বর্ষাকালের প্রচণ্ড ঝড়ের সাথে বজ্রপাত এখন এক আতঙ্কের নাম। প্রতিনিয়ত বজ্রপাতে প্রাণহানির খবর আমাদের ব্যথিত করে। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় যেকোনো বিপদ বা দুর্যোগের সময় আল্লাহর স্মরণ ও বিশেষ দোয়া পাঠ করার নির্দেশনা রয়েছে। বজ্রপাতের সময় আতঙ্কিত না হয়ে নবীজি (সা.)-এর শেখানো দোয়া ও তাসবিহ পাঠ করা মুমিন হিসেবে আমাদের দায়িত্ব।
বজ্রপাতের সময় দোয়া
হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মেঘের গর্জন শুনতেন বা বিদ্যুতের চমক দেখতেন, তখন তিনি একটি দোয়া পড়তেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে এই দোয়াটি বর্ণিত হয়েছে।
দোয়া: اَللَّهُمَّ لَا تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَ لَا تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَ عَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা লা তাক্বতুলনা বিগাদাবিকা ওয়া লা তুহলিকনা বিআজাবিকা, ওয়া আ’ফিনা ক্ববলা জালিকা।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তোমার ক্রোধের বশবর্তী হয়ে আমাদের মেরে ফেলো না। আর তোমার আজাব দিয়ে আমাদের ধ্বংস কোরো না। বরং এর আগেই আমাদের ক্ষমা ও নিরাপত্তার চাদরে আবৃত কোরো।’ (সূত্র: তিরমিজি ৩৪৫০)
বজ্রপাতের আঘাত থেকে বাঁচতে তাসবিহ
বজ্রপাতের ভয়াবহতা ও প্রাণহানি থেকে সুরক্ষার জন্য হাদিসে একটি ছোট্ট তাসবিহ পড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ‘মুসান্নাফে আবি শায়বা’ গ্রন্থে এই তাসবিহটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তাসবিহ: سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ
উচ্চারণ: ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি।’
অর্থ: ‘আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং তাঁরই প্রশংসার গুণগান করছি।’ যে ব্যক্তি নিয়মিত এই তাসবিহ পাঠ করবেন, আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা তাকে বজ্রপাতের আঘাত থেকে হেফাজত করবেন।
বজ্রপাতে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ‘সুরা রাদ’ নামে একটি স্বতন্ত্র সুরা নাজিল করেছেন, যা বজ্রপাতের মহিমা ও আল্লাহর শক্তিমত্তার নিদর্শন বহন করে। বজ্রপাত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তাই এই সময়ে ভয় না পেয়ে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
বিশেষ পরামর্শ: দোয়া ও তাসবিহ পাঠ করার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক সতর্কতা অবলম্বন করাও জরুরি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় খোলা জায়গা বা উঁচু গাছ এড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা আবশ্যক। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন এবং নবীজির শেখানো আমলগুলো নিয়মিত চর্চা করুন।




