বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের বা বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ঠিক আগ মুহূর্তে বড় এক সুখবর পেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শেষ ষোলোর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সেলেসাওরা। আর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগেই দলের প্রধান তারকা নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে দারুণ এক আপডেট দিয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
তিনি জানিয়েছেন, ডান পায়ের কাফ মাসলের (ছ্যাঁদা মাংসপেশি) চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠেছেন নেইমার। তিনি এখন শারীরিকভাবে এতটাই ফিট যে নরওয়ের বিপক্ষে পুরো নব্বই মিনিটই মাঠে অবদান রাখতে পারবেন। কোচের এই ঘোষণা ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মনে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।
শুরু থেকেই কি মাঠে থাকবেন নেইমার? কোচের স্পষ্ট জবাব
নকআউট পর্বের এই মহা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই সবার নজর ছিল নেইমারের ফিটনেসের দিকে। নেইমার শুরুর একাদশে (Starting XI) থেকে পুরো ম্যাচ খেলতে পারবেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কোচ আনচেলত্তি সরাসরি বলেন, “সে পুরোপুরি সক্ষম।”
আনচেলত্তি আরও বলেন, নেইমারের মতো বড় মাপের ফুটবলাররা সবসময়ই বেশি সময় মাঠে থাকতে চায় এবং দলের জয়ে অবদান রাখতে মুখিয়ে থাকে। এটাকে অত্যন্ত স্বাভাবিক বলেই মনে করেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। যেকোনো পেশাদার এবং বিশ্বমানের ফুটবলারের মধ্যেই দেশের জার্সিতে এমন ইচ্ছা থাকাটা ইতিবাচক লক্ষণ।
নেইমারের অভিজ্ঞতা ও দলের নির্ভরতা
নেইমারের মাঠের ফুটবল শৈলীর পাশাপাশি তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ওপরও ভরসা রাখছেন কোচ। সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন:
“নেইমারের মাঠের বিশাল অভিজ্ঞতা তাকে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করার অসাধারণ ক্ষমতা দেয়। দলের কঠিন ও প্রয়োজনের মুহূর্তে পুরো দল তার এই জাদুকরী দক্ষতার ওপর ভরসা করবে।”
কোচ মনে করেন, নরওয়ের মতো শক্তিশালী ডিফেন্সের বিপক্ষে নেইমারের চতুর পাস এবং ড্রিবলিং ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে আরও ধারালো করে তুলবে।
মাঠের বাইরেও দলের মূল নেতা নেইমার
কেবল মাঠের পারফরম্যান্সই নয়, মাঠের বাইরে ড্রেসিংরুমেও নেইমারের ভূমিকা নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কার্লো আনচেলত্তি। তিনি জানান, দলের তরুণ ও সিনিয়র সব ফুটবলারের কাছেই নেইমার একজন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিত্ব।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে নেইমার যেভাবে কঠোর অনুশীলন করেছেন এবং ইনজুরি কাটিয়ে ওঠার জন্য লড়াই করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। নেইমারের এই ফুটবল দক্ষতা, লড়াকু মানসিকতা আর পেশাদারিত্বের কারণেই তিনি এখনও ব্রাজিল দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে টিকে আছেন।
চোট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
চলতি বিশ্বকাপে নেইমারের পথচলাটা খুব একটা মসৃণ ছিল না। ইনজুরির কারণে গ্রুপ পর্বে তাকে সাইডলাইনে বসে থাকতে হয়েছে অধিকাংশ সময়। এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনি মাত্র একবারই মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাত্র ১৪ মিনিট খেলেছিলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
তবে এত কম সময় খেলার পরও ৩৪ বছর বয়সী এই পিএসজি ও বার্সেলোনার সাবেক ফরোয়ার্ড এখন পুরোপুরি চোটমুক্ত। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর মঞ্চে যদি দলের প্রয়োজন হয়, তবে শুরু থেকে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত দলের হাল ধরতে পুরোপুরি প্রস্তুত নেইমার। এখন দেখার বিষয়, কোচের এই তাসের টেক্কা নরওয়েকে হারিয়ে ব্রাজিলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে পারে কি না!




