরি করা হয়েছে, যেখানে তারা ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য ডকুমেন্টস আপলোড করতে পারবেন। সব ধরনের তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষিত থাকবে। তথ্য যাচাইয়ের পরে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হবে।
নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী আশা প্রকাশ করেছেন, এই উদ্যোগ ঢাকা-৮ আসন এবং সারাদেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই নাগরিকরা সচেতন হোক, দায়িত্বশীল হোক, এবং সরাসরি অংশগ্রহণ করুক। একসাথে আমরা একটি দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গড়তে পারি।”
এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ। তারা মনে করছেন, ওয়েবসাইট এবং হটলাইন দেশজুড়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সক্ষম।




