শুক্রবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৬

জোট রাজনীতিতে নতুন গতি, নির্বাচনী মাঠে স্পষ্ট দুই বলয়

বহুল পঠিত

মনোনয়ন জমার শেষ দিনে দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ঐক্য ও প্রতিযোগিতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন গতি ও দৃশ্যমান মেরুকরণ। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে এসে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছে- যেখানে জোট, সমঝোতা ও নির্বাচনী কৌশল হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো বলছে, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা বাড়লেও একই সঙ্গে সক্রিয় হয়েছে আলোচনা, সমন্বয় ও বৃহত্তর ঐক্যের চেষ্টা।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে সম্প্রসারণ, নতুন শক্তির সংযোজন

জাতীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের সম্প্রসারণকে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) যুক্ত হওয়ায় আগের ৮ দলীয় জোট রূপ নিয়েছে ১০ দলীয় সমঝোতায়।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এই জোটকে শুধু নির্বাচনী উদ্যোগ নয়, বরং ‘দেশ গঠনের ও রাজনৈতিক ঐক্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষায়, ভবিষ্যতে জাতীয় স্বার্থ, গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায্য দাবিতে এই জোট একসঙ্গে পথ চলবে।

এনসিপির সিদ্ধান্তে অভ্যন্তরীণ আলোচনা, গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতিফলন

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে এনসিপির ভেতরে ভিন্নমত দেখা গেলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দলীয় গণতন্ত্রেরই একটি প্রকাশ। কেউ কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নিজস্ব পথ বেছে নিচ্ছেন, যা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সুষ্ঠু নির্বাচন, সংস্কার ও ন্যায়বিচারের লক্ষ্যেই এই সমঝোতা করা হয়েছে। তার মতে, এটি কোনো আদর্শিক একীভবন নয়, বরং সময়ের প্রয়োজনে একটি নির্বাচনী সমন্বয়।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বৃহৎ বলয়ে বিস্তৃত সমন্বয়

অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বলয়। সরাসরি ও পরোক্ষ সমঝোতায় প্রায় অর্ধশতাধিক দল বিএনপির পাশে রয়েছে। বিএনপি ইতোমধ্যে ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং বাকি আসনগুলো শরিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছে।

এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক ঐক্যের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক, যেখানে ভিন্ন দল ও মত একত্রে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।

শেষ মুহূর্তে প্রার্থী পুনর্বিন্যাস, মাঠপর্যায়ের মতামতের প্রতিফলন

মনোনয়ন জমার শেষ সময়ে বিএনপিতে কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হয়েছে। দলীয় কোন্দল, তৃণমূলের মতামত ও জোট সমঝোতার ভিত্তিতে নেওয়া এসব সিদ্ধান্তকে দলীয় বাস্তবতা ও মাঠপর্যায়ের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।

দলীয় সূত্র বলছে, যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জয়ের সম্ভাবনা বিবেচনায় এনে এই পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে শেষ সময় পর্যন্ত তালিকায় পরিবর্তন হতে পারে।

নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় সক্রিয় রাজনীতি, প্রত্যাশা সুষ্ঠু ভোটের

সব মিলিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতি এখন প্রাণবন্ত ও সক্রিয়। জোট, সমঝোতা ও প্রার্থী চূড়ান্তকরণের মধ্য দিয়ে দলগুলো তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও কৌশল স্পষ্ট করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ যদি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে।

আরো পড়ুন

জুলাই বিপ্লবের বীরদের জন্য আসছে ঐতিহাসিক ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’!

ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার কারিগরদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে সরকার একটি বিশেষ ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ (Indemnity Ordinance) প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।

রাজধানীতে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’: ১২০০ যোদ্ধা ও সাংবাদিককে বিশেষ স্মারক প্রদান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা এবং আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য 'জুলাই বীর সম্মাননা' অনুষ্ঠান। আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ঐতিহাসিক ফেলানী হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং সাহসী সাংবাদিকদের বিশেষ সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ড. ইউনূসের ডাক: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান

একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্তের অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ইউনূস। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সম্ভাব্য গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। ড. ইউনূসের মতে, এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র সংস্কারের এক বড় সুযোগ।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ