বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও এভিয়েশন খাতে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন এক মাইলফলক। বগুড়ার এরুলিয়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বিমানফিল্ডকে (Airfield) দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক সামরিক বিমানঘাঁটি এবং দক্ষ পাইলট তৈরির লক্ষ্যে একটি বিশ্বমানের ফ্লাইং অ্যাকাডেমি স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বগুড়া কেবল একটি জেলা শহর নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান ‘এভিয়েশন হাব’ হিসেবে গড়ে উঠতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি বগুড়া বিমানবন্দরের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও মতবিনিময় সভা
বগুড়া শহরের অদূরে বিমানবাহিনীর ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টরস স্কুলে আয়োজিত এই সভায় বগুড়ার অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন:
- রেজাউল করিম বাদশা: সংসদ সদস্য, বগুড়া সদর আসন।
- এয়ার ভাইস মার্শাল এ.এফ.এম শামীমুল ইসলাম: এয়ার অফিসার কমান্ডিং (এওসি), বিএএফ ঘাঁটি কক্সবাজার।
এ ছাড়া সভায় বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বিমান বাহিনীর ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টরস স্কুলের অফিসার কমান্ডিং গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুসাইন মুহাম্মদ রায়হানসহ স্থানীয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের মূল আকর্ষণসমূহ
এরুলিয়া এয়ারফিল্ডকে কেন্দ্র করে সরকারের এই বৃহৎ মাস্টারপ্ল্যানে যে বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে:
১. চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের পর বগুড়া বিমানবন্দর হতে যাচ্ছে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিমানবন্দর। এর ফলে সরাসরি বিদেশ থেকেও এই অঞ্চলে যাতায়াত সহজ হবে।
২. পূর্ণাঙ্গ সামরিক বিমানঘাঁটি
দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বগুড়ায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি বা স্টেশন স্থাপন করা হবে।
৩. আন্তর্জাতিক মানের ফ্লাইং অ্যাকাডেমি
দক্ষ ও পেশাদার পাইলট তৈরির উদ্দেশ্যে এখানে একটি আধুনিক ‘ফ্লাইং অ্যাকাডেমি’ নির্মাণ করা হবে, যা দেশের এভিয়েশন খাতের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে এর প্রভাব
বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপিত হলে এর সুফল পাবে সমগ্র উত্তরাঞ্চল। সভায় বক্তারা এর কয়েকটি বড় ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন:
- ১৬ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন: বগুড়া সহ উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলার বাসিন্দাদের জন্য আকাশপথে যাতায়াত অত্যন্ত সহজ ও দ্রুতগতির হবে।
- ব্যবসা-বাণিজ্য ও কার্গো সেবা: বিমানবন্দরটিতে আন্তর্জাতিক কার্গো সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি পণ্য, শিল্পপণ্য এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে।
- কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধি: বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচুর নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমন্বয়
সভায় উপস্থিত সকল বক্তাই একমত প্রকাশ করেন যে, আন্তর্জাতিক মানের এই অবকাঠামো নির্মাণ সফল করতে হলে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তর, বিমান বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সঠিক সমন্বয় ও সহযোগিতা জরুরি। দেশের উত্তরবঙ্গের এই অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচনে দ্রুত কাজ শুরু করার তাগিদ দেওয়া হয়।
বগুড়াকে আন্তর্জাতিক মানের এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করার এই সিদ্ধান্ত উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের সামগ্রিক জিডিপি বৃদ্ধিতে অবদান রাখার পাশাপাশি আকাশপথের নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে।




