দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! অবশেষে সাতক্ষীরাবাসীর বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা সাতক্ষীরা এখন আর ‘বি’ ক্যাটাগরির জেলা নয়, বরং সরকারিভাবে সাতক্ষীরা জেলা এ ক্যাটাগরি-তে উন্নীত হয়েছে। প্রশাসনিক মর্যাদা বৃদ্ধির এই খবরে জেলাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ।
এই ঐতিহাসিক অর্জনের পেছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী, তিনি হলেন সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান ও বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ। জেলার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছায় সিক্ত করছেন।
কেন সাতক্ষীরা জেলা এ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হলো?
বাংলাদেশের জেলাগুলোকে মূলত তাদের আয়তন, জনসংখ্যা, ভৌগোলিক গুরুত্ব এবং রাজস্ব আয়ের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। সাতক্ষীরা জেলা এতদিন ‘বি’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে এই জেলার গুরুত্ব অপরিসীম।
- অর্থনৈতিক গুরুত্ব: সাতক্ষীরাকে বলা হয় সাদা সোনা বা চিংড়ির রাজধানী। এছাড়াও এখানকার আম, সুন্দরবনের মধু এবং মৎস্য সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে।
- ভৌগোলিক অবস্থান: সুন্দরবন সংলগ্ন এবং ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এর পর্যটন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা অনেক বেশি।
এসব বিষয় বিবেচনা করেই সরকারকে এই জেলাকে ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, যা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।
জেলা ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হলে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?
সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে, একটি জেলা ‘বি’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে গেলে সাধারণ মানুষের কী লাভ? সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এর মাধ্যমে সাতক্ষীরা এখন জাতীয় পর্যায়ে ভিআইপি মর্যাদা পাবে। নিচে প্রধান সুবিধাগুলো তুলে ধরা হলো:
- উন্নয়ন বাজেটে অগ্রাধিকার: ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলা হওয়ার ফলে এখন থেকে সাতক্ষীরা সরকারি উন্নয়ন বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকার পাবে। রাস্তাঘাট, ব্রিজ এবং বড় অবকাঠামো নির্মাণে অর্থের বরাদ্দ আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
- প্রশাসনিক ক্ষমতা ও জনবল বৃদ্ধি: জেলা প্রশাসক (DC) এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়বে। সরকারি অফিসগুলোতে জনবল বা লোকবল বাড়ানো হবে, যার ফলে সাধারণ মানুষ সরকারি সেবাগুলো (যেমন- পাসপোর্ট, জমি রেজিস্ট্রি, এনআইডি সেবা) আরও দ্রুত ও সহজে পাবেন।
- আবাসন ও নাগরিক সুবিধা: সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য উন্নত আবাসন এবং জেলার সার্বিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পথ সুগম হবে।
- জাতীয় মর্যাদা: প্রশাসনিকভাবে জেলার গুরুত্ব বাড়ার ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং বড় প্রকল্পগুলো এই জেলায় নিয়ে আসা সহজ হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
সাতক্ষীরার এই অর্জনের মুহূর্তে সবার মুখে মুখে এখন একটাই নাম মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ। তিনি এই জেলারই সন্তান। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সাতক্ষীরার একজন যোগ্য প্রতিনিধি থাকায় এই জটিল কাজটি সহজ হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার চায়ের আড্ডা, সবখানেই তাকে নিয়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের মতে, তার সুদক্ষ নেতৃত্ব এবং নিজ জেলার প্রতি ভালোবাসার কারণেই সাতক্ষীরা আজ এই সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে। বিভিন্ন সংগঠন ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়ে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছে।
আগামীর সাতক্ষীরা নিয়ে প্রত্যাশা
শুধুমাত্র কাগজে-কলমে ক্যাটাগরি পরিবর্তন নয়, সাতক্ষীরাবাসী এখন বাস্তবে এর সুফল দেখতে চায়। জেলার সচেতন মহলের প্রত্যাশা অনেক:
- ভোমরা স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন: আমদানি-রপ্তানি বাড়াতে এই বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
- জলাবদ্ধতা নিরসন: বর্ষাকালে সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। বড় বাজেটের মাধ্যমে এর স্থায়ী সমাধান আশা করছেন সবাই।
- টেকসই বেড়িবাঁধ: উপকূলীয় মানুষের সুরক্ষায় টেকসই বাঁধ নির্মাণে এখন গতি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একজন স্থানীয় সমাজকর্মী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এতদিন কিছুটা অবহেলিত ছিলাম। আমাদের জেলা এ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হওয়ায় আমরা গর্বিত। আশা করি, এবার সাতক্ষীরার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জীবনমানে আমূল পরিবর্তন আসবে।”
সাতক্ষীরা জেলার এই নতুন যাত্রা যেন উন্নয়নের মডেলে পরিণত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদের হাত ধরে সাতক্ষীরা এগিয়ে যাক সমৃদ্ধির পথে এটাই এখন সবার কামনা।




