বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশের মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা আরও দ্রুত পৌঁছে দিতে নতুন করে পাঁচটি উপজেলা গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৭ মে (বৃহস্পতিবার) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’ (নিকার)-এর ১২০তম বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
কোন জেলাগুলো পেল নতুন উপজেলা
নিকার-এর বৈঠকে দেশের চারটি জেলার বড় কিছু উপজেলাকে ভাগ করে নতুন এই প্রশাসনিক ইউনিটগুলো তৈরি করা হয়েছে। নতুন গঠিত ৫টি উপজেলা হলো:
১. মোকামতলা: বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলাকে ভাগ করে এই নতুন উপজেলা গঠন করা হয়েছে।
২. মাতামুহুরী: কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলাকে ভাগ করে তৈরি হয়েছে মাতামুহুরী উপজেলা।
৩. রুহিয়া: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে রুহিয়া উপজেলা গঠন করা হয়েছে।
৪. ভুল্লী: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা থেকেই গঠিত হয়েছে আরও একটি নতুন উপজেলা ‘ভুল্লী’।
৫. চন্দ্রগঞ্জ: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাকে ভাগ করে নতুন প্রশাসনিক এলাকা হিসেবে চন্দ্রগঞ্জকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বগুড়া সিটি করপোরেশন: দেড়শ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান
এই বৈঠকের সবচেয়ে বড় চমক ছিল বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত। দীর্ঘ প্রায় ১৫০ বছর পর বগুড়াবাসীর লালিত স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। নিকার-এর বৈঠকে বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠনের প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বগুড়া উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।
বর্তমানে দেশে উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের সংখ্যা কত?
নতুন এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের ফলে দেশের প্রশাসনিক পরিসংখ্যান বদলে যাচ্ছে।
- মোট উপজেলা: বর্তমানে দেশে ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। নতুন ৫টি যুক্ত হওয়ার ফলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৫০০-এ।
- সিটি করপোরেশন: বর্তমানে ১২টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। বগুড়া যুক্ত হওয়ার পর এই সংখ্যা দাঁড়াবে ১৩-তে।
নতুন উপজেলা গঠনের সুবিধা
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ নানাভাবে উপকৃত হবেন:
- সেবার সহজলভ্যতা: বিশাল আয়তনের উপজেলাগুলোতে সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে অনেক দূর ভ্রমণ করতে হতো। এখন সেবা অনেক কাছাকাছি চলে আসবে।
- অবকাঠামোগত উন্নয়ন: নতুন উপজেলা মানেই নতুন সরকারি অফিস, হাসপাতাল এবং উন্নত রাস্তাঘাট। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক উন্নয়ন হবে।
- কর্মসংস্থান: নতুন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির ফলে স্থানীয় শিক্ষিত যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
প্রশাসনিক এই পুনর্বিন্যাস কেবল নাম পরিবর্তন নয়, বরং এটি তৃণমূল মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের একটি বড় পদক্ষেপ। বগুড়াবাসীর জন্য সিটি করপোরেশন পাওয়া যেমন আনন্দের, তেমনি নতুন পাঁচটি উপজেলার বাসিন্দাদের জন্যও এটি দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন। সরকারি গেজেট প্রকাশের পর খুব শীঘ্রই এই নতুন প্রশাসনিক ইউনিটগুলোর কার্যক্রম শুরু হবে।




