রাজনীতিতে স্বচ্ছতা আর জনসম্পৃক্ততার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহে সাধারণ মানুষের কাছে সহযোগিতা চাওয়ার মাত্র ২৫ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর নির্বাচনি তহবিলে জমা পড়েছে প্রায় ২২ লাখ টাকা।
সোমবার (গতকাল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এই তথ্য জানান ব্যারিস্টার ফুয়াদ। মুহূর্তেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিকাশ, নগদ ও ব্যাংকে জমা টাকার বিস্তারিত হিসাব
ফেসবুক লাইভে ব্যারিস্টার ফুয়াদ জানান,
- দুটি বিকাশ অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে ১১ লাখ ২০ হাজার ৯৬৯ টাকা,
- একটি নগদ অ্যাকাউন্টে পাওয়া গেছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৬০৯ টাকা,
- ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৪৬৭ টাকা।
এ ছাড়া অফলাইনে তাঁর নির্বাচনি কার্যালয়ে এসে একজন সাংবাদিক সরাসরি ২ হাজার টাকা প্রদান করেন।
সব মিলিয়ে গত ২৫ ঘণ্টায় মোট ২১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৫ টাকা জমা হয়েছে তাঁর নির্বাচনি তহবিলে।
‘এই টাকা আমার নয়, জনগণের আমানত’
লাইভে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন,
“এই অর্থ কোনো দয়া বা অনুদান নয়। এটি জনগণের আস্থা ও আমানত। আমি প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরব।”
তিনি জানান, নগদ, বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রাপ্ত প্রতিটি টাকার পূর্ণ হিসাব এবং কোন খাতে কীভাবে ব্যয় হচ্ছে—তা নিয়মিতভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
ফেক পেজ ও প্রতারণা নিয়ে সতর্কবার্তা
একই সঙ্গে সবাইকে সতর্ক করে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, তাঁর সহযোগিতা চেয়ে দেওয়া ভিডিওটি কপি করে অনেকে ফেসবুকে ভুয়া পেজ খুলে প্রচার করছে। সেখানে বিকাশ ও নগদ নম্বর পরিবর্তন করে প্রতারণার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন,
“যাঁরা সহযোগিতা করতে চান, তাঁরা যেন অবশ্যই আমার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত আইডিতে দেওয়া নম্বর যাচাই করে টাকা পাঠান।”
স্বচ্ছ রাজনীতির পথে সাহসী পদক্ষেপ
এর আগে নির্বাচনি ব্যয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে গত রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ব্যারিস্টার ফুয়াদ নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি প্রকাশ্যে নিজের বিকাশ পার্সোনাল নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দেন—যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল একটি ঘটনা।
বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগ রাজনীতিতে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে এবং ভবিষ্যতে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া: ‘এটাই আমরা চাই’
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করছেন, জনগণের অর্থে নির্বাচিত হলে একজন জনপ্রতিনিধি জনগণের কাছেই বেশি দায়বদ্ধ থাকবেন।
মুলাদীর এক বাসিন্দা বলেন,
“যে মানুষ নির্বাচনের শুরুতেই হিসাব জনসমক্ষে দিচ্ছেন, তিনি ক্ষমতায় গেলে লুকোচুরি করবেন না—এই বিশ্বাস তৈরি হচ্ছে।”
Goodnews Bangladesh বিশ্লেষণ
টাকার জোর নয়, মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে নির্বাচন—ব্যারিস্টার ফুয়াদের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে রাজনীতিতে একটি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি শুধু একটি নির্বাচনি তহবিল সংগ্রহ নয়; বরং জনমুখী ও স্বচ্ছ রাজনীতির পথে একটি সাহসী পদক্ষেপ।