যুব বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ও ভারত। বাংলাদেশ বনাম ভারত যুব বিশ্বকাপ ম্যাচটি ঘিরে তরুণ ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা ও প্রত্যাশা।
বাংলাদেশ দলের নির্বাচক ও ম্যানেজার এহসানুল হক সিজান এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, ভারতের বিপক্ষে শতভাগ উজাড় করে দিতে পারলে জয় বাংলাদেশের দিকেই আসবে।
তিনি বলেন,
“২০২৪ সালের এশিয়া কাপে আমরা ভারতকে হারিয়েছি। এই দলে সেই ম্যাচজয়ী খেলোয়াড়রাই আছে। তাই আমি আশাবাদী—বিশ্বকাপের শুরুটা আমরা জয়ের মাধ্যমেই করবো।”
প্রধান কোচ নাভিদ নেওয়াজও আত্মবিশ্বাসের সুরে কথা বলেছেন। তিনি জানান, ভারত শক্তিশালী দল হলেও বাংলাদেশও প্রস্তুত একটি লড়াকু স্কোয়াড নিয়ে।
তার বক্তব্য,
“আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারলে জয়ের সুযোগ অবশ্যই থাকবে। মাঠে যে দল ভালো ক্রিকেট খেলবে, ফল তাদের পক্ষেই যাবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ বনাম ভারত যুব বিশ্বকাপ ম্যাচটি গ্রুপ পর্বের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই প্রথম ম্যাচেই শক্ত বার্তা দিতে চায় লাল-সবুজের যুবারা।
সমর্থকদের প্রত্যাশা-আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স, সাহসী ক্রিকেট এবং একটি গর্বের জয়।
মাঠের লড়াইয়ে পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট বৈরিতা নতুন নয়। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের নো-বল বিতর্ক থেকে শুরু করে নানা উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার মধ্য দিয়ে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়েছে।
তবে বড়দের ক্রিকেটে সাফল্য সীমিত হলেও যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গল্প একেবারেই আলাদা।
যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গর্বের ইতিহাস
২০২০ সালের যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়েই প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে বাংলাদেশ। এরপর ২০২৪ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালেও ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে আজিজুল হাকিমের নেতৃত্বাধীন সেই প্রজন্ম।
সেই সোনালি দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই এবার জিম্বাবুয়ে–নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে।
প্রস্তুতিতে বাধা, কিন্তু আত্মবিশ্বাস অটুট
টুর্নামেন্টের আগে পুরো প্রস্তুতি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের একটি পরিত্যক্ত হয়, অন্যটিও ব্যাহত হয়। তবু মনোবলে ভাটা নেই দলের।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় প্রধান কোচ নাভিদ নেওয়াজ বলেন—
“প্রথম ম্যাচে কার বিপক্ষে খেলছি, সেটা বড় বিষয় নয়। আমরা নিজেদের প্রস্তুতির ওপর মনোযোগ দিয়েছি। প্রতিপক্ষ কী বলল বা করল, তা নিয়ে ভাবছি না। আবহাওয়া আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, তবে প্রস্তুতি মোটামুটি সন্তোষজনক।”
সামনে কঠিন গ্রুপ লড়াই
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ খেলবে-
- ২০ জানুয়ারি: নিউজিল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯
- ২৩ জানুয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র অনূর্ধ্ব-১৯
এবারের যুব বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ১৬টি দল। চারটি গ্রুপ থেকে তিনটি করে দল যাবে সুপার সিক্সে। সেখান থেকে সেরা চার দল খেলবে সেমিফাইনালে।
রাজনৈতিক উত্তাপ, পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর বিশ্বমঞ্চের চাপ—সবকিছু ছাপিয়ে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশের তরুণ যোদ্ধারা। লক্ষ্য একটাই—আরেকটি ইতিহাস, আরেকটি গর্বের অধ্যায় লেখা।





