Tuesday, July 7, 2026

প্রধানমন্ত্রী বেতনের ১০ শতাংশ গরিবদের জন্য সরকারি কোষাগারে ফিরিয়ে দেন

বহুল পঠিত

দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজের প্রতি মাসের বেতনের একটি বড় অংশ গরিব ও মিসকিনদের কল্যাণে সরকারি তহবিলে ফেরত দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেখানো পথ অনুসরণ করেই এই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই চাঞ্চল্যকর ও ইতিবাচক তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী শুধু নিজেই এই টাকা দিচ্ছেন না, বরং মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যদেরও তাদের বেতনের একটি অংশ একইভাবে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঠিক কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী?

সোমবারের অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গতকালকের একটি মন্ত্রিসভা বৈঠকের হুবহু তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের প্রশাসনিক প্রধান ব্যক্তি হয়েও প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আমাদের একটি অনুরোধ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের উদ্দেশ্য করে বলেন:

“মন্ত্রী মহোদয়গণ, আমি একটা কথা বলব আজকে। আপনারা আমার কথাটা রাখতেও পারেন, আবার নাও রাখতে পারেন। তবে আমি অনেক চিন্তাভাবনা করে দেখেছি, এটা আপনাদের বলা উচিত। আমার আব্বা (সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) প্রতিমাসে তার বেতন থেকে ১০ শতাংশ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতেন গরিব-মিসকিনদের সাহায্য করার জন্য। আমি এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেতন নিচ্ছি, কারণ না নিয়ে আমার চলার উপায় নেই। আমার মূল বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। সেখান থেকে ১০ শতাংশ হারে প্রতি মাসে ১১ হাজার ৫০০ টাকা আমি সরকারের অ্যাকাউন্টে ফেরত দিয়ে দিই। আপনাদের কাছেও অনুরোধ, আপনাদের পক্ষে সম্ভব হলে আপনারাও এই কাজটা করতে পারেন।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই মহান ও বিনয়ী প্রস্তাব শুনে মন্ত্রিসভার সকল সদস্য অত্যন্ত খুশি হয়েছেন এবং একবাক্যে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেছেন।

সিজারিয়ানের নামে দালালচক্রের ব্যবসা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি

রাজনীতির পাশাপাশি দেশের বর্তমান স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে দেশের একটি শ্রেণী অতিমাত্রায় মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। মানুষের সেবা করার চেয়ে টাকা কামানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি উল্লেখ করেন, একসময় দেশের অধিকাংশ সন্তান জন্ম হতো স্বাভাবিক বা নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে। কিন্তু এখন আধুনিক যুগে এসে অপ্রয়োজনীয় সিজার বা অপারেশনের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। গর্ভাবস্থার শুরুতে নিয়মিত চেকআপ করার পরও অনেক সময় দালালচক্র ও কিছু নামধারী চিকিৎসাকেন্দ্র পরিবারগুলোকে বিভিন্ন ভয় দেখায়। ‘অপারেশন না করলে মা বা সন্তান বাঁচবে না’ এমন মিথ্যা ভয় দেখিয়ে তারা পরিবারগুলোকে সিজারের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। চিকিৎসা পেশায় এই ধরনের অনৈতিক কাজ বন্ধ করার জন্য চিকিৎসকদের আরও নীতিবান হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

স্বাস্থ্য খাতে ১ লাখ নতুন কর্মী ও বিশাল নারী নিয়োগের পরিকল্পনা

মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর পুষ্টির বিষয়ে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের মিডওয়াইফ বা ধাত্রীদের ভূমিকার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি এই সেক্টরের উন্নয়নে দুটি বড় ঘোষণা দেন:

  • ১ লাখ নতুন কর্মী নিয়োগ: চলতি বছরেই স্বাস্থ্য খাতে মোট ১ লাখ নতুন কর্মী নিয়োগের বড় পরিকল্পনা করেছে সরকার।
  • ৮০ হাজার নারী কর্মী: এই ১ লাখ কর্মীর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজারই নিয়োগ দেওয়া হবে নারীদের। যার একটি বিরাট অংশ সরাসরি প্রত্যন্ত অঞ্চলে মিডওয়াইফ বা ধাত্রী হিসেবে কাজ করবেন।

এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ঘোষণা করেন, আগামী শনিবারের মধ্যে দেশের প্রতিটি বেসরকারি ক্লিনিকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘লেবার রুম’ বা প্রসব কক্ষ স্থাপন করতে হবে। যদি কোনো ক্লিনিক এই নির্দেশ না মানে, তবে সরাসরি তাদের লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠান সিলগালা বা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ধাত্রীদের কর্মসংস্থান ও শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, একজন ধাত্রী বা মিডওয়াইফ ৪০টি নরমাল ডেলিভারি করানোর পর সরকারি রেজিস্ট্রেশন পান। প্রতি বছর দেশে প্রায় ৫৮০০ জন দক্ষ ধাত্রী তৈরি হলেও উপযুক্ত কাজের সুযোগ না থাকায় তাদের বড় অংশই ঝরে পড়েন। বেসরকারি হাসপাতালগুলো বছরে মাত্র ৫০০ জন ধাত্রীকে কাজের সুযোগ দেয়, আর বাকিরা সাধারণ নার্স হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হন। ফলে দক্ষ লোকের অভাবে অনেক সময় সন্তান প্রসবের সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায়। এই সমস্যার সমাধানেই সরকার নতুন করে বিশাল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরো পড়ুন

কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কার্বন নিঃসরণ কমানো এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে দেশের ‘কার্বন...

জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করতে এবং একটি সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও দেশজুড়ে শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয়...

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যাঁরা শহীদ ও আহত হয়েছেন, তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন, সম্মান ও পুনর্বাসন করা বর্তমান সরকারের প্রধান ও পবিত্র দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী...
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ