“লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” হল ইসলামিক জিকিরের অন্যতম শক্তিশালী বাক্য।
এটি অর্থাৎ: “শক্তি বা ক্ষমতা কোনো কিছুতে নেই, কেবলমাত্র আল্লাহর দ্বারা।”
নিয়মিত এই জিকির পাঠ করলে ব্যক্তির জীবনে মনোবল বৃদ্ধি, বিপদ থেকে নিরাপত্তা, মানসিক শান্তি এবং নেকি অর্জন হয়।
লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ – আরবি ও বাংলা অর্থ
আরবি বাক্য
لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
বাংলা উচ্চারণ
“লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”
বাংলা অর্থ
“আল্লাহ ব্যতীত অনিষ্ট দূর করার এবং কল্যাণ লাভের কোন শক্তি কারো নেই”
লা হাওলা পাঠের ফজিলত ও সওয়াব
১. আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা ও নির্ভরতা
পাঠের মাধ্যমে বোঝা যায়, সবকিছু আল্লাহর হাতে।
জীবনের প্রতিটি সমস্যা বা সংকটের মুহূর্তে এই জিকির মানুষকে শেখায় আল্লাহর উপর নির্ভরতা স্থাপন করতে। হতাশা ও হতাশ্রয়তা দূর হয় এবং জীবনের প্রতিটি কাজ আল্লাহর ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেওয়া সহজ হয়।
২. বিপদ ও দুর্যোগ থেকে নিরাপত্তা
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শত্রুর আক্রমণ, অপ্রত্যাশিত ক্ষতি বা বিপদ থেকে রক্ষা পেতে এই জিকিরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
৩. মানসিক শান্তি ও মনোবল বৃদ্ধি
হতাশা ও চিন্তাভাবনা দূর হয়, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।
নিয়মিত লা হাওলা পাঠে মানসিক চাপ হ্রাস পায়, মনোবল বৃদ্ধি পায় এবং মানুষ জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শক্তিশালী হয়।
৪. নেকি ও সওয়াবের পাল্লা ভারী হয়
সহীহ হাদিস অনুযায়ী, প্রতিটি পাঠ নেকি হিসাব হয়।
মৃত্যুর আগে এই জিকির রুহের জন্য শান্তি এবং আল্লাহর নৈকট্য বৃদ্ধি করে। নিয়মিত পাঠ করলে অন্তহীন সওয়াব অর্জন সম্ভব।
৫. দৈনন্দিন জীবনে সহজ ও কার্যকর
যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে পাঠ করা যায়।
বিশেষ করে বিপদ, কষ্ট, উদ্বেগ বা ভয় লাগার সময় পাঠ করলে এটি বেশি কার্যকর হয়। দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে এই জিকির অন্তর্ভুক্ত করলে সহজেই আল্লাহর সাহায্য ও সওয়াব পাওয়া যায়।
সাফওয়ান ইবনু সুলাইম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ফেরেশতাই “লা- হাওলা ওয়ালা কু-ওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” পাঠ না করে উর্ধ্বাকাশের দিকে গমন করেন না।
লা হাওলা পাঠের হাদিস
১. আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন:
“হে আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস! আমি কি তোমাকে এমন এক বাক্যের সন্ধান দিবো না, যা জান্নাতের ভান্ডারসমূহের অন্তর্ভুক্ত?”
আমি বললাম: হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ!
তিনি বললেন: ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’।”
- সহীহ বুখারী ৪২০৫
- মুসলিম ২৭০৪
- তিরমিযী ৩৩৭৪, ২৪৬১
- আবূ দাউদ ১৫২৬
- আহমাদ ১৯০২৬, ১৯১০২, ১৯১৫১, ১৯২৪৬, ১৯২৫৬
- রাওদুন নাদীর ১০৪১
- তাহকীক আলবানী: সহীহ
২. আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন:
“আমি কি তোমাকে জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের একটির সন্ধান দিবো না?”
আমি বললাম: হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ।
তিনি বলেন: ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’।”
হাদিসের উৎস:
- আহমাদ ২০৮২৯, ২০৮৪২, ২০৮৭৯
- রাওদুন নাদীর ১০৪১
- আত-তালীকুর রাগীব ২/২৫৬
- তাহকীক আলবানী: সহীহ
লা হাওলা বাক্য সম্পর্কিত প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. “লা হাওলা ওলা কুআতা ইল্লা বিল্লাহিল” এর অর্থ কী?
উত্তর:
“ক্ষমতা বা শক্তি কোনো কিছুর উপর নেই, সবই আল্লাহর দ্বারা।”
এটি বোঝায় যে মানুষ নিজে কিছু করতে পারলেও সবই আল্লাহর সাহায্য ও ইচ্ছা অনুযায়ী সম্ভব।
২. আস্তাগফিরুল্লাহ হাল্লাজি লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ এর অর্থ কী?
উত্তর:
‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং জানি কোনো শক্তি নেই, সবই আল্লাহর দ্বারা।’
এটি একসাথে ইস্তেগফার ও সব শক্তি আল্লাহর ওপর নির্ভরতা প্রকাশ করে।
৩. “ইল্লা বিল্লাহ” এর অর্থ কী?
উত্তর:
“শুধু আল্লাহ ছাড়া নয়।”
অর্থাৎ সব কিছু আল্লাহর হাতে, কোনো শক্তি বা ক্ষমতা মানুষের নিজস্ব নয়।
৪. লা হাওলা মানে কী?
উত্তর:
“শক্তি বা ক্ষমতা নেই।”
এটি আমাদের বোঝায় যে মানুষ নিজের ক্ষমতায় সব কিছু করতে পারে না, সবই আল্লাহর ইচ্ছা ও শক্তি অনুযায়ী।
৫. ইস্তেগফারের দোয়া কী কী?
উত্তর:
প্রচলিত ইস্তেগফারের দোয়া:
- “আস্তাগফিরুল্লাহ” (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই)
- “আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি” (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছে তওবা করছি)
- “রাব্বিগফিরলি” (হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা কর)
৬. আল্লাহুম্মাগফিরলি এর অর্থ কী?
উত্তর:
“হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা কর।”
এটি ইস্তেগফারের একটি সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি আকার।
৭. আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি এর অর্থ কী?
উত্তর:
“আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে তওবা করছি।”
এটি সেরা ইস্তেগফার যা নেকি অর্জন ও গুনাহ মাফের জন্য পাঠ করা হয়।
৮. আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার ফজিলত কী?
উত্তর:
- গুনাহ মাফ হয়
- আল্লাহর নৈকট্য বৃদ্ধি পায়
- মানসিক শান্তি ও আত্মার প্রশান্তি আসে
- বিপদ ও কষ্ট থেকে রক্ষা করে
- নেকি ও সওয়াবের পাল্লা ভারী হয়
৯. “রাব্বিগফিরলি” এর অর্থ কী?
উত্তর:
“হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা কর।”
নেকি অর্জন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সরাসরি বাক্য।
১০. ইস্তেগফারের অর্থ কী?
উত্তর:
ইস্তেগফার মানে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
এটি আমাদের গুনাহ মাফ করাতে, নেকি অর্জন করতে এবং আল্লাহর কাছে নৈকট্য বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
১. আল্লাহর নৈকট্যের চাবিকাঠি: রাসুল (সা.)-এর নামাজ-পরবর্তী দোয়া ও যিকর
২. ঘুমানোর দোয়া বাংলায়: উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
৩. দোয়া মাসুরা বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ : একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড
৪. তাশাহুদ কি? এর বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, পড়ার নিয়ম ও ফজিলত সহ সম্পূর্ণ গাইড
৫. জানাজার নামাজের দোয়া ও ফজিলত
৬. কবর জিয়ারতের দোয়া ও নিয়ম | কবর জিয়ারতের সঠিক নিয়ম ও ফজিলত