পবিত্র হজে আগত আল্লাহর মেহমান বা হাজিদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে এক অভিনব ও আকর্ষণীয় ঘোষণা দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি জানিয়েছেন, যেসব হজ গাইড আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে হাজিদের খেদমত করবেন, তাদের জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
শুক্রবার সৌদি আরবে হাজিদের সেবায় নিয়োজিত ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, হজ গাইড এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।
কীভাবে নির্বাচিত হবেন সেরা হজ গাইড?
ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ জানান, গাইডদের এই পুরস্কার দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং হাজিদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে সম্পন্ন হবে।
- হাজিদের প্রশংসাপত্র: যেসব হাজি তাদের গাইডের সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে লিখিত প্রশংসাপত্র দেবেন, সেই গাইডদের বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
- বাছাই কমিটি: হাজিদের মতামত ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান নির্ধারণ করা হবে।
- পুরস্কার বণ্টন: বিজয়ী সেরা গাইডদের মধ্যে পুরস্কারের ৫ লাখ টাকা বণ্টন করে দেওয়া হবে।
প্রতারণা ও অনিয়ম করলে কঠোর হুঁশিয়ারি
হাজিদের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি যারা তাদের সঙ্গে প্রতারণা বা অনিয়ম করবে, তাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি আবেগমিশ্রিত কণ্ঠে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
“হাজিদের নিয়ে যারা অনিয়ম বা প্রতারণা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি (পাপের তীব্রতার কারণে) তাদের জায়গা দোজখেও হবে না।”
পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, হাজিরা যদি অসন্তুষ্ট থাকে, তবে কারও টিএ/ডিএ বা অন্য কোনো সরকারি সুবিধা দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে সব সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে তাদের আর কোনো হজ কার্যক্রমে দায়িত্ব দেওয়া হবে না।
নিজের পকেটের টাকা দিয়ে হাজিদের স্বপ্ন পূরণ
সভায় ধর্মমন্ত্রী একটি আবেগঘন মানবিক ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, শেষ মুহূর্তে ভিসা ও টিকিট জটিলতার কারণে দুইজন হজযাত্রী হজে যেতে পারছিলেন না। এই খবর পেয়ে তিনি গভীরভাবে বিচলিত হয়ে পড়েন।
তাৎক্ষণিকভাবে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, এয়ারলাইন্স এবং গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শুধু তাই নয়, নিজের বাসা থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা পাঠিয়ে জরুরি টিকিটের ব্যবস্থা করে ওই দুই হাজির সৌদি যাত্রা নিশ্চিত করেন।
হজ ব্যবস্থাপনার বর্তমান পরিস্থিতি ও মাশায়ের কার্যক্রম
হজ মিশনের কাউন্সিলর মো. কামরুল ইসলাম সভায় জানান, হজ ব্যবস্থাপনার তিনটি ধাপের মধ্যে ‘প্রি-হজ’ (বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব আগমন) কার্যক্রম প্রায় শেষ। এখন হজের মূল পর্ব অর্থাৎ ‘মাশায়ের’ (মিনা, আরাফা, মুজদালিফা ও জামারা) কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এই মূল পর্বেও যেন সফলভাবে দায়িত্ব পালন করা যায়, সে লক্ষ্যেই এই সভার আয়োজন।
হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার ধর্মমন্ত্রীর প্রশংসা করে বলেন, মন্ত্রী যেভাবে নিজের বিশ্রাম ও ঘুম ত্যাগ করে হাজিদের কল্যাণে দিনরাত কাজ করছেন, তা পুরো টিমের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
সেবাই যেখানে পরম ইবাদত
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য শামীম কায়সার বলেন, হাজিদের সেবা করা কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি আল্লাহর মেহমানদের খেদমত করার এক পরম সৌভাগ্য। অনেক সময় কাবা শরিফে নামাজ শুরু হলেও দায়িত্বে থাকা কর্মীরা নিজেদের ইবাদতের চেয়ে হাজিদের নিরাপত্তা ও সেবাকে অগ্রাধিকার দেন, এটাই প্রকৃত খেদমত।




