দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখন থেকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় স্কুল ব্যাগ, ড্রেস এবং উন্নত মানের জুতা (ফুটওয়্যার) প্রদান করবে সরকার। গত ৭ মে (বৃহস্পতিবার) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় জুতা ও চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এই পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা ও উদ্যোগ
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো শিশুদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা। এই উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো, শিক্ষার্থীদের যে ব্যাগ দেওয়া হবে তা হবে পরিবেশবান্ধব এবং দেশীয় ঐতিহ্যের প্রতীক ‘পাটের তৈরি ব্যাগ’। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে, অন্যদিকে দেশীয় পাট শিল্পেরও প্রসার ঘটবে।
বাটা ও এপেক্সসহ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ
শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত জুতা নিশ্চিত করতে দেশের নামী-দামি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। সভায় বাটা (Bata), এপেক্স (Apex), প্রাণ-আরএফএল (PRAN-RFL) এবং বসুন্ধরা গ্রুপের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের সিএসআর (CSR) কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সরকারকে এই প্রকল্পে অনুদান ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
প্রথম ধাপে ১ লক্ষ শিক্ষার্থীর হাতে উঠবে নতুন জুতা
সরকার এই পুরো বিষয়টি একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু করতে যাচ্ছে। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
- টার্গেট গ্রুপ: প্রথম ধাপে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পাবে।
- পরিধি: প্রাথমিকভাবে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুইটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।
- শিক্ষার্থী সংখ্যা: প্রায় ১ লক্ষ শিক্ষার্থীর মাঝে মানসম্মত স্কুল জুতা বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
মান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কমিটি গঠন
সব শিশুর জন্য যেন একই মানের ও স্টাইলিশ জুতা নিশ্চিত করা যায়, সেজন্য একটি কারিগরি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ববি হাজ্জাজ। এই কমিটিতে লেদার ইনস্টিটিউট, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ এবং উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা থাকবেন। জুতার ডিজাইন ও গুণগত মান যেন আন্তর্জাতিক মানের হয়, তা কঠোরভাবে তদারকি করা হবে।
১৮০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য
সরকারের বর্তমান ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রজেক্টটি দ্রুত বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেহেতু দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলো নিয়মিত এসব পণ্য উৎপাদন করে, তাই অল্প সময়ের মধ্যেই এই পাইলট প্রকল্পটি সফলভাবে শেষ হবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়।
কেন এই উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ?
এই উদ্যোগটি কেবল পণ্য বিতরণ নয়, বরং শিশুদের মধ্যে সমতা এবং আত্মবিশ্বাস তৈরি করবে। যখন সব শিশু একই মানের জুতা ও ড্রেস পরে স্কুলে আসবে, তখন তাদের মধ্যে কোনো সামাজিক বৈষম্য থাকবে না। এটি প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার কমাতেও সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।




