দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ শাকসু নির্বাচন ২০২৬ । নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের মধ্য দিয়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বহুল কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনী যাত্রা।
নির্বাচনকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাস এখন যেন এক টুকরো উৎসবের নগরী। শিক্ষার্থীদের পদচারণা, পোস্টার-লিফলেট, স্লোগান আর প্রার্থীদের প্রাণবন্ত প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সড়ক, হল ও চত্বর।
ভোটের মাঠে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ
গত কয়েক দিন ধরে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রার্থীরা দলবেঁধে শিক্ষার্থীদের কক্ষে কক্ষে, আড্ডাস্থলে ও ক্যাফেটেরিয়ায় গিয়ে কথা বলছেন। শিক্ষার্থীদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও স্বপ্নের কথা শুনে তুলে ধরছেন নিজেদের পরিকল্পনার রূপরেখা।
এই নির্বাচনী উন্মাদনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ফিরিয়ে এনেছে দীর্ঘদিনের হারিয়ে যাওয়া আগ্রহ। অনেকেই বলছেন, “শাকসু নির্বাচন শুধু ভোট নয়, এটা আমাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াই।”
শাকসু নির্বাচন ২০২৬: শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে প্রত্যাশার প্রতিধ্বনি
শিক্ষার্থীদের বড় অংশ মনে করছেন, নিয়মিত ছাত্র সংসদ থাকলে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী হবে, প্রশাসনের কাছে যৌক্তিক দাবি তুলে ধরার একটি শক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে।
অনেকে আবার বলছেন, এমন উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করার জন্য হলেও প্রতি বছর শাকসু নির্বাচন হওয়া জরুরি।
তিন প্যানেল, এক লক্ষ্য- শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব
এবারের শাকসু নির্বাচনে মাঠে রয়েছে তিনটি প্রধান প্যানেল:
- ছাত্রদল সমর্থিত “সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য”
- শিবির সমর্থিত “দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য”
- সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত “সাধারণের ঐক্যস্বর”
এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে লড়ছেন একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীও।
প্রার্থীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে আন্দোলন-সংগ্রাম, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি কার্যকর ছাত্র সংসদ গড়ার অঙ্গীকার।
হল সংসদ নির্বাচনেও ব্যাপক সাড়া
কেন্দ্রীয় সংসদের পাশাপাশি হল সংসদ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে একই দিনে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোট নিশ্চিত করতে হল সংসদের প্রার্থীরাও জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে অংশগ্রহণমূলক একটি গণতান্ত্রিক আবহ তৈরি হয়েছে।
সংখ্যায় সংখ্যায় শাকসু নির্বাচন
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী:
- মোট প্রার্থী: ৯৭ জন
- ভিপি পদে: ৪ জন
- জিএস পদে: ৭ জন
- এজিএস পদে: ৪ জন
- নারী প্রার্থী: ৩ জন (ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক পদ বাদে)
গণতন্ত্রের পথে নতুন সূচনা
দীর্ঘ বিরতির পর শাকসু নির্বাচন শুধু একটি ছাত্র সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া নয়- এটি শাবিপ্রবিতে গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রতীক।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাই আশা করছেন, এই নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক এবং ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরির এক উজ্জ্বল মাইলফলক।
সুত্র: আমার দেশ





