দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরেছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিন পর গণতান্ত্রিক চর্চায় অংশ নিতে প্রস্তুত জবিয়ানরা।
সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ
নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান জানিয়েছিলেন, ভোটগ্রহণের আগের রাতে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। সেই অনুযায়ী চলছে ভোট গ্রহন।
ভোট শেষ হওয়ার পর ডিজিটাল ওএমআর (Optical Mark Reader) মেশিনের মাধ্যমে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে ভোট গণনা করা হবে।
কঠোর নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রিত ক্যাম্পাস
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুরো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে কঠোর নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।
- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
- প্রক্টরিয়াল বডি
- বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট
সবাই মিলিয়ে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া ক্যাম্পাসের আশপাশ এলাকায় সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল আহমেদ বলেন,
“নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। ক্যাম্পাস ও আশপাশে বিশেষ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।”
কেন্দ্রীয় ও হল সংসদে লড়াই জমজমাট
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী-
কেন্দ্রীয় সংসদে:
- মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে ৪ জন
- শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ৯ জন
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৫ জন
- সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫৭ জন
ছাত্রী হল সংসদে:
- ১৩টি পদের বিপরীতে ৩৩ জন প্রার্থী
সব মিলিয়ে মোট ৩৪টি পদে ১৯০ জন প্রার্থী নির্বাচনে লড়ছেন।
এর মধ্যে
- কেন্দ্রীয় সংসদে ১৫৭ জন
- হল সংসদে ৩৩ জন
প্রার্থী প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন– যা জকসু নির্বাচনের ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের পূর্ণ প্রস্তুতি
জকসু নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা-
- কেন্দ্রীয় সংসদে: ১৬,৭৩৫ জন
- হল সংসদে: ১,২৪৭ জন
ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে-
- কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি কেন্দ্র
- হল সংসদের জন্য ১টি কেন্দ্র
প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে ভোটগ্রহণ বুথ রয়েছে।
প্রশাসনের দৃঢ় বার্তা: নির্বাচন বন্ধের সুযোগ নেই
জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন,
“নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন বানচাল বা বন্ধ করার আর কোনো সুযোগ নেই।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বলেন,
“প্রশাসন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আশাবাদী।”
কেন পিছিয়েছিল নির্বাচন
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে নতুন তারিখ হিসেবে ৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।
Goodnews Bangladesh বিশ্লেষণ
দীর্ঘদিন পর জকসু নির্বাচন শুধু একটি ভোট নয়- এটি শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার একটি বড় মুহূর্ত। স্বচ্ছ ভোট, আধুনিক গণনা পদ্ধতি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এই নির্বাচন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করতে যাচ্ছে।