মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে ইরাকের আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি ছেড়ে চলে গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নেতৃত্বাধীন মিত্র বাহিনীর সেনারা। দীর্ঘদিন পর ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন ইরাকের সেনাবাহিনীর হাতে।
শনিবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এই ঘাঁটিটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে ২০২০ সালে, যখন ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি হত্যার জবাবে ইরান এখানে একের পর এক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সেই হামলায় ঘাঁটির বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখানে অবস্থানরত বহু মার্কিন সেনা মানসিকভাবে গুরুতরভাবে প্রভাবিত হন।
এরপর দীর্ঘ আলোচনা ও কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে ২০২৪ সালে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের চুক্তি হয়। সেই চুক্তির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এবার আল-আসাদ ঘাঁটি ছাড়ল মার্কিন বাহিনী।
ইরাকি সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে কেবল অল্প কয়েকজন মার্কিন সদস্য সাময়িকভাবে ঘাঁটিতে রয়েছেন। তারা শুধুমাত্র লজিস্টিক ও কারিগরি কিছু কাজ শেষ করছেন। কাজ সম্পন্ন হলেই তারাও দেশ ছাড়বেন।
নিরাপত্তার কারণে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ না করা হলেও আগে ধারণা দেওয়া হয়েছিল, ২০২৫ সালের মধ্যেই শত শত সেনা প্রত্যাহার হবে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে ঘাঁটি পুরোপুরি খালি করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আল-আসাদ ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক আত্মনির্ভরতার পথে একটি বড় অর্জন। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ইরাকের জনগণের জন্য এটি শুধু একটি ঘাঁটির হস্তান্তর নয়—বরং দীর্ঘ সংঘাত ও বিদেশি নির্ভরতার অধ্যায় পেরিয়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক নতুন বার্তা।
সুত্র: রয়টার্স





