বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রামের জনসভায় বলেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে নেতৃত্বে আনতে হবে যুব সমাজকে।
তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের ককপিটে ক্যাপ্টেন হিসেবে যুবকদের বসাতে চাই। আমরা নিজেরা প্যাসেঞ্জার সিটে বসে থাকব। তারাই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।”
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তরুণরাই পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের বিভাজনমূলক রাজনীতি টেনে এনে জাতিকে আর বিভক্ত করতে দেওয়া হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত তরুণ সমাজ ইতোমধ্যে জাতিকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মামলা বাণিজ্য, দখলদারিত্ব এবং নারীদের অসম্মানকারীদের তারা লাল কার্ড দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, যারা মা-বোনদের অসম্মান করে, হুমকি দেয়- তাদের কাছে কোনো সুবিধা বা কার্ডের মূল্য নেই। “আমার মায়ের মর্যাদার চেয়ে কোনো ফ্যামিলি কার্ডের মূল্য বেশি নয়,”– বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চায়। “এই দেশকে আমরা ফুলের বাগানের মতো সাজাতে চাই, যেখানে সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে। বিশেষ করে মা-বোনদের ঘরে, পথে ও কর্মস্থলে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী শুধু দলের বিজয় নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চায়। ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য। ভয়ভীতি দেখিয়ে এই অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, “১২ তারিখে দুটি ভোট- একটি জুলাইয়ের পক্ষে, আরেকটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য।” যারা জুলাইয়ের চেতনাকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের নায়েবে আমির সাবেক এমপি আ ন ম শামসুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আলী ওসমান, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিঠু, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহছান উল্লাহ ভুঁইয়া, ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদ এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা প্রমুখ।





