দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও আধুনিক করতে চায় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সাধারণ ও মধ্যবিত্ত করদাতাদের বড় রকমের স্বস্তি দিতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই ব্যক্তিগত আয়ের করমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে তিনি অর্থমন্ত্রীকে এই অনুরোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, সাধারণত কর কমানো বা এই ধরণের দাবিগুলো বিরোধী দল থেকে বেশি হয়ে থাকে। তবে আমি আপাতত শারীরিকভাবে না হলেও মানসিকভাবে ওনাদের (বিরোধী দলের) পাশে দাঁড়িয়েই সাধারণ মানুষের পক্ষে এই কথা বলতে চাই।
পর্যায়ক্রমে বাড়বে করমুক্ত আয়ের সীমা
বাজেট বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী আগামী কয়েকটি অর্থবছরের জন্য ধাপে ধাপে করমুক্ত আয়ের সীমা বা আয়কর অব্যাহতি বাড়ানোর একটি রূপরেখা তুলে ধরেন।
প্রস্তাবিত মূল বাজেটে ব্যক্তিগত আয়ের আয়কর অব্যাহতি সীমা যেভাবে ধরা হয়েছিল:
- ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-৮ অর্থবছর: ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
- ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছর: ৪ লাখ টাকা।
- ২০৩০-৩১ অর্থবছর: ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অর্থমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর নতুন প্রস্তাব
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মূল প্রস্তাবনার চেয়েও করদাতাদের আরও বেশি ছাড় দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি ব্যক্তিগত করদাতাদের করের বোঝা কিছুটা লাঘব করে স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন এই প্রস্তাব পেশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর নতুন প্রস্তাবটি নিচে দেওয়া হলো:
১. আগামী দুই অর্থবছরের জন্য করমুক্ত সীমা ৪ লাখ
প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেন যেন আগামী ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ কর বছরের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে সরাসরি ৪ লাখ টাকা করা হয়। এর ফলে মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় সুবিধা পাবেন।
২. পরবর্তী বছরগুলোতে করমুক্ত সীমা সাড়ে ৪ লাখ
একইভাবে ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ কর বছরের জন্য এই করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
৩. ২০৩০-৩১ অর্থবছরে করমুক্ত সীমা ৫ লাখ টাকা
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীকে প্রস্তাব করেন, যেন ২০৩০-৩১ কর বছরের মধ্যে দেশের নাগরিকদের করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়।
ভ্যাট কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব
বাজেট বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শুধু আয়কর নয়, বরং প্রস্তাবিত বাজেটের বেশ কয়েকটি জরুরি বিষয়ে ভ্যাট (Value Added Tax) বা মূল্য সংযোজন কর কমানোরও প্রস্তাব করেন। তিনি মনে করেন, ডিজিটাল এবং আধুনিক কর ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের রাজস্ব যেমন বাড়বে, ঠিক তেমনি করদাতাদের ওপর থেকে বাড়তি চাপও কমে আসবে। সরকারের এই নতুন উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক সাড়া মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।




