আয়াতুল কুরসি (Ayatul Kursi) হলো কুরআনের সবচেয়ে শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ আয়াতগুলোর একটি। এই আয়াতটিকে বলা হয় “আরশের আয়াত”, কারণ এতে আল্লাহর একত্ব,মহান ক্ষমতা, জ্ঞান ও সৃষ্টির উপর পূর্ণ কর্তৃত্বের বর্ণনা রয়েছে। আয়াতুল কুরসি আল্লাহর মহিমা, নিঃশর্ত ক্ষমতা এবং সকল সৃষ্টির ওপর নিয়ন্ত্রণের বর্ণনা দেয়। নীচে (Ayatul Kursi Bangla) আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ফযিলত আলোচনা করা হলো।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
আয়াতুল কুরসি শব্দটি আরবি থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো “আল্লাহর সিংহাসন” বা “আল্লাহর সর্বশক্তিমান রাজত্বের নিদর্শন।” সহিহ হাদিস অনুযায়ী, এই আয়াতটি পড়া ব্যক্তিকে মানসিক শান্তি, সুরক্ষা ও জান্নাতের গ্যারান্টি প্রদান করে।
কোরআনে কোন সূরায় এসেছে
আয়াতুল কুরসি সূরা আল-বাকারা (২:২৫৫) নং আয়াতে এসেছে। হাদিস অনুযায়ী, নামাজের পর এটি নিয়মিত পাঠ করলে ব্যক্তির মৃত্যু ব্যতিত জান্নাতে প্রবেশে কোন বাধা থাকবে না। এছারাও এই মহিমান্বিত আয়াতের ফযলিতের কথা হাদিসে উল্লেখ আছে।
আয়াতুল কুরসি আরবি পাঠ
اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ اَلۡحَیُّ الۡقَیُّوۡمُ ۬ۚ لَا تَاۡخُذُهٗ سِنَۃٌ وَّ لَا نَوۡمٌ ؕ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یَشۡفَعُ عِنۡدَهٗۤ اِلَّا بِاِذۡنِهٖ ؕ یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡهِمۡ وَ مَا خَلۡفَهُمۡ ۚ وَ لَا یُحِیۡطُوۡنَ بِشَیۡءٍ مِّنۡ عِلۡمِهٖۤ اِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ كُرۡسِیُّهُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ ۚ وَ لَا یَـُٔوۡدُهٗ حِفۡظُهُمَا ۚ وَ هُوَ الۡعَلِیُّ الۡعَظِیۡمُ
আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ | Ayatul Kursi Bangla Uccharon
আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ শুধুমাত্র বোঝার ও সহায়তার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। সঠিক তেলাওয়াতের জন্য আরবি ভাষা শেখা ও শুদ্ধ উচ্চারণ অপরিহার্য। ভুল উচ্চারণের কারণে অর্থের পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা গুনাহের কারণ হতে পারে।
আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম,
লা তা খুযুহু সিনাতুঁ ওয়ালা নাঊম,
লাহু মা ফিস্ সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ,
মান যাল্লাজি ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বিইজনিহি,
ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খলফাহুম,
ওয়া লা ইউহিতূনা বি শাই’ইম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শা’,
ওয়া সিঅা কুরসিয়্যুহুস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ,
ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা,
ওয়া হুয়াল আলিয়্যুল আজিম।
আয়াতুল কুরসি বাংলা অর্থ | Ayatul Kursi Bangla Meaning
আল্লাহ- তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক ও পালনকর্তা। তাঁকে ঘুম বা তন্দ্রা স্পর্শ করে না।
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর যা কিছু আছে সব কিছুই তাঁর। কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তিনি জানেন যা তাদের সামনে এবং যা তাদের পেছনে।
তাঁরা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন ততটুকু ছাড়া। তাঁর কুরসি (সিংহাসন) আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী পর্যন্ত বিস্তৃত।
উভয়কে রক্ষা করা তাঁর জন্য কোনো কষ্টের নয়। আর তিনি মহা উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, মহান।
আয়াতুল কুরসির প্রতিটি শব্দের সহজ বাংলা অর্থ | Ayatul Kursi Bangla Meaning For Every Word
| আরবী শব্দ | বাংলা অর্থ | আরবী শব্দ | বাংলা অর্থ |
| اللّٰهُ | আল্লাহ | اِلَّا | ছাড়া/ এছাড়া |
| لَاۤ | নেই | بِاِذۡنِهٖؕ | তাঁর অনুমতি |
| اِلٰهَ | কোনো ইলাহ | يَعۡلَمُ | তিনি জানেন |
| اِلَّا | ছাড়া | بَيۡنَ | (মাঝে) |
| هُوَ | তিনি | اَيۡدِيۡهِمۡ | তাদের সামনে(হাতের) |
| الۡحَـىُّ | চিরঞ্জীব | خَلۡفَهُمۡۚ | তাদের পিছনে |
| الۡقَيُّوۡمُ | সর্বসত্তার ধারক | وَلَا | এবং না |
| لَا | না | يُحِيۡطُوۡنَ | তারা আয়ত্ত করতে পারে |
| تَاۡخُذُهٗ | তাকে স্পর্শ করতে পারে | بِشَىۡءٍ | সামান্য কিছুও |
| سِنَةٌ | তন্দ্রা | مِّنۡ | হতে |
| وَّلَا | আর না | عِلۡمِهٖۤ | তাঁর জ্ঞান |
| نَوۡمٌؕ | ঘুম | بِمَا ۚ | যা সে বিষয়ে |
| ؕ لَهٗ | তাঁরই জন্য | شَآءَ | তিনি চান |
| مَا | যা কিছু | وَسِعَ | পরিব্যাপ্ত করে আছে |
| فِى | মধ্যে (আছে) | كُرۡسِيُّهُ | তাঁর (কর্তৃত্ব) আসন |
| السَّمٰوٰتِ | আকাশ সমূহের | السَّمٰوٰتِ | আকাশ সমূহে |
| وَمَا | এবং যা কিছু | وَالۡاَرۡضَ | ও পৃথিবীতে |
| الۡاَرۡضِؕ | পৃথিবীর | وَلَا | এবং না |
| مَنۡ | কে | يَـــُٔوۡدُهٗ | তাঁকে ক্লান্ত করে |
| ذَا | সে (এমন সম্পন্ন) | حِفۡظُهُمَا | এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ |
| الَّذِىۡ | যে | وَ هُوَ | এবং তিনি |
| يَشۡفَعُ | সুপারিশ করবে | الۡعَلِىُّ | সুউচ্চ (সত্তা) |
| عِنۡدَهٗۤ | তাঁর কাছে | الۡعَظِيۡمُ | সুমহান |
আয়াতুল কুরসীর সৌন্দর্য: আল্লাহর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা
আল্লাহ্ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁর কুরসী আকাশ ও পৃথিবী পরিবেষ্টন করে আছে। এই আয়াত আমাদের সকল বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করুক, আমীন।
প্রতিটি বাক্যে আল্লাহর পরিচয়: তাওহীদের ১০টি মূলনীতি
এই আয়াতের মূল বার্তা – আল্লাহর একত্ববাদ (তাওহীদ) – এবং এর প্রতিটি বাক্যের তাৎপর্যকে ফোকাস করে।
- আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই: একত্বের ঘোষণা
- চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক: আল্লাহর জীবন ও স্থায়িত্ব
- তন্দ্রা ও ঘুম তাঁকে স্পর্শ করে না: পূর্ণাঙ্গ রক্ষণাবেক্ষণকারী
- আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সবকিছু তাঁরই: নিরঙ্কুশ মালিকানা
- তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশকারী কে?: কর্তৃত্বের প্রমাণ
- সামনে-পেছনে সবকিছুই তাঁর জানা: অনন্ত জ্ঞান
- তাঁর জ্ঞানের কিছুই কেউ আয়ত্ত করতে পারে না: জ্ঞানের পরিসীমা
- তাঁর কুরসী আকাশ ও পৃথিবী পরিবেষ্টন করে আছে: ক্ষমতার বিস্তার
- উভয়ের রক্ষণাবেক্ষণে তিনি ক্লান্ত হন না: অসীম কুদরত
- তিনি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, মহান: চূড়ান্ত শ্রেষ্ঠত্ব
আয়াতুল কুরসি ফজিলত ও উপকারিতা
আয়াতুল কুরসীর ফজিলত ও উপকারিতা অনেক। এরমধ্যে সংক্ষেপে কয়েকটি ফজিলত উল্লেখ করা হলো…
- রক্ষাকারী আয়াত: আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে মানুষ আল্লাহর হেফাজতে থাকে।
- মৃত্যুর পর পরই জান্নাত: ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে মৃত্যু ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশে বাধা থাকে না।
- শয়তান থেকে সুরক্ষা: হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়ে, শয়তান তার কাছে আসতে পারে না।
- জ্ঞান ও ঈমানের শক্তি: এই আয়াত আল্লাহর একত্ব ও সর্বশক্তিমানত্বের স্পষ্ট প্রমাণ।
- বরকত ও প্রশান্তি: নিয়মিত পাঠে হৃদয়ে শান্তি ও ঘরে বরকত আসে।
- চুরি থেকে রক্ষা: হাদিসের আলোকে অনেক ওলামা-কেরাম মনে করেন চোরের চুরি থেকে রক্ষা করে এই আয়াত।
- দুষ্ট জীন থেকে রক্ষা: হাদিসে এসেছে সকালে পাঠ করলে সারাদিন সুরক্ষা এবং রাতের বেলা পাঠ করলে সারা রাত সুরক্ষা পাওয়া যায়।
কখন আয়াতুল কুরসি পড়া উত্তম?
- প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে
- ঘুমানোর আগে
- সকাল ও সন্ধায়
- ভয় বা উদ্বেগের সময়
নিয়মিত পাঠ করলে আত্মবিশ্বাস, মনোবল ও আল্লাহর নৈকট্য বৃদ্ধি পায়।
এটি শুধু কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াতই নয়। এটি এক ধরনের দোয়া ও সুরক্ষা কবচ, যা ইতিবাচক শক্তি ও আল্লাহর রহমতের স্মরণ করিয়ে দেয়।
আয়াতুল কুরসির হাদিস
১. আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সালাতের পরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে তার জন্য মৃত্যু ব্যতিত জান্নাতে প্রবেশে আর কোন বাধা থাকবেনা। অর্থাৎ মৃতবরণ করা মাত্রই জান্নাত। (বিস্তারিত: নাসায়ী, ত্বাবারানী,সহীহুল জামে।)
২। রাতে শোয়ার আগে আয়াতুল কুরসী পাঠ করলে, আল্লাহ সেই রাতে তার জন্য একটি ফেরেশতা নিয়োগ দেন।
সেই রাত জুড়ে শয়তান তার কাছে পৌঁছাতে পারে না। (বিস্তারিত: সহিহ বুখারীঃ ২৩১১)
৩। উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি সকালে আয়াতুল কুরসী পড়বে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত জ্বিনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে। আবার, যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, সে সকাল পর্যন্ত জ্বিনের আঘাত থেকে নিরাপদ থাকবে। (ছহীহ তারগীব ওয়াত-তারহীব, হা/৬৬২; আল মু‘জামুল কাবীর- ত্ববারানী, হা/ٰ৫৪১)। প্রশ্নোত্তর: মাসিক আল-ইতিসাম
৪। উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ হে আবুল মুনযির! তোমার কাছে আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি আবার বলেন, হে আবুল মুনযির! তোমার কাছে আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ? আমি বললাম, ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম’ (আয়াতুল কুরসী)। তখন তিনি আমার বুকে (হালকা) আঘাত করে বলেন- হে আবুল মুনযির! তোমার জ্ঞান আনন্দদায়ক হোক। ( বিস্তারিত: আবু দাউদ-১৪৬০ , মুসলিম অধ্যায় : মুসাফিরের সালাত, অনুঃ সূরাহ কাহাফ ও আয়াতুল কুরসির ফযিলত)
৫। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ প্রতিটি বস্তুরই চূড়া আছে। কুরআনের উচু চূড়া হল সূরা বাকারা। এতে এমন একটি আয়াত আছে যা কুরআনের আয়াত সমূহের প্রধান। আর তা হল আয়াতুল কুরসী। হাদিসটি দুর্বল, জামে’ আত-তিরমিজি : ২৮৭৮।
আয়াতুল কুরসীর গুরুত্ব
আয়াতুল কুরসী হলো কুরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও শক্তিশালী আয়াত। এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালার একত্ব, জ্ঞান, ক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বের পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে। আয়াতুল কুরসি জীবনকে নিরাপত্তা ও বরকত দেয়। এটি ইসলামী শিক্ষার একটি মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত বলা হয়।
কেন আয়াতুল কুরসি এত গুরুত্বপূর্ণ?
এটি শুধু ধর্মীয় দিক থেকে নয়, মানসিক ও দৈনন্দিন জীবনের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
মানসিক শান্তি ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি
আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পড়লে মানসিক শান্তি এবং আধ্যাত্মিক আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।
- এটি আমাদের মনে আনে আল্লাহর সর্বশক্তিমানের উপস্থিতি।
- বিপদ বা উদ্বেগের মুহূর্তে এটি হৃদয়কে প্রশান্ত করে।
আল্লাহর উপর নির্ভরতা শেখায়
আয়াতুল কুরসি আমাদের শেখায় আল্লাহর উপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা স্থাপন করতে।
- আল্লাহই সর্বশক্তিমান এবং সমস্ত সৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী।
- আয়াতটি পড়লে মানুষ বুঝতে পারে যে, সকল সমস্যা ও বিপদ থেকে মুক্তি আল্লাহর হস্তে।
- এটি বিশ্বাস ও তওহিদের শক্তি বৃদ্ধি করে।
উপসংহার
আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ( Ayatul Kursi Bangla ) শেখা ও পাঠ করা শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং এটি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও শান্তির প্রতীক। প্রতিদিন আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে জীবনে আসবে নিরাপত্তা, প্রশান্তি ও বরকত- যা একজন বিশ্বাসীর জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে উত্তম প্রতিদান ।
Ayatul Kursi Bangla সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)
১. আল্লাহু লা ইলাহা আয়াতুল কুরসির অর্থ কী?
উত্তরঃ আয়াতুল কুরসির আরবি শুরু “اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ” অর্থ:
“আল্লাহ – তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি জীবিত, সবকিছু পরিচালনাকারী।।”
এটি আল্লাহর একত্ব, জীবন্ত ও অনন্ত ক্ষমতার প্রকাশ।
২. আয়াতুল কুরসি পড়লে কি ফজিলত আছে?
উত্তরঃ সহীহ হাদিস অনুযায়ী আয়াতুল কুরসি পড়ার অনেক ফজিলত আছে:
- এটি সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত এবং বিশ্বাসীদের জন্য রক্ষা ও সুরক্ষা।
- নামাজের পরে পড়লে জান্নাতে প্রবেশের দ্বার খুলে যায়।
- ঘুমানোর আগে পড়লে শয়তান দূরে থাকে।
- দৈনন্দিন জীবনে বিপদ, সমস্যা ও অসুবিধা থেকে সুরক্ষা দেয়।
৩. হাইয়ুল কাইয়ুম এর অর্থ কী?
উত্তরঃ “الْحَيُّ الْقَيُّومُ” অর্থ:
- হায়্যু: চিরজীবী, মৃত্যু ও অশান্তি থেকে মুক্ত।
- কাইয়ুম: সমস্ত সৃষ্টির রক্ষক ও পরিচালনাকারী।
মোট অর্থ: আল্লাহ চিরজীবী ও সমস্ত সৃষ্টিকে পরিচালনাকারী।
৪. আয়াতুল কুরসি কি ধরনের দোয়া?.
উত্তরঃ আয়াতুল কুরসি মূলত সুরক্ষা ও আল্লাহর একত্বের স্বীকৃতি প্রকাশ করে। এটি দোয়ার সঙ্গে সমান, কারণ এটি পড়লে আধ্যাত্মিক শান্তি ও আল্লাহর রক্ষা প্রার্থনা করা হয়।
৫. কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত কোনটি?
উত্তরঃ সহীহ হাদিসে বলা হয়েছে, সূরা বাকারা, আয়াত ২৫৫ (আয়াতুল কুরসি) হলো কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত।
কারণ এটি আল্লাহর একত্ব, জীবন্ততা এবং ক্ষমতার পূর্ণ ব্যাখ্যা দেয়।
৬. আয়াতুল কুরসি কখন পড়তে হবে?
উত্তরঃ
- প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে।
- ঘুমানোর আগে।
- বাড়ি ত্যাগের আগে বা বিপদে পড়লে।
- শিশুদের জন্যও পড়ানো যেতে পারে সুরক্ষা দানের জন্য।
৭. আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমালে কি হয়?
উত্তরঃ
- শয়তান থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।
- রাত্রি শান্তিতে কাটে,তেলাওয়াত কারীর আল্লাহ তায়ালা জন্য ফেরেশতা নিযুক্ত করেদেন।
- ঘুমানো অবস্থায়ও আল্লাহর রক্ষা বজায় থাকে।
৮. কাইয়ুম নামের আরবি অর্থ কী?
উত্তরঃ “الْقَيُّومُ” ‘কাইয়্যুম’ (Al-Qayyum) অর্থ: ‘চিরস্থায়ী‘, ‘সবকিছুর ধারক‘ বা ‘সবকিছুর রক্ষক‘, ও পরিচালনাকারী।
আল্লাহ সমস্ত জগত নিয়ন্ত্রণ করেন, কেউ তাঁর অনুমতি ছাড়া কিছু করতে পারে না।
৯. সূরা বাকারা ২৫৫ নম্বর আয়াতটি কী বলে?
উত্তরঃ
- আয়াতুল কুরসি আল্লাহর একত্ব, জীবন, জ্ঞান এবং ক্ষমতা ব্যাখ্যা করে।
- বলে: আল্লাহ মৃত্যু ও জীবন, আকাশ ও পৃথিবী সবকিছুর রক্ষক।
- কেউ তাঁর অনুমতি ছাড়া কিছু করতে পারে না।
১০. আয়াতুল কুরসি দিয়ে কি নামাজ পড়া যাবে?
উত্তরঃ আয়াতুল কুরসি কেবল নামাজের ফরজ বা সুন্নাত অংশ নয়, তবে নামাজের শেষে পড়া সুনত বা দোয়ার অংশ হিসেবে আদর্শ।
অর্থাৎ, আয়াতুল কুরসি পড়ার মাধ্যমে নামাজ সম্পূর্ণ হয় না, তবে ফজিলত ও সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
১১. আয়াতুল কুরসি পরে ঘুমালে কি হয়?
উত্তরঃ একজন ফেরেশতাকে আল্লাহ তায়ালা পাহারাদার হিসেবে নিযুক্ত করেন, যিনি সারারাত শয়তান ও খারাপ জীন থেকে সুরক্ষা দেন।
১২. আয়াতুল কুরসি সম্পর্কে কোন হাদিস রয়েছে?
উত্তরঃ হ্যাঁ। আয়াতুল কুরসি সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণনা হয়েছে।
১৩. আয়াতুল শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ আয়াতুল শব্দের অর্থ হলো- “আয়াত” বা “প্রমাণ”
১৪. কুরসি শব্দের অর্থ কি?
উত্তরঃ ইসলামিক পরিভাষায়, কুরসি বলতে আল্লাহর আসন বা সিংহাসনকে বোঝানো হয়। সূরা বাকারার ২৫৫তম আয়াত “আয়াতুল কুরসি” হিসেবে পরিচিত।
কুরআনের অন্যান্য কিছু সূরার বাংলা অর্থও ও উচ্চারণ:
১. সূরা কাফিরুন: বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
২. সূরা আসর বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
৩. সূরা ফাতিহা বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
৪. সূরা আদ দুহার বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, তাফসীর ও ফজিলত
৫. সূরা মাউন বাংলা উচ্চারণসহ অর্থ ও ফজিলত
৬. সূরা লাহাব বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও তাফসীর
৭. সূরা ইখলাস – বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
৮. সূরা ফালাকের বাংলা উচ্চারণ, আরবি, অর্থ ও তাফসীর
৯. সূরা ফীল বাংলা উচ্চারণ, আরবি, অর্থ, তাফসীর ও ফজিলত – সম্পূর্ণ গাইড
১০. সূরা কদরের বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ: লাইলাতুল কদরের মহিমা, আমল ও ফজিলত
১১. পড়া মনে রাখার দোয়া, অর্থ ও ফজিলত
১২. সূরা কাউসারের বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ
১৩. সূরা নাসের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ
১৪. দরুদ শরীফের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ | ফজিলত, ব্যাখ্যা সহ সম্পূর্ণ গাইড