দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরাবাসীর জন্য আজ এক বিশাল আনন্দের দিন। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনা আর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সাতক্ষীরা জেলা এ ক্যাটাগরি-তে উন্নীত হয়েছে। প্রশাসনিক গুরুত্ব, বিশাল আয়তন এবং অর্থনৈতিক অবদান সব দিক বিবেচনা করে সরকার এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতদিন সাতক্ষীরা ‘বি’ (B) ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, এখন থেকে এটি ‘এ’ (A) ক্যাটাগরির মর্যাদাপূর্ণ জেলার তকমা পেল।
সরকারি এই ঘোষণার পর থেকেই জেলার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা সবার মাঝেই খুশির আমেজ বিরাজ করছে। চলুন জেনে নিই, এই নতুন মর্যাদায় কী কী পরিবর্তন আসবে এবং সাধারণ মানুষ এতে কীভাবে উপকৃত হবেন।
কেন এই পদোন্নতি? বি থেকে এ ক্যাটাগরিতে উত্তরণ
একটি জেলাকে যখন ‘বি’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করা হয়, তখন এর পেছনে সরকারের সুনির্দিষ্ট কিছু পর্যালোচোনা থাকে। সাতক্ষীরা জেলা অনেক আগে থেকেই নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে আসছিল। এর পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো:
- ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব: সুন্দরবন সংলগ্ন এই জেলাটি দেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ‘সাদা সোনা’ খ্যাত চিংড়ি সম্পদ এবং কৃষিখাত।
- ভোমরা স্থলবন্দর: দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই স্থলবন্দর থেকে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে।
- জনসংখ্যা ও আয়তন: প্রশাসনিক কাজের পরিধি এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে জেলাটিকে আপগ্রেড করা সময়ের দাবি ছিল।
অবশেষে সেই দাবি পূরণ হওয়ায় সাতক্ষীরার গুরুত্ব জাতীয় পর্যায়ে আরও বৃদ্ধি পেল।
‘এ’ ক্যাটাগরি হওয়ায় কী সুবিধা পাওয়া যাবে?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, একটি জেলা ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হলে সাধারণ মানুষের লাভ কী? বা প্রশাসনিকভাবেই বা কী পরিবর্তন আসে? বিষয়টি খুব সহজ করে নিচে তুলে ধরা হলো:
১. প্রশাসনিক ক্ষমতা ও মর্যাদা বৃদ্ধি
সাতক্ষীরা জেলা এ ক্যাটাগরি ভুক্ত হওয়ার ফলে এর প্রশাসনিক মর্যাদা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে জেলার গুরুত্ব বাড়বে, যার ফলে বড় কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা প্রকল্প পাসে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে।
২. জনবল ও বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বাজেট। ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলাগুলোতে সরকারি দপ্তরের জনবল কাঠামো এবং বার্ষিক বাজেট বরাদ্দ ‘বি’ বা ‘সি’ ক্যাটাগরির জেলার চেয়ে তুলনামূলক বেশি থাকে।
- উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত হবে।
- রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বাজেট মিলবে।
- সরকারি সেবার মান বাড়বে।
৩. কর্মকর্তাদের সুযোগ-সুবিধা ও আবাসন
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্টে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। যখন কর্মকর্তাদের কাজের পরিবেশ উন্নত হয়, তখন সাধারণ মানুষকে সেবা দেওয়ার গতিও বেড়ে যায়।
সাতক্ষীরাবাসীর উচ্ছ্বাস ও আগামীর সম্ভাবনা
এই খুশির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে অভিনন্দনের জোয়ার। স্থানীয় সুশীল সমাজ এবং সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এটি সাতক্ষীরার জন্য একটি বড় মাইলফলক।
ভোমরা স্থলবন্দর এবং সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশে এই নতুন মর্যাদা ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, তার সাথে জেলার এই প্রশাসনিক পদোন্নতি যুক্ত হয়ে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। সাতক্ষীরা জেলা এ ক্যাটাগরি-র সুবিধা কাজে লাগিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে নজর দিলে এই জেলা অচিরেই দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিলের খবরও পাওয়া গেছে। সাতক্ষীরা এখন নতুন পরিচয়ে পরিচিত। এই মর্যাদা ধরে রেখে জেলাকে এগিয়ে নেওয়াই এখন সকলের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।




