Wednesday, July 1, 2026

বিনামূল্যে প্রাথমিক সেবা পাবে তৃণমূলের মানুষ: স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার

বহুল পঠিত

দেশের সাধারণ ও মেহনতি মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে চিকিৎসা অন্যতম। বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে মানসম্মত এবং উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া সব সময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এই চ্যালেঞ্জ জয় করতে এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দেশের সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুরো স্বাস্থ্যখাতকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।

শহরমুখী চিকিৎসার ভোগান্তি কমবে, সেবা মিলবে নিজের গ্রামে

এতদিন ধরে বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা মূলত রাজধানী কিংবা বড় বড় শহরকেন্দ্রিক ছিল। এর ফলে গ্রামের কোনো মানুষ অসুস্থ হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শহরে আসতে হতো। এতে যেমন সময়ের অপচয় হতো, তেমনি সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়ে যেত। অনেক সময় সঠিক সময়ে যাতায়াত করতে না পারায় রোগীর অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে উঠত।

এই চিরচেনা ভোগান্তির চিত্র পুরোপুরি বদলে দিতে ধীরে ধীরে শহরকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থা থেকে সরে আসার এক যুগান্তকারী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। নতুন এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো চিকিৎসার জন্য গ্রামের মানুষকে যেন আর কোনোভাবেই শহরমুখী হতে না হয়। এখন থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েই আধুনিক চিকিৎসার সমস্ত প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও অতিরিক্ত খরচের ভোগান্তি একবারে কমে যাবে, অন্যদিকে গ্রামীণ ও তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্য অবকাঠামো অনেক বেশি শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের উপজেলা হাসপাতালগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়ন এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে তোলা হবে অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য ইউনিট, যেখান থেকে সাধারণ মানুষ খুব সহজেই তাদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

উপজেলা হাসপাতালে সার্বক্ষণিক আইসিইউ ও আধুনিক প্যাথলজি

তৃণমূলের মানুষের মনে বড় হাসপাতালের প্রতি ভরসা তৈরি করতে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসাকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে উন্নত আইসিইউ (ICU) সুবিধার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক জরুরি বিভাগ সচল থাকবে। এর ফলে গভীর রাতেও যদি কোনো মানুষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন, তবে তাকে জেলা শহর বা রাজধানীতে দৌড়াতে হবে না।

এছাড়া হাসপাতালগুলোতে ইনডোর ও আউটডোর সেবা আরও উন্নত করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের রোগ নির্ণয়ের সুবিধার্থে স্থাপন করা হচ্ছে আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব। যেখানে খুবই কম সময়ে ও নির্ভুলভাবে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হবে। গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবাকে আরও বেশি মানবিক ও কার্যকর করতে প্রতিটি হাসপাতালে একজন নারী ও একজন পুরুষ ফিজিওথেরাপিস্টের পদ তৈরি করা হচ্ছে, যা পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা শারীরিক সমস্যায় ভোগা রোগীদের জন্য অত্যন্ত ফলদায়ক হবে।

জেলা হাসপাতালে জটিল রোগের আধুনিক চিকিৎসা ও জনবল বৃদ্ধি

উপজেলা পর্যায়ের পাশাপাশি জেলা হাসপাতালগুলোর সেবার মানও বহুলাংশে বাড়ানো হচ্ছে। সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেলা হাসপাতালগুলোতে এখন থেকে ক্যান্সার এবং কিডনি রোগের মতো অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের আধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ নিজ জেলাতেই ডায়ালাইসিস এবং ক্যান্সারের প্রাথমিক থেরাপিগুলো নিতে পারবেন।

চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের পাশাপাশি আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো পর্যাপ্ত জনবল। অনেক সময় দেখা যায় আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও দক্ষ ডাক্তারের অভাবে মানুষ সেবা পায় না। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

স্বচ্ছ ও জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থার অঙ্গীকার

দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা সময়ে নানা অভিযোগ থাকে। এই খাতের আমূল পরিবর্তন আনতে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সম্পূর্ণ জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই প্রসঙ্গে বলেন, “তৃণমূলে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে আমাদের সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ গঠন এবং প্রতিটি পরিবারে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ‘হেলথ স্ক্রিনিং’ কার্যক্রম চালুর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান যে, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে দেশের সব মানুষের সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ২৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা স্বাস্থ্যখাতের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

যুক্তরাজ্যের জিপি মডেলের আদলে দেশের স্বাস্থ্যখাত

যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ‘জেনারেল প্র্যাকটিশনার’ বা জিপি (GP Model) মডেলের আদলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সাজানোর একটি চমৎকার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। দলটির নির্বাচনি ইশতেহারে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকেই দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা চলে আসবে একদম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে।

এই মড়েল অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন করা হবে। প্রতিটি প্রধান ইউনিটের অধীনে থাকবে তিনটি করে প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা কমিউনিটি ক্লিনিক। আর এই প্রতিটি কেন্দ্রে সার্বক্ষণিকভাবে সাধারণ মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য দায়িত্ব পালন করবেন তিনজন করে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার। এর ফলে ঘরের কাছেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শ পাওয়া নিশ্চিত হবে।

বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ

যেকোনো বড় উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত আর্থিক বরাদ্দ। বর্তমান সরকার মুখের কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী বলেই স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ এক ধাক্কায় প্রায় দ্বিগুণ করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের জন্য মোট ৬৯ হাজার ৩০9 কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১.১ শতাংশ।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩৪,৭১৯ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এই বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বর্তমান সরকার কতটা আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ডিজিটাল বিপ্লব: আসছে ২৫ লাখ ‘ই-হেলথ কার্ড’

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজ ও নির্ভুল করতে সরকার প্রত্যেক নাগরিককে একটি করে ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড বা ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি হবে একজন রোগীর সম্পূর্ণ ডিজিটাল স্বাস্থ্য ইতিহাস। এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের যেকোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকের চিকিৎসক রোগীর আগের রোগ, পুরোনো প্রেসক্রিপশন, বিভিন্ন ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট এবং ওষুধসংক্রান্ত সকল তথ্য এক ক্লিকেই দেখতে পারবেন। এতে করে ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি যেমন কমবে, তেমনি রোগীকে বারবার পুরোনো কাগজপত্রের ফাইল বয়ে বেড়াতে হবে না।

প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেশের পাঁচটি জেলাকে এই ডিজিটাল সেবার আওতায় আনা হচ্ছে। খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং নরসিংদী- এই পাঁচ জেলায় ২৫ লাখ ই-হেলথ কার্ড বিতরণের জন্য একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ১৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এই পাইলট প্রজেক্ট সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি নাগরিককে এই কার্ড প্রদান করা হবে।

১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী ও ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগ

স্বাস্থ্যসেবার এই সুবিশাল অবকাঠামোকে সচল এবং প্রাণবন্ত রাখতে প্রয়োজন বিপুল সংখ্যক দক্ষ জনবল। এই লক্ষ্য পূরণে সরকার এক বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়ার ঘোষণা দিয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত অত্যন্ত আশার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের বর্ধিত স্বাস্থ্যসেবা সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য খুব শীঘ্রই ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আরও ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই বিশাল নিয়োগের ফলে দেশের বেকার যুবসমাজের যেমন কর্মসংস্থান হবে, তেমনি চিকিৎসাবঞ্চিত সাধারণ মানুষ পাবে সার্বক্ষণিক সেবা।

মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ২৫ হাজার মিডওয়াইফ

গ্রামীণ নারীদের প্রসবকালীন জটিলতা দূর করতে এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে এক অভিনব পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে দেশে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগ দেওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত দুজন করে প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফ সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবেন। এর ফলে গ্রামাঞ্চলে স্বাভাবিক প্রসবের হার বৃদ্ধি পাবে এবং মা ও নবজাতকের মৃত্যুর হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

শিশুদের জন্য ২০০ শয্যার ৫টি বিশেষায়িত হাসপাতাল

শিশুদের উন্নত চিকিৎসাকে আরও সহজলভ্য করতে দেশের পাঁচটি প্রধান বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পাঁচটি সম্পূর্ণ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল গড়ে তোলা হচ্ছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী এবং কুমিল্লা বিভাগে এই হাসপাতালগুলোর উদ্বোধন করা হবে। আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিটি হাসপাতালেই থাকবে উন্নত আইসিইউ (ICU) সুবিধা, সেন্ট্রাল এসি বা কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে আসন সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

সরকারের এই বিশাল ও বহুমাত্রিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। প্রখ্যাত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুশতাক হোসেন এই বিষয়ে তার মতামত দিতে গিয়ে বলেন, “স্বাস্থ্যসেবায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে আমাদের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের তৃণমূল অবকাঠামোকে সবার আগে শক্তিশালী করতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে যদি আমরা একটি কার্যকর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারি, তবে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যখাতে একটি ঐতিহাসিক ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সাথে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে আরও শক্তিশালী করে সেকেন্ডারি হেলথ কেয়ারের মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”


তৃণমূলের সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং ‘বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা’ প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। সঠিক বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখলে এই প্রজেক্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত পৃথিবীর বুকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। দেশের প্রতিটি নাগরিক যখন সহজে ও বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন, তখনই একটি সুস্থ, সবল ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আরো পড়ুন

৪৯৫ উপজেলায় নতুন কাঠামো গঠনের উদ্যোগ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালইয়ের

দেশের প্রতিটি প্রান্তে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।...

আশরাফ জালাল খান মননের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিশিষ্ট সমাজসেবক, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুবকল্যাণ তহবিল ব্যবস্থাপনা বোর্ডের...

করমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর: করদাতাদের বড় স্বস্তির খবর

দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও আধুনিক করতে চায় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সাধারণ ও মধ্যবিত্ত করদাতাদের বড় রকমের স্বস্তি দিতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর...
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ