বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ–এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেছেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান দেশের ভেতরে একটি সচেতন, সাহসী ও দেশপ্রেমিক তরুণ প্রজন্ম তৈরি করেছে- যারা আর কোনো বিদেশি স্বার্থের প্রতিনিধিকে ক্ষমতায় যেতে দেবে না, এমনকি ক্ষমতায় থাকতেও দেবে না।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে কালচারাল রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা আয়োজিত আলোচনা সভা “নজরুল ইসলাম থেকে হাদি: আজাদীর লড়াই” শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই আন্দোলনে জন্ম নিয়েছে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা
মাহমুদুর রহমান বলেন,
“জুলাই শুধু একটি মাস নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট। এই জুলাই বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছে, আমাদের রাজনীতির চিন্তাধারাকে বদলে দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, এখন রাজনীতির পুরনো তত্ত্ব আর চলবে না।
“নতুন থিওরি হবে- ভারত যাকে সমর্থন করবে, তাকে ভোট দেওয়া যাবে না; ভারত যাকে সমর্থন করবে, তাকে ক্ষমতায়ও রাখা যাবে না।”
তার মতে, তরুণ সমাজ আর বিদেশ নির্ভর নেতৃত্ব মেনে নেবে না এবং এটাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সবচেয়ে বড় শক্তি।
ওসমান হাদি ছিলেন সাংস্কৃতিক সংগ্রামের প্রতীক
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির কথা উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, হাদি বুঝতে পেরেছিলেন যে বাংলাদেশের প্রকৃত লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক ও পরিচয়ের লড়াই।
“আমরা একটি ছোট দেশ, কিন্তু জনসংখ্যায় বিশাল এবং চারপাশে বৈরি প্রতিবেশী দ্বারা বেষ্টিত। টিকে থাকতে হলে আমাদের সাংস্কৃতিক শক্তিকে জাগ্রত রাখতে হবে,” বলেন তিনি।
তিনি হাদির স্বপ্নের কথা তুলে ধরে বলেন, একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলাই ছিল তার আজীবনের লক্ষ্য। ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার টিকে থাকলে হাদির আত্মা শান্তি পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
“হাদির হত্যাকারীদের খুঁজতে দূরে যেতে হবে না”
মাহমুদুর রহমান বলেন, হাদি নিজ লেখায় সীমান্তের অশুভ শক্তির কথা উল্লেখ করেছিলেন।
“কারা তাকে হত্যা করেছে, তা বুঝতে আমাদের খুব বেশি দূরে তাকাতে হবে না,”- ইঙ্গিতে বলেন তিনি।
জুলাই বিপ্লব দিয়েছে নতুন আইকন
তিনি বলেন,
“এই বিপ্লব আমাদের আবু সাঈদ, ইয়ামিনসহ অনেক তরুণ বীর উপহার দিয়েছে। আর আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন ওসমান হাদিকে- একজন নতুন যুগের প্রতীক হিসেবে।”
বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন হাদির আদর্শ টিকে থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনীতিবিদদের প্রতি কড়া বার্তা
রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে মাহমুদুর রহমান বলেন, নির্বাচন হবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে—এটাই গণতন্ত্র। কিন্তু কেউ যেন স্বাধীনতা নিয়ে বাণিজ্য না করে।
তিনি বলেন,
“কিছু রাজনীতিবিদের মধ্যে একটি হীনমন্যতা কাজ করে- তারা মনে করেন ভারতের সমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়া যায় না, টিকেও থাকা যায় না। এটা সম্পূর্ণ ভুল।”
তিনি শেখ হাসিনার উদাহরণ টেনে বলেন, ভারতের সমর্থন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে।
নজরুল ও হাদির মিল খুঁজে পেলেন বক্তারা
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম যেমন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কণ্ঠস্বর ছিলেন, তেমনি হাদি ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের প্রতীক।
তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে নজরুলের কবিতা ও গান তরুণদের অনুপ্রাণিত করেছে, আর হাদি সেই বিদ্রোহকে বাস্তব রূপ দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কালচারাল রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক এমদাদুল হক চৌধুরী। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শহীদ হাদির বড় ভাই শরীফ ওমর বিন হাদি এবং কবি কাজী আবু জাফরসহ আরও অনেকে। নজরুল ও হাদির বিদ্রোহী কবিতা পাঠ করা হয় অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে।
সুত্র: আমার দেশ




