বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো আজ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তবে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি—এ তথ্যও নিশ্চিত করা হয়েছে।
আজ বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ
আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান। ঐতিহাসিক এই দিনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন।
প্রায় দুই দশক গণতন্ত্রহীন সময় পেরিয়ে ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে দলটি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২০০৬ সালে দায়িত্ব ছাড়ার প্রায় ২০ বছর পর তার পুত্র তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভূমিধস বিজয়ের প্রধান কারিগরও তিনিই।
সংসদে বিএনপির শক্ত অবস্থান
সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির ২০৯ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচিত তারেক রহমান পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় এই দুই আসনের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রয়েছে।
জোটসঙ্গী ও সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা
বিএনপি সংসদীয় দলের সভায় জোটের শরিকদের আমন্ত্রণ জানাতে পারে। সম্ভাব্য আমন্ত্রিতদের মধ্যে রয়েছেন
- আন্দালিব রহমান পার্থ
- জোনায়েদ সাকি
- নুরুল হক নুর
এই তিনজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
এছাড়া সংসদীয় দলের সভায় সংসদ নেতা ছাড়াও উপনেতা, চিফ হুইপ ও ছয়জন হুইপ নির্বাচনের কথা রয়েছে। সংসদ উপনেতা হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমেদ–এর নাম আলোচনায় আছে।
বিরোধী দলে জামায়াত জোট
বিরোধী দলের আসনে বসতে যাওয়া জামায়াত জোটও তাদের সংসদীয় দলের সভা ডাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা ও হুইপ নির্বাচন করা হবে। উল্লেখ্য, বিরোধীদলীয় নেতা মন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করে থাকেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই পরিবর্তনকে অনেকেই গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ হিসেবে দেখছেন—যা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও আশার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।





