আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে সারা দেশে মাসব্যাপী বিস্তৃত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। জনগণের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা বাড়াতে নেওয়া এই কর্মসূচির মূল স্লোগান— ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিন, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলুন।’
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।
১৫ কর্মসূচিতে গণভোটের পক্ষে জনমত গঠন
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে শক্তিশালী জনমত তৈরির লক্ষ্যে ডাকসু মোট ১৫টি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- দেশব্যাপী সরাসরি জনসংযোগ কার্যক্রম
- অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাম্পেইন
- প্রদর্শনী ও বিতর্ক আয়োজন
- রাষ্ট্রীয় সংস্কার বিষয়ে সেমিনার
- সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা
- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে আলোচনা
- ‘জুলাই আহতদের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা
- দেশাত্মবোধক গান, কবিতা ও ডকুমেন্টারি প্রকাশ
- বক্তৃতা প্রতিযোগিতা
- পথনাটক ও মাইম শো
- ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময়
- সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সফরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের পথ গণভোট
লিখিত বক্তব্যে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন,
“জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক সংস্কার এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। সেই চেতনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ হলো এই গণভোট।”
তিনি আরও বলেন, গণভোটে অংশগ্রহণ এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান ও দায়বদ্ধতার প্রকাশ। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের ফলে জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বঞ্চিত ছিল, এই গণভোট সেই কাঠামো ভাঙার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
‘হ্যাঁ’ বিজয়ে কার্যকর হবে জুলাই সনদ
ডাকসু ভিপি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে জুলাই সনদ কার্যকর হবে, রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীন ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এতে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতেই ফিরে আসবে।
সর্বস্তরের জনগণের প্রতি ঐক্যের আহ্বান
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি, এনসিপিসহ সব ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়-
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশব্যাপী গণজোয়ার সৃষ্টি করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ, রাইসুল ইসলাম ও বেলাল হোসাইন অপু।




