তীব্র দাবদাহে এক টুকরো ঠান্ডা তরমুজ যেন প্রাণ জুড়ানো অমৃত। কিন্তু কোথাও ঘুরতে গিয়ে বা হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ফ্রিজ ব্যবহার করা সম্ভব না হলে কী করবেন? চিন্তার কিছু নেই! বিজ্ঞানের একটি সহজ কিন্তু জাদুকরী কৌশলে আপনি খুব সহজেই ১০ মিনিটের মধ্যে তরমুজকে বরফের মতো ঠান্ডা করে ফেলতে পারেন। চলুন জেনে নিই এই চমৎকার পদ্ধতিটি।
কেন এই পদ্ধতি কাজ করে
সাধারণত পানি শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসে বরফে পরিণত হয়। কিন্তু পানিতে যখন লবণ মেশানো হয়, তখন এর হিমাঙ্ক বা ‘ফ্রিজিং পয়েন্ট’ আরও কমে যায়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ফ্রিজিং পয়েন্ট ডিপ্রেশন’। লবণাঙ্কিত এই পানি সাধারণ বরফপানির চেয়েও অনেক বেশি ঠান্ডা থাকে। যেহেতু বায়ুর তুলনায় পানি তাপ দ্রুত পরিবহন করতে পারে, তাই ফ্রিজারের বাতাসের চেয়ে এই মিশ্রণটি তরমুজের তাপ শোষণ করে তাকে মুহূর্তের মধ্যে শীতল করে তোলে।
তরমুজ ঠান্ডা করার কার্যকর কৌশল
আপনার হাতের কাছে ফ্রিজ না থাকলেও মাত্র ১০ মিনিটে তরমুজ ঠান্ডা করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
১. আইস বাথ বা মিশ্রণ তৈরি: একটি বড় বালতি বা গামলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ ঠান্ডা পানি নিন। এবার তাতে প্রচুর পরিমাণে বরফ কুচি এবং ২-৩ কাপ সাধারণ লবণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
২. তরমুজ ডুবিয়ে রাখা: আস্ত তরমুজটি এই লবণ মেশানো বরফপানিতে ১০ মিনিটের জন্য ডুবিয়ে রাখুন। ভালো ফলাফলের জন্য মাঝে মাঝে তরমুজটিকে এপিঠ-ওপিঠ করে ঘুরিয়ে দিন, যাতে সব দিক সমানভাবে ঠান্ডা হয়।
৩. নিশ্চিত করা: তরমুজটি যেন পানির ওপর ভেসে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। পুরোপুরি নিমজ্জিত অবস্থায় থাকলে তবেই এটি দ্রুত ঠান্ডা হবে।
ছোট টুকরো করে ঠান্ডা করার উপায়
আপনার হাতে যদি সময় কম থাকে বা তরমুজটি অনেক বড় হয়, তবে ছোট টুকরো করে কেটে নিতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি:
- প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার: টুকরোগুলো একটি জিপলক বা এয়ার-টাইট প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে মুখ ভালোভাবে আটকে দিন। এতে লবণপানি সরাসরি তরমুজের গায়ে লাগবে না। এরপর ব্যাগটি সরাসরি ওই বরফ-লবণের মিশ্রণে ডুবিয়ে রাখুন। ১০ মিনিটেই আপনি পেয়ে যাবেন দারুণ ঠান্ডা ও সতেজ তরমুজ।
এই সহজ পদ্ধতিটি ব্যবহার করে প্রচণ্ড গরমের দিনেও আপনি উপভোগ করতে পারবেন সতেজ ও বরফ-ঠান্ডা তরমুজ। ফ্রিজের বিকল্প হিসেবে এই কৌশলটি আপনার ভ্রমণ বা যেকোনো জরুরি মুহূর্তে দারুণ কাজে দেবে।




