রাজধানীর ফুটপাতগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে হকারদের লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এই নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।
পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের ফুটপাত দখলমুক্ত এবং পুনর্গঠনের লক্ষ্যে একটি পাইলট (পরীক্ষামূলক) প্রকল্প চালুর সময় তিনি এই ঘোষণা দেন। মূলত হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার প্রবেশপথ ও ফুটপাতগুলো সাধারণ মানুষের হাঁটার উপযোগী রাখাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
লাইসেন্স ও হকার ডাটাবেজ
প্রশাসক জানান, যত্রতত্র ব্যবসা করার পরিবর্তে হকারদের একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আনা হবে। এর আওতায় সরকার যা করবে:
- তালিকা প্রণয়ন: প্রকৃত হকারদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা ডাটাবেজ তৈরি করা হবে।
- নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ: যত্রতত্র বসে পথচারীদের চলাচলে বাধা দেওয়ার পরিবর্তে তাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ঠিক করে দেওয়া হবে।
- লাইসেন্স প্রদান: নিবন্ধিত হকারদের বৈধভাবে ব্যবসা করার জন্য সরকারি লাইসেন্স দেওয়া হবে।
পথচারীদের অগ্রাধিকার ও নগর শৃঙ্খলা
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নগরীর শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পথচারীদের অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। হকারদের জীবিকার কথা মাথায় রেখে তাদের উচ্ছেদ না করে বরং একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা হবে। এতে একদিকে যেমন যানজট ও ফুটপাতের বিশৃঙ্খলা কমবে, অন্যদিকে হকাররাও বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এই পদক্ষেপ সফল হলে রাজধানীর ফুটপাতগুলো আধুনিক ও জনবান্ধব রূপ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার আলোকে পরবর্তীতে পুরো ঢাকা শহরে এই মডেল কার্যকর করা হতে পারে।




