বৃহস্পতিবার, মার্চ ৫, ২০২৬

ব্যাংকের মূলধন ১০ শতাংশের নিচে নামলে কর্মকর্তাদের বোনাস বন্ধ: গভর্নরের কঠোর সতর্কবার্তা

বহুল পঠিত

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ঘোষণা দিয়েছেন যে, ব্যাংকের মূলধন যদি ১০ শতাংশের নিচে নেমে যায় এবং প্রভিশন ঘাটতি থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বোনাস বন্ধ থাকবে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশ (এনআরবি) এর আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই বার্তা দেন।

গভর্নর বলেন, “ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই পর্যাপ্ত মূলধন ও প্রভিশন রক্ষা করতে হবে। তা না হলে শুধু বোনাস নয়, শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্টও দেওয়া হবে না।” তিনি আরও যোগ করেন যে এই পদক্ষেপ ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর জানান, খেলাপি ঋণের ঝুঁকি এখনো গুরুতর। জুন মাসের প্রতিবেদনে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ খেলাপির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। রবিবার থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, দেশের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট ইতিবাচক অবস্থায় আছে, রেমিট্যান্স প্রবাহ ২১ শতাংশ বেড়েছে এবং রপ্তানি আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি হুন্ডির ব্যবহার কমে আসায় প্রবাসী আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ লিকেজ বন্ধ হয়েছে। তবে, ডলারের সংকট না থাকলেও টাকার সংকট বিদ্যমান, যা মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্যে কাজ করছে।

অর্থনীতিবিদ ড. রুমান আহমেদ বলেন, “গভর্নরের এই উদ্যোগ ব্যাংকিং সেক্টরের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক হবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।”

গভর্নরের এই ঘোষণা ও সতর্কবার্তা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আর্থিক শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলে দেশের অর্থনীতি আরও মজবুত হবে এবং ব্যাংকিং খাত ফিরে পাবে সুস্থ পরিবেশ।

আরো পড়ুন

কৃষি কার্ড, ১০ হাজার কোটি ঋণ মওকুফ ও ৪৭৫ মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক চালু

বাংলাদেশের কৃষিখাতে একের পর এক ইতিবাচক উদ্যোগ দেশব্যাপী আশার আলো ছড়াচ্ছে। কৃষির উন্নয়ন হলেই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ।

স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক পরিবেশে উদযাপন শুরু

শুরু হলো অগ্নিঝরা মার্চ- বাঙালির স্বাধীনতার ইতিহাসে এক অনন্য, গৌরবোজ্জ্বল ও সংগ্রামী অধ্যায়ের মাস। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে অধিকার প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন এই মার্চ। ১৯৭১ সালের এই মাসেই রচিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনা, উচ্চারিত হয়েছিল স্বাধীনতার অমর ঘোষণা।

চার মাস পর ভারতে রফতানি হলো সুপারি বোঝাই ১৭৬ ট্রাক

দীর্ঘ চার মাসের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতে রফতানি হয়েছে সুপারি বোঝাই ১৭৬টি ট্রাক। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মান পরীক্ষার ছাড়পত্র পাওয়ার পর বেনাপোল বন্দর থেকে এসব ট্রাক পর্যায়ক্রমে ভারতে প্রবেশ করেছে।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ